নড়াইলের শসার অভাবনীয় সাফল্য, পুজোর আসন থেকে বিউটি পালারে

নড়াইল জেলা প্রতিনিধি: নড়াইলের শসার অভাবনীয় সাফল্য পুজোর আসন থেকে বিউটি পালায়: শসা চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন নড়াইলের কৃষকেরা। অন্য ফসলের চেয়ে লাভ কয়েকগুন বেশী হওয়ায় শসা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন এখানকার চাষীরা। নড়াইল সদর উপজেলার আগদিয়া, বিছালী, মুসুড়ি, মুলিয়া, শেখহাটিসহ অন্তত ১০ গ্রামের কৃষকেরা এ বছর শসা চাষ করেছেন। প্রায় প্রত্যেক গ্রামে শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। নড়াইল কৃষি সম্প্রসারন সূত্রে জানা যায়, জেলায় এ বছর ১৫০ হেক্টর জমিতে শসার আবাদ হয়েছে। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, অনান্য ফসলের তুলনায় লাভজনক হওয়ায় অনেকেই শসা চাষ করে সাবলম্বী হয়েছে। দিন দিন শসা চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামে গ্রামে গড়ে উঠেছে শসার কেনা বেচার মৌসুমী আড়ত। কৃষকেরা ক্ষেত থেকে তুলে এনে আড়তে বিক্রি করছেন। এতে মহিলা, বেকার যুবকসহ কলেজের ছাত্রদেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় চলে যাচ্ছে এখানকার শসা। স্থানীয় বাজারের ক্রেতারা টাটকা/তাজা শসা কিনতে পেরে খুশি। কৃষকরা জানিয়েছেন, এক একর জমিতে মাচাসহ জমি তৈরি করে শসা চাষ করতে খরচ হয় ৪০-৫০ হাজার টাকা। আর এই জমি থেকে উৎপাদন হয় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার শসা। প্রতি শতকে জমিতে খরচ হয় ৪শ থেকে ৫শ টাকা আর উৎপাদন হয় আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা (৫/৬ মন)। বীজ রোপনের ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে ফসল তোলা শুরু হয়ে যায়। ধানের তুলনায় ৩/৪ গুন বেশী লাভ হয়। নড়াইল জেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘শসা চাষ করে কম খরচে বেশী লাভবান হওয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই সবজি চাষে তারা সচ্ছল কৃষকে পরিণত হয়েছে। #####

নড়াইলের প্রভাবশালী হিন্দু জমিদার কালিশঙ্কর রায়’র জমিদার বাড়ীর সুন্দর প্রাসাদ

অট্টালিকার স্মৃতি চিহ্ন টুকু বিলীন: সেখানে এখন পুলিশ লাইন!!

