বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে এক প্লাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে : জামায়াত আমির

 নিউজ ডেস্ক  :: দেশে কোনো বৈষম্যের স্থান দেয়া হবে না’ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘ক্ষুধা, দারিদ্র ও বৈষম্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে এক প্লাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

রোববার রাজধানীর (মিরপুর-১৪) গ্রান্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্টে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে ঢাকা-১৫ আসনের উলামায়ে কেরাম ও ইয়াতিমদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্ত

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘আলেম ও তালেব উভয়ই সুসংবাদ প্রাপ্ত। কারণ, হাদিসে রাসূল (সা.) বর্ণিত হয়েছে- তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই উত্তম যিনি নিজে কুরআন শিক্ষা করেন এবং অপরকে শিক্ষা দেন।’

‘আমরা আজ তাদের সাথে মিলিত হতে পেরে গর্ববোধ করছি’ জানিয়ে তিনি দেশ, জাতি ও ইসলামের কল্যাণে দেশের আলেম সমাজকে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা ও ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা: ফখরুদ্দিন মানিক ও ইয়াসিন আরাফাত প্রমূখ।

দ্বীনই আমাদের জীবন উদ্দেশ্য জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘দেশে দ্বীন শিক্ষা যত সম্প্রসারিত হবে, ততই সমাজ আলোকিত হয়ে উঠবে। আর দ্বীনের শিক্ষা সংকোচিত হলে নেমে আসবে অন্ধকার। যার প্রমাণই হচ্ছে পতিত আওয়ামী লীগের প্রায় ১৬ বছরের অপশাসন-দুঃশাসন। সে সময় দেশ বরেণ্য আলেম-ওলামাদের সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ করে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে। তাদের হাতে হ্যান্ডকাপ আর পায়ে ছিল ডাণ্ডাবেরী। অথচ চোর, ডাকাত, অপরাধী ও সমাজ বিরোধীরা গোটা দেশে নির্বিঘ্নে দাপিয়ে বেড়িয়েছে।’

এ সময় তিনি নিজের গ্রেফতারের দুঃসহ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো গভীর রাতে। কিন্তু আমাকে আয়না ঘরে রাখা না হলেও আমি তা দেখেছি। আমাকে এমনভাবে গ্রেফতার করা হয়েছিলো যেন তারা কোনো ভয়ংকর অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে। প্রথম কয়েক দিন কেরানীগঞ্জ কারাগারে রাখার পর আমিসহ ৩৮ জন বরেণ্য আলেমকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে বদলি করা হয়। গাড়ীতে আমি ছাড়া প্রত্যেকের হাতে হ্যান্ডকাপ ও পায়ে বেড়ি পড়া দেখে আমি কেঁদেছি। কিন্তু মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশ দিয়েছেন।’

দেশকে এগিয়ে নিতে দেশের আলেম সমাজকে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পবিত্র মাহে রমযান মাগফেরাত ও গুনাহ মাফের মাস। মূলত, সিয়াম মানুষের গোনাহ পুঁড়ে ছাই করে দেয়। হাদিসে এসেছে, একদিন রাসূল (সা.) পরপর তিন বার আমিন বললেন। সাহাবীগণ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) আপনি তো এমন কখনো করেন না। প্রত্যুত্তরে রাসূল (সা.) বললেন, আমার কাছে জিব্রাইল আমিন এসে বললেন, ঐ ব্যক্তি ধ্বংস হোক, যে তার জীবনে রমযান মাস পেলো অথচ নিজের গোনাহ মাফ করে নিতে পারলো না। আমি বললাম, আমিন! এরপর তিনি বলছেন, যে তার পিতা-মাতা উভয়কে বা কোনো একজনকে বার্ধক্য অবস্থায় পেলো অথচ জান্নাত লাভ করতে পারলো না ঐ ব্যক্তি ধ্বংস হোক। আমি বললাম আমিন। জিব্রাইল আমিন আবার বললেন, ঐ ব্যক্তি ধ্বংস হোক যে, আপনার নাম শোনার পর দরূদ পড়লো না। আমি বললাম, আমিন। তাই আমাদের প্রত্যেককে ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালের মুক্তির জন্য রমযান মাসে যথাযথভাবে সিয়াম ও কিয়াম পালন করতে হবে।’






সম্পর্কিত সংবাদ

  • শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেছে, শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর
  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভাপতি হওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ
  • ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি কার্যক্রমের উদ্বোধন শনিবার
  • বাগেরহাটে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ১৩
  • একুশে বইমেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
  • ঈদে রেলের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু ৩ মার্চ
  • ১২ মার্চ সংসদ বসছে, নির্বাচন করা হবে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার
  • বগুড়া ও শেরপুরের উপনির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ জানাল ইসি