গণধর্ষকদের গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তায় গণধর্ষণের বিচারহীনতা মানা হবে না

রাজশাহী, ০৪ আগস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার :
লক্ষ্ণীপুরের কমলনগরে কর্মজীবী তরুণীকে চেতনানাশক স্প্রে করে অপহরণপূর্বক সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ধারণকৃত ভিডিও চিত্র ছড়িয়ে দেওয়ার ব্ল্যাকমেইলিং এবং ফরিদপুরের সদরপুরে বসতঘরের জানালা ভেঙে কিশোরী স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের বর্বর ঘটনায় নজিরবিহীন প্রশাসনিক স্থবিরতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ, গভীর উদ্বেগ ও চরম প্রতিবাদ জানিয়েছে উন্নয়ন গবেষণাধর্মী যুব সংগঠন ‘ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ – ইয়্যাস’ এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয়’।

মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে কমলনগরে সুনির্দিষ্ট মামলা দায়েরের ৬ দিন অতিবাহিত হলেও চিহ্নিত অপরাধীরা গ্রেপ্তার না হওয়া এবং সদরপুরে ‘কিশোর গ্যাং’ ও মাদকাসক্ত চক্রান্তকারীদের তাণ্ডবে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার চরম অবনতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে সর্বসম্মতভাবে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

এই যৌথ প্রতিবাদ বিবৃতিতে স্বাক্ষর ও গভীর সংহতি প্রকাশ করেছেন ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ – ইয়্যাস-এর সভাপতি, বিশিষ্ট লেখক, উন্নয়ন ও অধিকারকর্মী মো. শামীউল আলীম শাওন, ইয়্যাস-এর সহসভাপতি নারী উন্নয়নকর্মী মোসা. ফাতেমা আলী মেঘলা, ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয়ের সাধারণ সম্পাদক সাংস্কৃতিককর্মী মো. রবিন শেখ এবং সংগঠনটির নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক নৃত্যশিল্পী ইফফাত আরা মমি। যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অভিমত ব্যক্ত করেন যে, আইনের কার্যকর প্রয়োগে শৈথিল্য এবং অপরাধের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা রাষ্ট্রীয় সুরক্ষাবলয় ও মৌলিক মানবাধিকার ব্যবস্থার চরম ধসকে উন্মোচিত করে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দুর্বলতা তুলে ধরে অপরাধী যেই হোক না কেন, তার একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী। বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি সমাজে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে, তা ভাঙতে পুলিশ ও বিচার বিভাগকে অবিলম্বে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে বলে উল্লেখ করে ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ – ইয়্যাস-এর সভাপতি ও বিশিষ্ট লেখক, উন্নয়ন ও অধিকারকর্মী মো. শামীউল আলীম শাওন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “নারীর ওপর এই পাশবিক সহিংসতা কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো আইনি ব্যত্যয় নয়; এটি আমাদের সামাজিক মূলবোধের অবক্ষয় এবং প্রশাসনিক দায়বদ্ধতাহীনতার এক আশঙ্কাজনক দৃষ্টান্ত। কমলনগরে ঘটনার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও প্রধান অপরাধীরা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে, যা নিছক শারীরিক নির্যাতন নয়-এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার পরিপন্থী একটি প্রযুক্তিনির্ভর মনস্তাত্ত্বিক সন্ত্রাস (Cyber Terrorism)। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে নাগরিকের জীবন, স্বাধীনতা ও আইনের সমান আশ্রয় লাভের যে অলঙ্ঘনীয় মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, তা আজ সংঘবদ্ধ অপরাধীদের স্পর্ধার কাছে জিম্মি হতে পারে না। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সিডও (CEDAW) সনদে অনুস্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হিসেবে নাগরিক সুরক্ষায় রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা অনস্বীকার্য। কমলনগরে পুলিশের দীর্ঘসূত্রতা ও রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা ভুক্তভোগী পরিবারকে বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে ফের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মাধ্যমে নিপীড়নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। স্পষ্ট শব্দে জানাতে চাই- অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে মানবতাবিরোধী। অবিলম্বে এই গ্যাং-কালচার, সাইবার ব্ল্যাকমেইলিং ও মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) নীতিতে দৃশ্যমান প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”

বিবৃতিতে মোসা. ফাতেমা আলী মেঘলা, মো. রবিন শেখ এবং ইফফাত আরা মমি যৌথভাবে যোগ করেন যে, অপশক্তি ও স্থানীয় প্রশ্রয়ে এলাকাভিত্তিক ‘কিশোর গ্যাং’ ও মাদকের সিন্ডিকেট নাগরিক জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। অবিলম্বে কমলনগরের মূল অভিযুক্ত রবিন ও রাকিবসহ জড়িত সমগ্র চক্র এবং সদরপুরের ঘটনায় পলাতক আসামিদের আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার কঠোর দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে ধর্ষণের সময় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ যাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়াতে না পারে, সে জন্য বিটিআরসির সাইবার সিকিউরিটি উইং ও সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে জরুরি প্রযুক্তিগত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ দেওয়া হয়। কমলনগরে ৬ দিনেও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার গাফিলতি খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি ভুক্তভোগী তরুণী ও কিশোরীর চিকিৎসার সার্বিক ব্যয়ভার রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন, তাদের মানসিক সুস্থতার জন্য বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে ‘ট্রমা কেয়ার’ (Trauma Care) সেবা প্রদান এবং বিনামূল্যে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার জোর দাবি তোলা হয়। সর্বশেষে, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)’-এর আওতায় গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সময়াবদ্ধ প্রক্রিয়ায় (Time-bound trial) বিচার কাজ সম্পন্নকরণ এবং সামাজিক অপরাধের প্রধান অনুষঙ্গ মাদক, জুয়া ও কিশোর গ্যাং উচ্ছেদে অনতিবিলম্বে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।






সম্পর্কিত সংবাদ

  • সুন্দরবনে ৪৫০ কেজি কাঁকড়া ও ১৫০ কেজি মাছ সহ ২ জেলে আটক
  • কয়রায় জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল
  • বিআরটিএ ও ডামের উদ্যোগে ৬২০ গণপরিবহন চালককে প্রশিক্ষণ
  • সুন্দরবনে ফাঁদে আটকা পড়া হরিণ উদ্ধার সুস্থ করেই তা আবার বনেই অবমুক্ত
  • উখিয়ায় বিজিবি’র অভিযানে মালিকবিহীন ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার
  • বাংলাদেশি প্রেমিকাকে বিয়ে করা হলোনা চীনা যুবক
  • কুষ্টিয়ায় সড়ক দূর্ঘটনায় ট্রাক চালক নিহত, আহত ৩