নড়াইল জেলা প্রতিনিধি: নড়াইলের প্রভাবশালী হিন্দু জমিদার কালিশঙ্কর রায়’র বাড়ী!! কালের পরিবর্তনে জমিদারদের ঐশ্বর্য্য ও বিত্তশালী প্রতীক বিশাল জমিদারী ও সুন্দর প্রাসাদ অট্টালিকার স্মৃতি চিহ্ন বিলীন নড়াইলের জমিদারীর প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কালিশঙ্কর রায় নামে জনৈক প্রভাবশালী হিন্দু। তার পিতার নাম ছিল রূপরাম রায়। রূপরাম দত্ত প্রসিদ্ধ গুয়াতলীর মিত্র বংশীয় কৃষ্ণরাম মিত্রের দ্বিতীয় কন্যাকে পরিনয় সূত্রে আবদ্ধ করেন। রূপরামদত্ত নন্দকিশোর, কালীশঙ্কর ও রামনিধি নামে তিন পুত্রের জনক। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, রূপরাম অল্প বয়সে নাটোর রাজ সরকারে চাকুরি নেন। ধীরে ধীরে বিশ্বাসভাজন হয়ে তিনি সরকারের উকিল হিসেবে মুর্শিদাবাদ নবাব দরবারে কাজ করতেন। এই ভাবে তিনি যথেষ্ট অর্থ সম্পাদের মালিক হন। নাটোরের জমিদার রানী ভবানী একদিন রূপরাম রায়কে তাদের উকিল হিসেবে মুর্শিদাবাদের নবাব দরবারে পাঠান। নাটোরের রানী ভবানীর দয়ায় রূপরাম রায় নড়াইলের আলাদাতপুর তালুক কিনে নেন। এই তালুকের মধ্যে নড়াইল নামক স্থানে তিনি বসতবাড়ী নির্মাণ করেন। বসতবাড়ীর কিছুদূরে চিত্রা নদীর তীরে রূপরাম রায় একটি বাজার নির্মাণ করেছিলেন। রূপরামের নামানুসারে বাজারটি রূপগঞ্জ বাজার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। আজও এই বাজারটি শহরের প্রধান বানিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে প্রসিদ্ধ। রূপরাম রায়ের তিন পুত্রের মধ্যে কালিশঙ্কর রায় অতি অল্প বয়সে পিতার সাথে নাটোর রাজ দরবারে প্রবেশ করেন। পিতার মত অল্প বয়সে নাটোরের রাজ সরকারের একজন কর্মচারী হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি। এই কালিশঙ্কর ছিলেন নড়াইল জমিদারীর প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। কালিশংকর রায় ছিলেন বলিষ্ঠ স্বাস্থের অধিকারী ও একজন সুচতুর ব্যক্তি। নিজে সাফল্য লাভের জন্য ন্যায়-অন্যায় বিচার বিবেচনা তার চরিত্রে ছিলনা। কৌষলে কার্য্যোদ্ধার করতে তিনি সুনিপুন ছিলেন। ডবংঃষধহফ এর রিপোর্টে তারই প্রতিধ্বনি শোনা যায়। কার্যোদ্ধারে তিনি ন্যায়ান্যায় বিচার করতেন না। ১৭৯৩ সালে ভারতবর্ষের গভর্ণর জেনারেল লর্ড কর্ণওয়ালিশ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তিত করলে সে সময় নাটোরের নড়াইলের প্রভাবশালী হিন্দু জমিদার বিশাল জমিদারীর বিপুল অংকের খাজনা বাকী পড়ে। খাজনার দায়ে ভাগে ভাগে নিলামে বিক্রি হতে থাকে জমিদারী। সেই সময় সুচতুর নড়াইলের প্রভাবশালী হিন্দু জমিদার কালিশংকর ও কতিপয় কর্মচারী নাটোরের জমিদারদের বিশ্বাসের অপব্যবহার করে স্বনামে ও বেনামে নাটোর রাজ্যের জমিদারী এলাকাভূক্ত পরগণা নিলামে খরিদ করতে থাকেন। পরগণাগুলো হচ্ছে তেলিহাটি, বিনোদনপুর, রূপপাত, তরফ কালিয়া, তরফ দরিয়াপুর ও অন্যান্য ছোট ছোট তোমিগাতি মহল। নড়াইল মৌজায় কালিশংকর রায় পিতার ছোট বসতবাড়ীতে বড় বড় দালান, কয়েকটি দীঘি, নাট্যমন্দির ও বিশাল রাজবাড়ী নির্মাণ করেন। কালিশংকর তার ক্ষমতা, প্রতিপত্তি ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য