আশাশুনির নওয়াপাড়ায় বেতনা নদীর ভেড়ী বাঁধে ভয়াবহ ফাটল পরিদর্শনে ইউএনও
জি এম মুজিবুর রহমান, আশাশুনি (সাতক্ষীরা) ঃ আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামে বেতনা নদীর ভেড়ী বাঁধে ভয়াবহ ফাটল ও দীর্ঘ ভাঙ্গনে বাঁধটি চরম হুমকীগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন না করা হলে যেকোন মুহুর্তে বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও আঃ আলিম ভাঙ্গনস্থান পরিদর্শন করেছেন।
নদীটিতে দীর্ঘকাল নওয়াপাড়া অংশে ভাঙ্গন চলে আসছিল। ভাঙতে ভাঙতে নওয়াপাড়া গ্রামের অসংখ্য ঘরবাড়ি, জমি নদী গর্ভে বিধ্বস্থ হয়েছে। ফলে এপারের জমি অপর পাড়ে গিয়ে উঠেছে। নদী খননের সময় ভরাট হওয়া স্থান পুরোপুরি না নিলেও আংশিক বেড় দিয়ে খনন কাজ করা হচ্ছিল। বর্ষাকাল এসে পড়ায় খননকাজের জন্য নদীতে দেওয়া আড়াআড়ি মাটির বাঁধ ছুটিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু নদী খননের জন্য নির্বাচিত এলাকার বাঁধ না ছুটিয়ে ভাঙ্গনকূল নওয়াপাড়ার অংশে বাঁধ ছুটানোর ফলে নওয়াপাড়ার পাড়েই নদী গর্ত হয়ে যায়। পরবর্তীতে খননের সময় অপর পাড়ে যেনতেন ভাবে খননকাজ শুরু করা হলেও শেষ করা হয়নি। ফলে নওয়াপাড়ার অংশই এখন নদীতে পরিণত হয়েছে। অপর পাড়ে ভরাট থাকায় নদীর স্রোত সরাসরি নওয়াপাড়ার বাঁধে আছড়ে পড়ায় তীর ভাঙ্গা শুরু হয় এবং বর্তমানে ২/৩ শত হাত ভেড়ী বাঁধের নিচের অংশ নদীতে চলে গিয়ে মূল বাঁধকে স্পর্শ করেছে। এছাড়া প্রায় ১০০ হাত এলাকায় মূল বাঁধের বড় অংশে ভয়াবহ ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি নিয়ত ফাটল বড় হচ্ছে। দ্রুত রক্ষার ব্যবস্থা না করলে যেকোন মুহুর্তে বাঁধটি ভেঙ্গে যেতে পারে।
শুক্রবার (১৬ জুলাই) বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু, পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও আঃ আলিম ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় উপজেলা যুব দলের সদস্য সচিব ও বুধহাটা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু জাহিদ সোহাগ ও জজ কোর্টের এপিপি, উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও বুধহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী এড. শহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় আলহাজ্ব আঃ কুদ্দুছ, তারিকুল ইসলাম, হাসান ইকবাল মামুন, খোকন ঢালী, মোশাররফ, গোলাম হোসেন, ছাবুল হোসেন, খোকন মোড়লসহ এলাকাবাসী জানান, বাঁধের অবস্থা মোটেই ভাল নয়। ফাটল বড় হতে হতে ১০০ হাত এলাকার মূল বাঁধের মাটি ধ্বস নিয়েছে। এ ধ্বস নদীতে পড়লে বাঁধটি ছুটে যাবে। বাঁধ রক্ষা না করা গেলে বুধহাটা ইউনিয়ন, ফিংড়ী, ব্রহ্মরাজপুর ও ধুলিহর ইউনিয়নের শত শত গ্রাম, হাজার হাজার বিঘা ফসলী জমি, মৎস্য ঘের ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পাউবোর এসও উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন, বাঁধের ভাঙ্গন অবস্থা ভিডিও কলের মাধ্যমে দেখিয়ে বিস্তারিত অবহিত করেন। বাঁধ রক্ষায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে বলে এসও জানান। ইউএনও ডিসি স্যারকে বিষয়টি অবহিত করবেন এবং পাউবো কর্মকর্তাদেরকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেন।
ইউএনও ও পাউবোর এসও পরে বুধহাটা বাজারে খেয়াঘাটের কাছে ভাঙ্গনস্থান দেখতে যান। ভাঙ্গন রোধে ২/৩ দিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে কর্মকর্তাদ্বয় উপস্থিত জনতাকে আশ্বস্থ করেন। এসময় উপজেলা যুব দলের সদস্য সচিব আবু জাহিদ সোহাগ ও জামায়াত নেতা ও জজ কোর্টের এপিপি এড. শহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সম্পর্কিত সংবাদ
আশাশুনির বাঁশদহা নদীতে এমপির বরাদ্দে কাঠের সেতু নির্মান
জি এম মুজিবুর রহমান, আশাশুনি ( সাতক্ষীরা) ঃ দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আশাশুনি উপজেলার শোভনালীবিস্তারিত…
আশাশুনির বুধহাটায় ১৫ দিনের বৃক্ষ মেলা উদ্বোধন
জি এম মুজিবুর রহমান, আশাশুনি (সাতক্ষীরা) ঃ আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা সুন্দরবন টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্টবিস্তারিত…


