ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরামর্শ ক্রীড়া উপদেষ্টার

নিউজ ডেস্ক ::দেশের অন্য ক্ষেত্রের মতো ক্রীড়াঙ্গনেও চলছে সংস্কার কার্যক্রম। এরই অংশ হিসেবে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া গতকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। সাংবাদিকরা ক্রীড়াঙ্গনে অনিয়ম, অসঙ্গতি তুলে ধরার পাশাপশি উন্নতির জন্য নানা মতামত ব্যক্ত করেছেন।

দেশের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া ফেডারেশন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধিভুক্ত হয়েও এই বোর্ডের উপর তেমন নিয়ন্ত্রণ নেই। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আর্থিক লেনদেনেও অসঙ্গতি রয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অভিভাবক সংস্থা হয়ে ক্রিকেট বোর্ডের অডিটের বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের অবদান অনেক। এর পেছনে মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কোনো ভূমিকাই নেই। জেলা-বিভাগীয় পর্যায়ের মহিলা ক্রীড়া সংস্থা একেবারে নিস্ক্রিয়। প্রতি বছর মহিলা ক্রীড়া সংস্থার পেছনে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়। এর বিপরীতে ক্রীড়াঙ্গনে কোনো প্রাপ্তি নেই।

আজকের মত বিনিময় সভায় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার বিলুপ্তির পরামর্শও এসেছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ফেডারেশন ও সকল ক্রীড়া সংস্থার অভিভাবক। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নিজের সেই স্বকীয়তা হারিয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ক্রীড়ার সংস্থা হলেও এখানে ক্রীড়া শাখাই সবচেয়ে অবহেলিত। অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কারেই যেন ক্রীড়া পরিষদের পূর্ণ মনোযোগ।

অবকাঠামো খাতে টেন্ডার প্রক্রিয়া ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। সরকারি দলের প্রভাব ছাড়াও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী যুক্ত থাকার অভিযোগ বেশ পুরনো। ফেডারেশনের সংস্কারের পাশাপাশি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনিয়ম তদন্তের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের আয়ের অন্যতম উৎস স্টেডিয়ামে দোকান।

দোকান থেকে ইজারাদার অনেক অর্থ পেলেও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পায় খুবই সামান্য। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ভাড়া দেয়া দোকানের প্রকৃত মালিকের নাম ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রকাশের দাবি উঠেছে আলোচনা সভায়। পাশাপাশি স্টেডিয়ামে দোকান খাত থেকে রাজস্ব না পাওয়ার বিষয়টিও উঠেছে। ‘ক্রীড়াঙ্গনে সার্বিক উন্নয়নে মতবিনিময়’ শীর্ষক শিরোনাম হলেও সাংবাদিকদের মধ্যে দুই জন বর্তমান সচলতা আগে দাবি করেছেন।

ফেডারেশন-এসোসিয়েশন মিলিয়ে সংখ্যা ৫৫। ফুটবল, ক্রিকেটের বাইরে অন্য ফেডারেশনে গত এক মাসে খেলাধূলা একেবারেই নেই। ফেডারেশনগুলো সচল করে আগে খেলাধূলার পরিবেশ শুরুর আহ্বান জানানো হয়েছে। সাংবাদিকদের মতামত, পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগ শুনে সবার শেষে বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া।

তিনি সমাপনী বক্তব্য বলেন,‘আপনাদের গঠনমূলক মন্তব্য আমরা পর্যালোচনা করব। ক্রীড়াঙ্গনে আপনারা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছেন। আপনাদের পর্যবেক্ষণকে আমরা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করি। এজন্য সার্চ কমিটিতে দুই জন এবং জেলা পর্যায়েও ক্রীড়া সাংবাদিক প্রতিনিধি রেখেছি। সার্চ কমিটি ফেডারেশনগুলো পর্যালোচনা করে আমাদের প্রতিবেদন দেবে। আমরা এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার দিকটিও পরোক্ষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন।

বক্তব্যে বলেন, ‘দর্শক হিসেবে আগে দেখেছি থাম্বলাইন ও শিরোনাম এক রকম আর কন্টেন্ট অন্যরকম। অনেক প্রতিবেদন দেখেছি অনুমান নির্ভর। যা খেলার আগে খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।’ ক্রীড়া উপদেষ্টা, মন্ত্রী ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে উন্মুক্ত মতবিনিময় সভা বিগত এক দশকে তেমন হয়নি। তাই অনেক সাংবাদিকদের মতামত দেয়ার আগ্রহ ছিল।

সময় স্বল্পতায় হয়নি। উপদেষ্টা মন্তব্য শেষ করার পর দুই জন সাংবাদিক বঙ্গবন্ধু ও কমলাপুর স্টেডিয়ামের পরিবেশের বিষয়টি উথাপন করেন। ক্রীড়া উন্নয়নের আগে ক্রীড়া পরিবেশ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান। এর প্রেক্ষিতে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি বাইরের কোনো মানুষ নই। এই সমাজেরই একজন। স্টেডিয়াম এলাকায় এর আগেও গিয়েছি। এখনও আসছি। আমি খবর না দিয়ে আকস্মিক পরিদর্শন পছন্দ করি। এতে প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায়।’

সূূএ:: নিউজ ডেস্ক……

 

 






সম্পর্কিত সংবাদ

  • টেস্ট ক্রিকেটের ১৫০ বছর পূর্তিতে ব্রিটেনের রাজাকে আমন্ত্রণ
  • টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরিবর্তিত সূচি একনজরে দেখে নিন
  • টিকিট ছাড়াই দেখা যাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ
  • ফুটবল বিশ্বকাপের ট্রফি আসছে বাংলাদেশে
  • মেসির নৈপুণ্যে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জয়
  • এমবাপের জোড়া গোলে বিশ্বকাপে ফ্রান্স
  • সাতক্ষীরায় টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণী
  • নারী বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের সময়সূচি