এক বিরাট লাঠিয়াল বাহিনী গঠন করেন। এই লাঠিয়াল বাহিনীতে যোগ দেয়া বেশিরভাগ লোক ছিল হিন্দু নিম্নবর্ণের নমশুদ্র সম্প্রদয়ের। কোথাও শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন হলে এই লাঠিয়াল বাহিনীকে কাজে ব্যবহার করা হতো। এই লাঠিয়াল বাহিনীর দ্বারা অনেক সময় ব্যবসায়ীদের নৌকার মালামাল লুট করে নেয়া হতো। যশোহরের প্রথম জজ ম্যাজিট্রেট হেঙ্কেল সাহেবের আমলে (১৭৮৪ খৃষ্টাব্দ) কালীশঙ্কর ও তাঁর জ্যেষ্ঠভ্রাতা নন্দকিশোরের নামে লুটতরাজ মামলা দায়ের করা হয়। সম্ভবতঃ কালীশঙ্কর ব্যবসায়ের দেনা পাওনার সূত্রে ক্ষিপ্ত হয়ে মাল ভর্তি একটি নৌকা লুট করে নেয়। হেঙ্কেল সাহেব তাকে ডাকাত নামে অবিহিত করে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করেন। কুতুবুল্লাহ সর্দারের অধীনে কিছু সিপাহীকে পাঠানো হলো কালীশঙ্করকে ধরে আনার জন্য। তাদের সাথে ১৫০০ লাঠিয়ালের এক খন্ড যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে ২ জন নিহত এবং কুতুবুল্লাহ সহ ১৫ জন আহত হয়। দ্বিতীয়বার সাহেব অতিরিক্ত সৈন্যদল পাঠালে নন্দকুমার ধরা পড়েন আর কালীশঙ্কর পালিয়ে যান। প্রথমে নাটোর ও পরে কোলকাতায় তিনি লুকায় থাকেন। অনেকদিন পর বহু কষ্টে তাকে কোলকাতা হতে গ্রেফতার করা হয় অতপরঃ মুড়লিতে নিয়ে আসা হয়। দারোগার বিচারে তিনি অব্যাহতি পান। নড়াইলের প্রভাবশালী হিন্দু জমিদার কালিশঙ্করের জমিদারী এলাকায় কোন গরু জবাইয়ের ঘটনা জানতে পারলে তিনি তার লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে সাথে সাথে তাকে ধরে নিয়ে যেতন এবং নিষ্ঠুর নির্যাতন চালাতেন। তার বাড়ীর সামনের রাস্তা দিয়ে কোন লোক ছাতা মাথায় এবং জুতা পায়ে হাটতে পারতো না। এই কালিশংকর প্রকৃত নড়াইল জমিদারীর প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ। ১৮৭০ খৃষ্টাব্দে ৭০ বছর বয়সে কালিশঙ্কর ধর্ম যাত্রা ও মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হতে গয়া-কাশী গমণ করেন। কাশীতে দুবৃত্তদের উৎপাতে তীর্থযাত্রীগণ সবসময় সমস্যায় থাকতেন। সে দৃশ্য তিনি সহ্য করতে পারলেন না। তিনি নানারকম কুট কৌশলে অত্যাচারীদেরকে রাজদন্ডে দন্ডিত করে কাশীক্ষেত্রকে নিরূপদ্রব করেন। কাশীকে শান্তিময় অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য কাশীবাসী এখনও নড়াইলের প্রভাবশালী হিন্দু জমিদার কালীশঙ্কর রায়ের নাম স্মরণ করেন। কালীশঙ্কর ১৮৩৪ সালে ৮৫ বছর বয়সে পবিত্র কাশীধামে পরলোক গমন করেন। নড়াইলের প্রভাবশালী হিন্দু জমিদার কালিশঙ্করের দুই পুত্র রামনারায়ণ ও জয় নারায়ণ। গয়া-কাশীতে যাবার আগে দুই ছেলের নিকট তিনি তার সকল সম্পত্তি বুঝিয়ে দেন। কালীশঙ্কর কাশী যাওয়ার পর কয়েক বছরের ব্যবধানে দুই ছেলে মারা যায়। রামনারায়ণ ১৮১৭ সালে এবং জয়নারায়ণ ১৮২২ সালে মারা যান। কলিশঙ্করের বড় ছেলে রামনারায়ণের তিন পুত্র-রামরতন, হরনাথ ও রাধাচরণ। ছোট ছেলে জয়নারায়ণের দুই ছেলে ছিল দুর্গাদাস রায় ও গুরুদাস রায়। রামনারায়ণের তিন পুত্রের তিনজনই কীর্তি পুরুষ ছিলেন। দুর্গাদাস রায় ও গুরুদাস রায় নড়াইল থেকে দুই