হ্যালোইন উদযাপন সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?

প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হয় জনপ্রিয় উৎসব হ্যালোইন। এদিন শিশুরা ডাইনি, ভূত, কাল্পনিক বীরসহ বিভিন্ন চরিত্রের পোশাক পরে। পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে মিষ্টি ও চকলেট সংগ্রহ করে। অন্যদিকে বড়রা অংশ নেন হ্যালোইন পার্টিতে। উৎসবটির ব্যাপক প্রচলনের কারণে মুসলমানদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, ইসলামের দৃষ্টিতে হ্যালোইন উদযাপন কি হারাম?

অধিকাংশ আলেমের মতে, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে হ্যালোইন উদযাপন হারাম। উৎসবটির ইতিহাস ও উৎপত্তি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এটি প্রাচীন পৌত্তলিক ও খ্রিষ্টীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ঐতিহ্য। এর সূত্রপাত হয়েছিল সামহেইন নাইট থেকে। ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের কেল্টিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে এ উৎসবের মাধ্যমে শীতের সূচনা এবং নতুন বছরের প্রথম দিন উদযাপন করা হতো।

অধিকাংশ আলেমের মত হলো, মুসলমানদের অন্য ধর্মের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রীতিনীতিতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
মুসলমানেরা কি হ্যালোইন উদযাপন করতে পারেন?

না, এটি হারাম।

হ্যালোইনের প্রায় সব ঐতিহ্যের শিকড় প্রাচীন পৌত্তলিক সংস্কৃতি অথবা খ্রিষ্টীয় ঐতিহ্যের মধ্যে রয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে কোনো মুসলমান এতে অংশ নিলে তা মূর্তিপূজা বা শিরকের পর্যায়ে যেতে পারে। এ কারণে মুসলমানদের হ্যালোইন উদযাপনে অংশ নেওয়ার অনুমতি নেই। শয়তানের উপাসনার সঙ্গে সম্পর্কিত উৎসব উদযাপন করাও মুসলমানদের জন্য পাপ।

হ্যালোইনে মিষ্টি বিতরণ করা কি হারাম?
হ্যাঁ, ট্রিক অর ট্রিটের প্রচলন হারাম। এমনকি শুধু মিষ্টি বিতরণ করাকেও হারাম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ট্রিক অর ট্রিট হ্যালোইন উদযাপনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ রীতিতে শিশুরা প্রতিবেশীদের বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ে এবং ট্রিক অর ট্রিট বলে মিষ্টি বা চকলেট চায়।

আল্লাহ যে কাজকে সবচেয়ে বড় অন্যায় বলেছেন
প্রাচীন কেল্টিক উৎসবে শিশুদের ক্ষতিকর আত্মার হাত থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে তাদের অশুভ আত্মার মতো সাজানো হতো। অন্যদিকে, ছুটির দিনে খাবারের জন্য দরজায় দরজায় ঘুরে বেড়ানোর রীতিটি দরিদ্র পৌত্তলিকদের কাছ থেকে এসেছে, যারা উৎসবের দিনে খাবার চাইতেন।

ইসলামের কারো কাছ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করার চেয়ে দান করাকে উত্তম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই ভিক্ষা করা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। ট্রিক অর ট্রিটের রীতিতে খাবার বা মিষ্টি চাওয়ার বিষয়টি উৎসাহিত হয়। এ কারণেও আলেমেরা ট্রিক অর ট্রিটকে হ্যালোইনের একটি হারাম চর্চা হিসেবে বিবেচনা করেন।

তাই হ্যালোইন উদযাপনের সময় শুধু মিষ্টি বিতরণ করলেও মুসলমানদের এ রীতিতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

হ্যালোইনে বিশেষ পোশাক পরা কি হারাম?
হ্যাঁ, হ্যালোইনের জন্য বিশেষ পোশাক পরা ইসলামে অনুমোদিত নয়; এটি হারাম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, তারা তাদের মত হবে না, যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছিল অতঃপর যখন তাদের উপর দিয়ে দীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হল, তখন তাদের অন্তর শক্ত হয়ে গেল এবং (আজ) তাদের অধিকাংশই অবাধ্য। (সুরা হাদিদ, আয়াত: ১৬)।

অর্থাৎ, মুসলমানদের উচিত নয় অন্য ধর্মের ঐতিহ্য ও পোশাক-পরিচ্ছদকে ইসলামের মধ্যে প্রবেশ করতে দেওয়া।

যদিও কিছু মুসলমান মনে করেন, বর্তমান সময়ের হ্যালোইন আগের সময়ের চেয়ে আলাদা। তাদের মতে, এটি এখন নিছক আনন্দ-উৎসব, এর সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) অন্য সম্প্রদায়ের রীতিনীতি অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন।

হ্যালোইন পার্টিতে যাওয়া কি হারাম?
হ্যাঁ, অন্য ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত আয়োজনে অংশ নেওয়া হারাম। এর মধ্যে হ্যালোইন পার্টিতে যোগ দেওয়াও অন্তর্ভুক্ত।

রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন মদিনায় আগমন করেন, তখন সেখানকার বাসিন্দারা নওরোজ ও মিহরজান নামে দুটি উৎসব উদযাপন করতেন। মদিনার লোকদের এ উৎসবগুলোতে মূলত খেলাধুলা ও খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন থাকত।

বর্তমান সময়ের হ্যালোইন উদযাপনের মতোই এসব উৎসবে কোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ছিল না। তা সত্ত্বেও রাসুলুল্লাহ (সা.) এগুলো উদযাপন করতে নিষেধ করেন। কারণ, এগুলো ছিল অমুসলিমদের উৎসব। এর পরিবর্তে আল্লাহ মুসলমানদের জন্য দুটি উত্তম উৎসব দিয়েছেন। আর তাহলো, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।

এ কারণে শুধু আনন্দ করার উদ্দেশ্যে হলেও মুসলিমদের জন্য অন্য ধর্মাবলম্বীদের উৎসবে অংশ গ্রহণ নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত। তাদের ধর্মীয় আচার অনুসরণ না করলেও এ ধরনের আয়োজনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে উৎসবটি সফল করতে ভূমিকা রাখা হয়। সুতরাং মুসলমানদের জন্য হ্যালোইন পার্টিতে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ।






সম্পর্কিত সংবাদ

  • মিজানুর রহমান আজহারীর সকল তাফসির মাহফিল স্থগিত
  • শেষ হলো বাংলাদেশ থেকে হজ ফ্লাইট, সৌদি পৌঁছেছেন ৮৫১৬৪ হজযাত্রী
  • ফজরের নামাজে দোয়া কুনুত পড়ার নিয়ম
  • এ দেশকে কুরআনের আলোয় আলোকিত করতে হবে: ধর্ম উপদেষ্টা
  • পবিত্র লাইলাতুল কদর আজ
  • ইজতেমা ময়দানে দেশের সর্ববৃহৎ জুমার জামাত অনুষ্ঠিত
  • ১২ শ্রেণির মানুষকে ‘উম্মত নয়’ বলেছেন নবীজি