ডুমুরিয়ায় ঝিমিয়ে পড়েছে মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের কার্যক্রম কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি:
ডুমুরিয়ায় ঝিমিয়ে পড়েছে বয়স্কদের মাঝে পাঠদান ও মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের কার্যক্রম। কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উঠেছে নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগ। মাসিক সমন্বয় সভায় স্থানীয় এমপির হুশিয়ারি এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ। জানা গেছে, দেশব্যাপি অক্ষর জ্ঞানহীন মানুষের মাঝে স্বশিক্ষিত ও জ্ঞান বিকাশের লক্ষ্যে মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪ জেলা) চালু করেন বর্তমান সরকার। ৬ মাস মেয়াদি এ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয় গত ২০১৮ সালের ১৭ই ডিসেম্বর থেকে। ডুমুরিয়া উপজেলায় এ প্রকল্প দায়িত্বভার ও দেখাশুনা করেন উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসার এস এম রাইয়ান আলম ও এনজিও সংস্থা ছায়াকুঞ্জ ডেভালাফমেন্ট সোসাইটির কর্মকর্তা মিরাজুল ইসলাম। শুরুতে তাদের কার্যক্রম ছিল লক্ষণীয়। গড়ে উঠেছিল ৩’শ পাঠদান কেন্দ্র। নিয়োগ প্রদান করা হয়েছিল ৩’শ পুরুষ ও ৩’শ মহিলা শিক্ষক। সংগ্রহে ছিল ১৮ হাজার শিক্ষার্থী। কিন্তু এ কার্যক্রম কিছুদিন যেতে না যেতেই তা ঝিমিয়ে পড়ে। এখন সবই আছে খাতা কলমে। শিক্ষা ও পাঠদান কিছুই হয় না বললেই চলে। আর এর সমুদায় দায়ভার পড়েছে ওই দুই কর্মকর্তার ওপরে। বিষয়টি উত্থাপিতও হয় গত ২০ মে ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায়। সভার প্রধান অতিথি সাবেক মৎস্য ও প্রানিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি বিষয়টি উত্থাপিত করেন এবং বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এ বিষয়ে ধামালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রেজোওয়ান হোসেন মোল্যা বলেন, এক সময় আমাকে ডেকে নিয়ে স্কুল উদ্বোধন ও বই বিতরণ করা হয়েছিল। বর্তমানে কোন খোজ খবর দেখছি না। খর্ণিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ দিদারুল হোসেন দিদার জানান, প্রকল্পের শুরুতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম ছিল। আর বর্তমানে কাজের চাপ বেশি থাকায় কেমন যেন ঝিমিয়ে পড়েছে। মাগুরখালি ইউপি চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ সানা জানান, ইউনিয়েন বয়স্ক শিক্ষা চালু হয়েছে শুনেছি। তবে এর সাথে সংশ্লিস্ট কেউ কোনদিন যোগাযোগ করেনি। এই প্রকল্পের এক ইউনিয়ন সুপার ভাইজার প্রসেন মন্ডল জানান, আমরা শুরুতে বেশ সুন্দর ভাবে শিক্ষার্থী সংগ্রহ করেছিলাম। মানুষের মাঝে সাড়াও পড়েছিল। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও টিচাররা কোন বেতন পায়নি। এই পাঁচ মাসের মধ্যে মাত্র ২২’শ টাকা বেতন দেওয়া হয়। আর এ কারণেই এখন কার্যক্রম বন্ধ হতে চলেছে। এ বিষয়ে সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সকল মানুষকে স্ব-শিক্ষায় শিক্ষিত করতে এই প্রকল্পটি চালু করেন। কিন্তু আমি খোজ নিয়ে জেনেছি- এর সাথে সংশ্লিটরা দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলা করেছে। এটা খুবই দুঃখজনক। তাই আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছি। এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ শাহনাজ বেগম জানান, এমপি স্যারের নির্দেশনা পেয়ে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি তদন্ত টীম গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে দোষী প্রামানিত হলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রোগাম অফিসার এস এম রায়হান আলম ও এনজিও কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রকল্পের নিয়মনীতি অনুসারে পরিচালনা করছি। তবে হঠাৎ করে ধানকাটার কাজ বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা একটু কম হচ্ছে। ####






সংযুক্তিমূলক সংবাদ ..

  • দীপ্ত জীবন উপাখ্যানের একটি বৃহৎ আলেখ্য নজরুল ইসলাম তোফা
  • ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের উদ্যোগে কারাগারে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উদযাপিত
  • মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মতবিনিময়কালে জেলা প্রশাসক মুজিব বর্ষ পালনের মাধ্যমে পৃথিবীর ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম জন্মদিন পালিত হবে বঙ্গবন্ধুর
  • কলারোয়ায় রক্তের গ্রুপিং ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রম
  • কয়রায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে বাঁধা দেওয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষককে হাতুড়ী পেটা
  • নওগাঁয় মদ সহ একজনকে আটক করেছে পুলিশ
  • বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে গোপালগঞ্জ বশেমুরবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন; দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী
  • আর,আর,এফ কতৃক স্বামী মৃত্যু দাবী পরিশোধ
  • Leave a Reply