মাইল দক্ষিণে চিত্রা নদীর তীরে হাটবাড়ীয়া নামক গ্রামে বসতি স্থাপন করেন এবং জমিদারী সমান ভাগে পরিচালনা করতে থাকেন। রামনারায়ণের বংশধরগণ নড়াইলেই বসবাস করতে থাকেন। তাই নড়াইলের জমিদার ও জয়নারায়ণের বংশধরগণ ‘হাটবাড়ীয়ার জমিদার’ বলে পরিচিত হন। রামনারায়ণের বড় ছেলে রামরতনের নামে নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ বাজারের ডাকঘরটি স্থাপিত হয়। সেই যুগ থেকে ‘রতনগঞ্জ’ ডাকঘর নামে পরিচিত। আজও এই ডাকঘরের নাম পরিবর্তন হয়নি। রামরতন রায়ের জমিদারী আমলে নলদী পরগণা ও খুলনা জেলার পরগণা দাঁতিয়া অন্তর্ভূক্ত হয়। এ সময় ইংরেজ নীলকর সাহেবরা যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে নীলচাষের জন্য নীলকুঠি স্থাপন করে। জমিদার রামরতন রায় নীল চাষ লাভজনক বলে তিনিও এ ব্যবসা শুরু করেন। তিনি বহু নীল কুঠিও স্থাপন করেন এবং ইংরেজ নীলকর সাহেবদের নিকট থেকেও কিছু কুঠি ক্রয় করেন। রামরতন ছিল খুব সামপ্রদায়িক মনোভাবাপন্ন। যেসব কৃষক নীলচাষ করতে অনীহা প্রকাশ করতো তাদের উপর কঠোর নির্যাতন চালাতো তার লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে। হিন্দুধর্মের নমশুদ্র সম্প্রদায়ের চেয়ে মুসলিম কৃষকদের উপর তুলনামূলক বেশী অত্যাচার চালাতো। রামরতন রায় সাম্প্রদায়িক মনের ও অত্যাচারী থাকলেও শিক্ষা ক্ষেত্রে ছিলেন দানশীল। জমিদার রামরতন রায় তৎকালীন ভারত সম্রাজ্ঞী মহারানী ভিক্টোরিয়ার নামে একটি ইংরেজী হাইস্কুল স্থাপন করেন, যা বর্তমানে নড়াইল সরকারী ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট হাইস্কুল নামে পরিচিত হয়ে তার স্মৃতি বহন করছে। এই স্কুলকে কেন্দ্র করে ১৮৮৬ সালে একই নামে ইন্টারমিডিয়েট কলেজ স্থাপন করা হয়। কলেজটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দ্বিতীয় প্রাচীন এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের মধ্যে অন্যতম প্রাচীন কলেজ। রতন বাবু একটি দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। রতন বাবুর পুত্র কালীপ্রসন্ন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ও ধর্মপ্রাণ ছিলেন। রায় বাহাদুর হরনাথ বাবুর পৌত্র কিরণচন্দ্র গর্বণ সেন্ট কর্তৃক ‘রায় বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। তাঁর ভ্রাতাপুত্র ভবেন্দচন্দ্র উচ্চশিক্ষিত ও জনহিতৌষি ব্যক্তি ছিলেন। রাধাচরণ বাবুর পুত্র যোগেন্দ্রনাথ রায় শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান জমিদার ছিলেন। তার জ্যেষ্ঠ পুত্র যতীন্দনাথ রায় ইংল্যান্ড হইতে ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে বহু বছর যাবৎ ম্যাজিষ্ট্রেট ছিলেন। জমিদার রামরতন রায়ের মৃত্যুর পর তার মেঝে ভাই রায় বাহাদুর হরনাথ জমিদারীর কর্তৃত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমান নড়াইল-যশোর পর্যন্ত যে পাকা রাস্তা দিয়ে আমরা যাতায়াত করি এই পাকা রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রথমে তিনিই অনেক টাকা খরচ করেন। ১৭৮৬ সালে যশোর একটি জেলা রূপে পরিগণিত হয়। তৎকালীন যশোর জেলা বর্তমানের সমগ্র যশোর, খুলনা