হায়রে পৌরসভা! কলারোয়ায় রাস্তাজুড়ে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ


কলারোয় প্রতিনিধি :: হায়রে পৌরসভা!! বারবার জানানো হলেও, একাাধিকবার পত্রপত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও টনক নড়ছে না পৌর কর্তৃপক্ষের।

রাস্তাজুড়ে ময়লা-আবর্জনার স্তুপে রীতিমত বিভিষীকা অবস্থায় ভূক্তভোগিরা।
পৌরসদরের জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়কের অর্ধেকজুড়ে ময়লা-আবর্জনার স্তুপের ভাগাড়ে তিক্তবিরক্ত পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তবুও দেখার কেউ নেই। পঁচা-বাসী দূগন্ধে অসহায়েত্বের মধ্যে পড়েছেন এলাকাবাসী।

পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র ২নং ওয়ার্ডের পুরাতন খাদ্য গুদামের পাচিল ঘেষে সামনের রাস্তার অবস্থা এটি। পাশেই কৃষি অফিসের আওতাধীন কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও পুরাতন বীজ-বিষ ভবন। পৌরসভাধীন একমাত্র গরু-ছাগল জবাই করার স্থান পিলখানাও স্থানটির পাশেই। আশপাশে বসবাস করেন শতশত পরিবার। আর রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন হাজারো পথচারী। মাছবাজার, তরকারী-মুদি বাজারসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সমস্ত পণ্য ট্রাকে লোড-আনলোড করা হয় এই স্থান থেকেই। অথচ এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষণের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকছেন দায়িত্বশীলরাই।

সরেজমিনে দেখা গেছে- পুরাতন খাদ্য গুদামের পাচিল ঘেষে ছোট্ট একটি পাকা ডাস্টবিন আছে। কিন্তু ময়লা-আবর্জনা এতটাই বেশি যে ডাস্টবিন ছাড়িয়ে পাচিলের পাশে ও সামনের রাস্তার প্রায় অর্ধেকজুড়ে এগুলো ফেলা হচ্ছে। প্রতিদিন এখানে দোকানদার বা ব্যবসায়ীরা ময়লা ফেললেও সেই ময়লা অপসারণ কিংবা অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার দায়িত্বে থাকা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন ময়লা অপসারণ না করে দৃশ্যত থাকেন উদাসিন। তাদের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা প্রতিদিন তো দূরের কথা সপ্তাহে ২/১দিন, আবার কোন সময় ১ কিংবা দেড় অথবা ২সপ্তাহ পর ময়লা অপসারণ করে থাকে। ফলে ময়লা-আবর্জনা যেমন স্তুপ থেকে ভাগাড়ে পরিণত হয় তেমনি অসহনীয় দূর্গন্ধে স্থানীয় বাসিন্দারা ও পথচারীরা পড়েন দূর্ভোগে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন- নিয়ম না থাকলেও বাসস্ট্যান্ড, তরকারি বাজারসহ আশপাশের দোকান এলাকার ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয় এখানে। যেন সেটা নিয়মে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনের ময়লা প্রতিদিন অপসারণ না করা, ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য পরিবেশবান্ধব বড় স্থান কিংবা বড় ভ্রাম্যমান ডাস্টবিন না রাখা, পৌরসভার উদাসিনতা, পরিচ্ছন্নকর্মীদের গাফিলতি, দোকানদার-ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাব আর সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধির জনমুখি না হওয়ায় চরম দূর্ভোগ, ভোগান্তি আর বিপাকে পড়েছেন ভূক্তভোগিসহ স্থানীয়রা।
ক্ষোভের সাথে তারা বলেন- পৌরসভা সংশ্লিষ্ট অনেক সমস্যা এখানে বিদ্যমান।জনগুরুত্বপূর্ণ ওই এলাকার কয়েকটি সড়ক বাতি জ্বলে না দীর্ঘ কয়েক মাস যাবত। ফলে নেশাখোরদের পদচারণায় আইন-শৃংখলা সংশ্লিষ্ট পরিবেশও উদ্বেগজনক হড়ে পড়েছে। ওখানকার রাস্তার অবস্থাও খারাপ। সবমিলিয়ে সুখকর অবস্থায় নেই সেখানকার বাসিন্দারা। সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন- পৌরসভার পরিচ্ছন্নকর্মীরা ঈদুল ফিতরের বেশ কয়েকদিন আগে ময়লা পরিষ্কার করেছিলো। এরই মধ্যে ময়লা আর আবর্জনার রসে সেখানে কাদা পর্যন্ত হয়ে গেছে। অসহনীয় দূর্গন্ধে বমি চলে আসে। বিষয়টি পৌরসভাকে জানানোর পর ১১জুন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীসহ ময়লাবাহী গাড়ি এসে একগাড়ি ময়লা সরিয়ে নিলেও এখনো অন্তত ২/৩গাাড়ির মতো ময়লা-আবর্জনা পড়ে আছে। দিনভর পরিচ্ছন্নকর্মীরা আর আসেনি।

তারা বলছেন- যদি প্রতিদিনের ময়লা প্রতিদিন পরিষ্কার করা হতো তাহলে এই অসহায়েত্বর মধ্যে পড়তে হতো না এলাকার বাসিন্দা ও পথচারীদের।
পরিচ্ছন্নকর্মীরা জানান- ‘ময়লা ফেলার জায়গা নেই আর লোক কম আছে।’

বিষয়টি নিয়ে এই ওয়ার্ডেরই কাউন্সিলর ও বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত মেয়র প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান বুলবুল জানান- ‘কালকেই (বুধবার) ময়লা পরিষ্কার করা হবে। এলাকাটির সমস্যা সমাধানে ও বাসিন্দাদের সুবিধার্তে সবকিছু করা হবে।’
তিনি আরো জানান- ‘ময়লা অন্যত্র ফেলবার জায়গা সংকটে আমরা বিব্রত। জায়গা পেলে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সেটা কিনতেও প্রস্তুত।’






সংযুক্তিমূলক সংবাদ ..

  • কলারোয়া বেত্রবতী হাইস্কুলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত
  • কলারোয়ায় সততা স্টোর’ উদ্বোধনসহ শিক্ষা উপকরণ বিতরণ
  • কলারোয়ায় মশক নিধন ও পরিচ্ছন্ন সপ্তাহ উপলক্ষ্যে জনসচেতনতামূলক র‌্যালি
  • কলারোয়ায় ৩মাদক ব্যবসায়ীসহ ৪ব্যক্তি আটক ॥ ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা উদ্ধার
  • কলারোয়ার সিংগা হাইস্কুলে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা
  • কলারোয়ায় প্রিমিয়ার ছাত্রসংঘ’র উদ্যোগে গুজববিরোধী মানববন্ধন
  • বৃষ্টি কামনায় কলারোয়ায় ফসলি মাঠে ইস্তেখরা নামাজ পড়লেন এলাকাবাসী
  • কলারোয়ার উন্নয়নে জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়েছে : উপজেলা চেয়ারম্যান লাল্টু
  • Leave a Reply