টাঙ্গাইলে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু এবং স্বজনদের মারপিটের অভিযোযে সংবাদ সম্মেলন

টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি: টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতলে ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ করায় রোগীর স্বজনদের মারধর করেছে চিকিৎসক ও স্টাফরা। এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে শুক্রবার(২৪ মে) সকালে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
জানাগেছে, টাঙ্গাইল পৌর এলাকার পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়ার মরহুম তালু আকন্দের ছেলে মুকুল আকন্দকে(৫৫) শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় গতকাল বৃহস্পতিবার(২৩ মে) বিকালে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ৪ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর(রেফার) করেন। এসময় রোগীকে ঢাকায় নেয়ার প্রস্তুতিতে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন স্বজনরা। গুরুতর অসুস্থ ওই রোগীর শ্বাসকষ্ট থাকায় হাসপাতালের অক্সিজেন দিয়ে হাসপাতালের ভাড়াকৃত অ্যাম্বুলেন্সে নিতে চাইলে রোগীর স্বজন ও হাসপাতালের স্টাফরা অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও ইন্টার্নি শিক্ষার্থীদের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে চিকিৎসক ও ইন্টার্নি শিক্ষার্থীরা রোগীর স্বজনদের মারটিক করে আটকে রাখে। এ সময় হাসপাতাল থেকে রোগীকে বাইরে আনার কিছুক্ষন পরেই শ্বাসকষ্ট সমস্যায় রোগী মুকুল আকন্দের মৃত্যু হয়। এতে ভুক্তভোগী স্বজনরা চিকিৎসকসহ এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে নিহতের মরদেহ নিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনের সড়ক অবরোধ করে। পরে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধে স্বজনরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।
নিহত রোগীর স্ত্রী হাসিনা জানান, অক্সিজেন না দেয়া ও ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর মৃত্যুর বিষয়ে তিনি ও তার ভাগ্নি মুক্তি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সজিবের কাছে অভিযোগ করলে ওই চিকিৎসক উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এ নিয়ে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে চিকিৎসক সজিবের সহযোগীরা তাদের শ্লীলতাহানী করেন এবং জোরপূর্বক হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করেন। এ পরিস্থিতি লক্ষ করে তাদের পুরুষ স্বজনরা প্রতিবাদ করলে তাদের আটক করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. সজিবসহ ২০-২৫জন ইন্টার্নি শিক্ষার্থী তাদেরকে মারপিট করেন। মারপিটে তিনি, তার বড় ছেলে মাসুদ আকন্দ, মেঝ ছেলে রাসেল আকন্দ, ভাগ্নে মিলন আকন্দ, ভাগ্নি মুক্তি, ভগ্নিপতি শামুসর রহমান এবং প্রতিবেশী শাহাদত হোসেন গুরুতর আহত হয়। হাসপাতালের এমন পরিস্থিতির সংবাদ পেয়ে মিডিয়াকর্মীরা ভিডিও ধারণ করতে গেলে ইর্ন্টানি শিক্ষার্থীরা তাদের উপরও চড়াও হন। পরে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ও আটককৃতদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় হাসপাতাল থেকে নিহতের মরদেহ নিয়ে বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে রোগীর স্বজন ও এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় জড়িত চিকিৎসক ও স্টাফদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে আজ শুক্রবার(২৪ মে) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহতের ছোট ভাই হুমায়ন আকন্দ রশিদ সোনা। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে শ্বাস কষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে বড় ভাই মুকুল আকন্দকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৪নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার ভাইকে রেফার করে। আমার পরিবারের লোকজন অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে গেলে কর্তব্যরত মো. সজিব নামের ডাক্তার অক্সিজেন খুলে নেয়। বার বার অনুরোধ করার পরও তিনি রোগীকে অক্সিজেন দেননি। এ সময় কর্তব্যরত স্টাফরাও অক্সিজেন দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর পর ছটফট করতে করতে আমার ভাই মারা যায়। তিনি দোষী চিকিৎসক ও স্টাফদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. সায়েদুর রহমান জানান, ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ করার ঘটনা নিয়ে রোগীর স্বজন ও হাসপাতালের স্টাফদের সাথে সংঘর্ষ হয়েছে। সংবাদ পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ####






সংযুক্তিমূলক সংবাদ ..

  • শাহজালালে সোয়া দুই ঘণ্টা ফ্লাইট ওঠা-নামা বন্ধ থাকবে আজ
  • পদ্মা সেতুর দুই হাজার ৭০০ মিটার দৃশ্যমান হবে আজ
  • মিয়ানমার থেকে আরো এলো পাঁচ ট্রলার পেঁয়াজ
  • রুম্পাকে ছাদ থেকে ফেলে দেয় সৈকত!
  • ময়মনসিংহে মোটরসাইকেল-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ২
  • পারিবারিক বিরোধে স্ত্রী-সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা
  • রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই ডাকাত দলের গোলাগুলি, নিহত ১
  • শতবর্ষী গাছের নিচে চাপা পড়লো প্রাইভেটকার, আহত ৬
  • Leave a Reply