ও ভারতের বনগাঁ জেলা এবং কুষ্টিয়া ও ফরিদপুরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিলো। ১৭৯৩ সালে নলদী পরগণাসহ ফরিদপুর জেলার পূর্বাঞ্চল যেমন- কাশিয়ানী মোকসেদপুর, কোটালিপাড়া, বোয়ালমারী, গোপালগঞ্জ সে সময় যশোর জেলার অন্তর্ভূক্ত ছিল। ১৮৪২ সালে খুলনাকে যশোরের একটি মহাকুমায় পরিণত করা হয়। তৎকালীন সময়ে অভয়নগর থানা এবং কালিয়া থানা খুলনা মহাকুমার অন্তর্ভূক্ত ছিল। ১৮৬১ সালে নীল বিদ্রোহের সময় নড়াইল মহকুমা স্থাপিত হয়। নড়াইলের জমিদারের কারণে মহাকুমার নাম হয় নড়াইল ও মহাকুমা সদর দপ্তর নড়াইলে স্থাপিত হয়। মহাকুমা সদর স্থাপনের জন্য স্থান নির্বাচন করা হয় প্রথমে গোপালগঞ্জে, পরে ভাটিয়াপাড়া, কালনা, লোহাগড়া, নলদী এবং সবশেষে বর্তমান জেলা শহরের মহিষখোলা মৌজায়। নড়াইলের প্রভাবশালী হিন্দু জমিদার বাড়ী ছিল একটি বিরাট এলাকা জুড়ে বহু সুরম্য অট্টালিকা, নাট্যমঞ্চ, পূজামন্ডপ, কাচারী ভবন, অতিথিশালা ও বিখ্যাত বাঈজিদের সাময়িক বাসস্থানরূপে ব্যবহৃত বিশ্রামাগার এবং বহু সংখ্যক পুকুর দীঘি। তৎকালীন পূর্ববঙ্গের মধ্যে এত বড় বাড়ী আর কোন জমিদারের ছিল না বলে তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতির ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার পর জমিদারগণ এ দেশ ছেড়ে ভারতের কোলকাতায় চলে যায়। ১৯৫০ এবং ১৯৫২ সালের দিকে কোলকাতা থেকে জমিদারদের কয়েকজন স্বল্প সময়ের জন্য আসলেও পরবর্তীতে আর আসেনি। পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ সংস্কারের অভাবে পুরাতন অট্টালিকাগুলি জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে এবং বিভিন্ন মালামাল চুরি ও নষ্ট হতে থাকে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর এখানে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার কর্তৃক গঠিত রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। এছাড়া সরকারী রাজস্ব বিভাগের কর্মচারীদের বাসাবাড়ী হিসেবে দীর্ঘকাল দালান বাড়ী ব্যবহৃত হতে থাকে। ১৯৮৫ সালের দিকে জমিদার বাড়ীর বিশাল দালান মাত্র পাঁচলক্ষ টাকায় সরকার নিলামে বিক্রি করে দেয়। জমিদার বাড়ীর সামনে একটি মন্দির ছাড়া আর কোন স্মৃতি নেই। এখানে গড়ে উঠেছে একটি সরকারী শিশুসদন। এছাড়া জমিদার বাড়ীর প্রায় ১০ একর জমির উপর স্থাপিত হয়েছে জেলা পুলিশ লাইন। জমিদার বাড়ীর পুকুর দীঘি আজও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রয়েছে। জমিদারদের বিভিন্ন ধরণের কাজের জন্য যেমন- বেহারা (পাল্কিবাহক), রাজমিস্ত্রি, লাঠিয়াল বা ঢালী, পূঁজাঅর্চনার জন্য পুরোহিত এবং নানা প্রকার সেবা কাজের জন্য দাস সমপ্রদায়, জমিদার বাড়ীর দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকের গ্রামে বসবাস করত। এই সকল সমপ্রদায়ের বংশধরেরা তাদের পেশা পরিবর্তন করেছে এবং অনেকে এখন লেখাপড়া করে অন্য পেশায় আত্মনিয়োগ করেছে। কিন্তু জমিদারদের অত্যাচারের কালের পরিবর্তনে জমিদারদের ঐশ্বর্য্য ও বিত্তশালী প্রতীক বিশাল জমিদারী ও সুন্দর প্রাসাদ অট্টালিকার স্মৃতি চিহ্ন টুকু বিলীন হয়ে গেছে। #####

