নিউজ ডেস্ক :: শিশুদের সঙ্গে বাবা-মায়ের ভালো সময় কাটানো প্রয়োজন। বিশেষ করে শৈশব থেকে কৈশোরে পা দেওয়ার পর সন্তানদের মধ্যে নানা রকমের পরিবর্তন ঘটে। শারীরিক, মানসিক পরিবর্তনের কারণে নানা অনুভূতি তাদের ভেতরে ঘুরপাক খায়, তখন পরিবারের মা-বাবার উচিত সন্তানকে বেশি সময় দেওয়া।
তাতে পারস্পরিক সম্পর্ক মজবুত হবে ও ছোটবেলার সুখের স্মৃতি থাকবে।কিন্তু কর্মজীবী মা–বাবার পক্ষে সন্তানদের জন্য আলাদা করে সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। নিজেদের অজান্তেই সন্তানের সঙ্গে তৈরি হচ্ছে দূরত্ব। তাহলে কীভাবে সন্তানদের সঙ্গে ভালো সময় কাটাবেন?
সকাল শুরু হোক সন্তানের সঙ্গে :আমাদের মধ্যে অনেকেই সারাদিন অফিসে কাটান। তার পর রাতে বিধ্বস্ত হয়ে ফিরে ঘুমাতে চলে যান। তাতে বাচ্চার জন্য আলাদা করে সময় বের করা সম্ভব হয় না। তাই চেষ্টা করুন সন্তানের সঙ্গে সকালের নাশতা করতে। খেতে খেতেই জেনে নিন তার জমানো কথাবার্তা ও ভাবনা। দেখবেন আপনার সন্তানের কাছে উপভোগ্য সময় হয়ে উঠবে সকাল। আপনিও পাবেন চমৎকার আনন্দের অনুভূতি।
সময় ভাগ করুন : নিজের জীবনের প্রতিটি দিনকে কয়েক ভাগে ভাগ করে নিন। একা সব কাজ সামাল দিতে না পারলে একজন পরিচারিকার সাহায্য নিন। তাহলে দেখবেন সকলের জন্যে সময় থাকছে। আর হ্যাঁ এসব কিছুর মাঝে নিজের জন্যে আলাদা সময় বের করতে ভুলে যাবেন না।
অফিসের কাজ বাড়ি আনবেন না: অনেকেই অফিসে অনেক বড় বড় দায়িত্ব সামলান। তাদের উপরে খুব চাপ থাকে। তাই অনেক সময়ে অফিসের কাজ বাড়ি বয়ে আনতে হয়। কিন্তু এটা ভুল। তাতে বাচ্চার জন্য আলাদা করে সময় বের করা সম্ভব হয় না। তাই এবার থেকে অফিসের কাজ অফিসেই করে ফেলার চেষ্টা করুন। তারপর সন্তানকে যত খুশি সময় দিন।
রাতের খাবার একসঙ্গে খেতে ভুলবেন না: সারাদিন সময় পান আর না পান, রাতে ফেরার পর পরিবারের সকলে মিলে একসঙ্গে খেতে বসুন। এই সময় সারাদিনের ঘটনাপ্রবাহ একে অপরকে বলুন। ভালোর পাশাপাশি খারাপ কী ঘটেছে, সেটাও জানান। তা হলে দেখবেন ধীরে ধীরে সন্তানও আপনার সঙ্গে তার মনের অন্দরের কথা ভাগ করে নেবে। আপনাদের মধ্য়ে কমে যাবে দূরত্ব।
সপ্তাহের ছুটিতে ঘুরতে যান: সারা সপ্তাহ তো রুদ্ধশ্বাস গতিতে কেটে যায়। এমন পরিস্থিতিতে বাচ্চাকে সময় দেওয়া কঠিন। তাই সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে সন্তানকে নিয়ে বেড়াতে বের হোন। সময়ের সীমাবদ্ধতা থাকলে কাছে কোথাও ঘুরে আসুন। সন্তানের প্রিয় খাবার খেতে পারেন একসঙ্গে। দেখতে পারেন প্রিয় কোনো সিনেমা। সারা দিন একসঙ্গে থাকুন। নিজেদের মধ্যকার দূরত্ব দূর করে ঝালিয়ে নিন পারস্পরিক আন্তরিকতার সম্পর্ক।
সূত্র :দেশ রূপান্তর নিউজ