রাগ করে স্ত্রীকে ‘যাও’ বললে কি তালাক হয়ে যাবে?

তালাকের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়, আজীবন তারা একে অপরের জন্য অপরিচিত হয়ে যান। ইসলামে তালাকের বিধান রাখা হলেও দাম্পত্য বিচ্ছেদের এই প্রক্রিয়া অবলম্বনের প্রতি সবসময় নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। হাদিসে তালাকের বিষয়টিকে ‘সর্বনিকৃষ্ট হালাল’ বলা হয়েছে।

হজরত মুআররিফ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে হালাল বিষয়ের মধ্যে তালাকের চেয়ে অধিকতর ঘৃণিত আর কিছু নেই।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ২১৭৭)।

স্বামী যদি রাগ করে স্ত্রীকে বলে ‘চলে যাও’ বা ‘যাও’ তাহলে কী তালাক হয়ে যাবে? যেমন একজন জানতে চেয়ে প্রশ্ন করেছেন—‘ আমার স্ত্রী আমার শ্বশুর বাড়িতে আছে। আমার শ্বশুর বাড়ির সাথে আমার মনোমালিন্য চলছে। তারা বলেছে, আমার স্ত্রীকে আমার কাছে পাঠাবে না। এমতাবস্থায় আমি আমার এক শুভাকাঙ্ক্ষীর সাথে এই বিষয়ে আলাপ করেছি। আলাপের এক পর্যায়ে আমি বলি, আমার স্ত্রী যদি আমার কাছে আসে তাহলে আলহামদুলিল্লাহ। আর যদি তার বাবা মায়ের দিকে যায় তাহলে আমি বলবো ‘যাও’ বা এই রকম কিছু বলেছি। কিন্তু আমার এখন মনে পড়ছে না। এখন এ নিয়ে আমি অনেক দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। এতে কি আমার স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে?’

এ বিষয়ে ফেকাহবিদদের মতামত হলো, প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনা অনুযায়ী, আপনি আপনার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি কিছু বলেননি; বরং একজন শুভাকাঙ্ক্ষীর সঙ্গে আলাপের সময় স্ত্রী যদি আপনার কাছে আসে তাহলে ভালো, আর যদি বাবা-মায়ের পক্ষেই থাকতে চায়, তাহলে ‘যাও’ বা এ ধরনের কিছু বলবেন—এমন কথা বলেছেন। এখন আপনি ঠিক কী শব্দ ব্যবহার করেছিলেন, তাও নিশ্চিতভাবে মনে নেই।

এ অবস্থায় শুধু এ ধরনের অস্পষ্ট কথার দ্বারা তালাক সংঘটিত হয়েছে বলে গণ্য হবে না। কারণ, তালাক সংঘটিত হওয়ার জন্য তালাকবাচক স্পষ্ট শব্দ অথবা এমন কেনায়া (রূপক) শব্দ প্রয়োজন, যা তালাকের নিয়তে স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে। আর সন্দেহ, অনুমান বা স্মৃতির অস্পষ্টতার ভিত্তিতে তালাক সাব্যস্ত করা হয় না।

হানাফি ফিকহের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি হলো অর্থাৎ, নিশ্চিত বিষয় সন্দেহ দ্বারা দূর হয় না। দাম্পত্য সম্পর্ক নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত। তাই শুধু সন্দেহ, স্মৃতির অস্পষ্টতা বা ওয়াসওয়াসার কারণে তা ভেঙে গেছে বলে গণ্য করা যাবে না। অতএব, প্রশ্নে বর্ণিত তথ্যের ভিত্তিতে আপনার স্ত্রীর ওপর কোনো তালাক সংঘটিত হয়েছে বলে গণ্য হবে না।

তবে ভবিষ্যতে তালাক-সংক্রান্ত শব্দ বা ইঙ্গিতপূর্ণ বাক্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। রাগ বা আবেগের সময় এ ধরনের কথা বলা অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।






সম্পর্কিত সংবাদ

  • ফজরের নামাজে দোয়া কুনুত পড়ার নিয়ম
  • এ দেশকে কুরআনের আলোয় আলোকিত করতে হবে: ধর্ম উপদেষ্টা
  • পবিত্র লাইলাতুল কদর আজ
  • ইজতেমা ময়দানে দেশের সর্ববৃহৎ জুমার জামাত অনুষ্ঠিত
  • ১২ শ্রেণির মানুষকে ‘উম্মত নয়’ বলেছেন নবীজি
  • ■ পবিত্র আল-কুরআনে বর্ণিত কাহিনীঃ ঐতিহাসিক আসহাবে কাহাফের ঘটনা এবং আমাদের জন্য শিক্ষা!!
  • ধৈর্য ইমানে পূর্ণতা আনে