এই বুঝি ছাদ থেকে পলেস্তারা পড়ল আতঙ্কে নড়াইলের সেটেলমেন্ট অফিসের কার্যক্রম

নড়াইল জেলা প্রতিনিধি: ভবনে ফাটল, কখন যেন ভবনটি ভেঙে পড়ে। এই বুঝি ছাদ থেকে পলেস্তারা পড়ল। প্রতিনিয়ত এসব চিন্তা মাথায় নিয়েই ঝুঁকিপূর্ণ জরাজীর্ণ ভবনে চলছে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের কার্যক্রম। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, গত ৩০ জুন সকাল সাড়ে ৭টায় হঠাৎ দুর্ভাগ্যক্রমে ভবনটির ছাদের পলেস্তারা ধসে পড়ে। ফলে অফিসের ৩টির মধ্যে ২টি রুমই ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে পড়ায় একই সরকারি ভবনের উপজেলা শিল্পকলা একডেমির অফিস কক্ষটি ব্যবহার করছেন সেটেলমেন্ট অফিস কর্তৃপক্ষ। প্রায় সময়ই ভবনটির ছাদের ইট, সুরকি, পলেস্তারা ধসে পড়ার আতংকিত হচ্ছেন অনেকে। প্রতিদিন শত শত মানুষ আতঙ্ক নিয়েই ঝুকিপূর্ণ এই সেটেলমেন্ট অফিসে তাদের ভূমি রেকর্ড সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করছেন। একই সঙ্গে আশির দশকে নির্মিত এ ভবনটি ভেঙে পড়ে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সরেজমিনে জানা গেছে, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে অবস্থিত কোর্ট বিল্ডিং নামে পরিচিত উপজেলার আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৮০ দশকে এ ভবনটি নির্মিত হয়। আদালতের কার্যক্রম জেলা সদরে স্থানান্তর হওয়ার পর ২০০১ সালে এ ভবনেই শুরু হয় সেলেমেন্ট অফিসের কার্যক্রম। ১৮বছর সময় ধরে এ ভবনে চালু রয়েছে এ অফিসের কার্যক্রম। এরই মধ্যে ভবনটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত ভবনের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ছে। ফলে আতঙ্কে দিন কাটছে সেলেমেন্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি ভূমি রেকর্ড সংক্রান্ত কাজ করতে আসা সাধারণ মানুষের। দ্রুত ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরের সুদৃষ্টি কামনা করছেন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলাবাসী। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা শামসুর রহমান বলেন, ‘আশির দশকের এই পুরাতন ভবনে দীর্ঘ ১৮বছর সেটেলমেন্ট অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে এই ভবনটিতে অফিস চালানো সম্ভব নয়। ঝুঁকি নিয়ে অফিস চালিয়ে আসছি। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।’ ####

মুখোমুখি সংঘষ মোটরসাইকেলের দুই আরোহী মৃত

নড়াইল জেলা প্রতিনিধি: মোটরসাইকেল-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নড়াইলের দুই যুবক নিহত গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৩ জুলাই) বেলা পৌঁনে ১২টার দিকে কাশিয়ানীতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের চাপ্তা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- নড়াইলের শালনগর গ্রামের সাদ্দাম হোসেন (৩০) ও মনির মিয়া (৩২)। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, মোটরসাইকেলে করে গোপালগঞ্জ থেকে নড়াইলের লোহাগড়া যাচ্ছিলেন সাদ্দাম হোসেন ও মনির মিয়া। পথিমধ্যে কাশিয়ানী উপজেলার চাপ্তা এলাকায় গোপালগঞ্জগামী একটি দ্রুতগতির মাইক্রোবাসের সাথে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং দুই আরোহি গুরুতর আহত হন। তিনি জানান, স্থানীয়রা গুরুতর আহত দুই মোটরসাইকেল আরোহিকে উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।এসময় কিছুসময়ের জন্য মহাসড়কের ওই স্থান নিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিলো, প্রায় দু’ঘন্টা পর আবার যান চলাচল শুরু হয়। #####

নড়াইলে পলাতক আসামী গ্রেফতার

নড়াইল জেলা প্রতিনিধি: পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সকাল ১০টায় চর বালিদিয়া গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। সে নড়াইলের লাহুড়িয়ার দিনথানপাড়া আবু তালেব মোল্যার ছেলে ইমরান হোসেন মোল্যা (৪০)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইমরান হোসেন মোল্যার নামে আদালতে একাধিক পারিবারিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ২০১৩ সালে একটি পারিবারিক মামলায় তার পাঁচ বছরের সাজা হয়। সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকে সে পলাতক ছিল। শুক্রবার গ্রেফতারের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। #####



« (পূর্ববর্তী সংবাদ ...)



সংযুক্তিমূলক সংবাদ ..

  • এনইউবিটি খুলনাতে ফল সেমিস্টার ২০১৯- এর এ্যাডমিশন ফেয়ার
  • চার শিল্পীকে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান,শিল্পী ঐক্যজোটের কৃতজ্ঞতা
  • শার্শায় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত
  • জেন্টল পার্কে তের বছর পূর্তি অফার
  • গ্রাজুয়েট প্রাইভেট প্রাকটিশনারদের নিয়ে যক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন সভা
  • বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক অনুষ্টিত
  • মোংলা বন্দরে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনে বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য
  • নওগাঁয় ইয়াবা ট্যাবলেট ও হিরোইন সহ ৩ জনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ
  • Leave a Reply