তালার বালিয়ায় ভাঙ্গনকুল রক্ষা বাঁধে অনিয়ম-দূর্নীতি

এসকে রায়হান :: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বালিয়া ভাঙ্গনকূল টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় ৪ কোটি ৮২ লাখ ২৩ হাজার ১৯১ টাকার কাজে ব্যাপক দূর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

প্রকল্পে কোন রকম দায়সারা ভাবে কাজ করে প্রকল্প সম্পন্ন করতে যাচ্ছে সেখানকার কথিত বালিয়া ভাঙ্গনকূল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিঃ।

কপোতাক্ষ নদের সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেশরার বালিয়া, ডুমুরিয়া, শাহাজাতপুর ও খেশরা এলাকার ১২ কিঃমিঃ ভেড়িবাঁধের ভাঙ্গনরোধ ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধিনে টেকসই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ পায় তারা। এলসিএস’র কাজ হয়েছে স্কেভেটরে শুরু থেকেই প্রকল্পে আছর করে নানা দূর্নীতি-অনিয়ম।

১২ কি:মি: প্রকল্প এলাকার ৪/৫ টি স্থান ভেঙ্গে প্লাবিত হতো পুরো অঞ্চল। ২০০৯ সালের আইলায় অঞ্চলের ৯৫০ হেক্টর জমির ৮০০ হেক্টরই লোনা পানিতে তলিয়ে যায়। ভেঙ্গে পড়ে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি এবং লক্ষাধিক বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ মরে সাবার হয়। প্রায় ৩শ’ হেক্টর উঁচু ফসলী জমিতেও ৫/৭ বছরের মধ্যে কোন ফসল হয়নি। শতাধিক পুকুরে এখনও অস্থিত্ব রয়েছে আইলার লোনা পানির। উপযুক্ত রেগুলেটর না থাকায় মৌসুমের বর্ষার পানি সরাতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীদের।

এমন পরিস্থিতিতে দুর্যোগ ঝুঁকি থেকে পরিত্রাণের জন্য ২০১১ সালে এলজিইডি’র ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ উন্নয়ন বিভাগ এ অঞ্চলে প্রকল্পটি গ্রহণে সমীক্ষা পরবর্তী কর্তৃপক্ষ ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যে ১২ কিঃমিঃ ভেড়িবাঁধ এবং ৭.৫ কিঃমিঃ খাল খননের কাজ ৫২ টি এলসিএস দলের ১১০০ শ্রমিকের ৪ মাসের কাজের মাধ্যমে বাস্তবায়নে বালিয়া ভাঙ্গনকূল সাব প্রজেক্ট (এসপি নং-৬১০০১) হাতে নেয়। এছাড়া ঠিকাদারের মাধ্যমে ৩টি রেগুলেটর, ৪টি পাইপ স্লুইস এবং সমিতির অফিস ঘর নির্মাণসহ মাটির কাজ বাস্তবায়নে শর্ত সাপেক্ষে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। যার স্মারক নং ৪৬.০২.৮৭০০.০০০.০০.০০০.১৭.৩২১৪। তাং-০৪.১২.২০১৭।

অভিযোগে প্রকাশ,প্রকল্প বাস্তবায়নে নথি নং-৪৬.০২.০০০০.১৪.০০৩.১৭.৩২০ এর অধিকাংশ শর্ত পূরণ করেনি প্রকল্প বাস্তবায়ন বালিয়া ভাঙ্গনকূল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিঃ। বিশেষ করে পাবসস কতৃক গঠিত মান নিয়ন্ত্রণ উপ-কমিটি উপ-প্রকল্পের গুণগতমান গাইড লাইন অনুযায়ী তদারকী ও অবকাঠামো বাস্তবায়নে যথাযথভাবে অবকাঠামো সমূহের গুণগতমান নিয়ন্ত্রনের কথা থাকলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অজ্ঞাত কারণে তাদের নজরদারি ছিলনা প্রকল্পে।

এছাড়া নথি নং-৪৬.০২.০০০০.১৪.০০৩.১৭.৩২১ এর শর্তানুযায়ী এলসিএস দ্বারা মাটির কাজ বাস্তবায়ন, অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পূর্ত কাজের বিল পরিশোধ, ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী বাঁধ ও খালের মাটি কাজের টপ,বটম,হাইট, এবং স্লোপ,রেফারেন্স লাইন এর কাজ বাস্তবায়ন, ডিজাইনের বাইরে কাজ না করাসহ বিভিন্ন শর্ত থাকে।

এদিকে বালিয়া ভাঙ্গনকুল কাগুজে উপ-প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও আশংকামুক্ত নয় ঐ এলাকা। তবে সমিতির (এলসিএস)একাংশের দাবি, ১২ কিঃমিঃ ভেড়িবাঁধ নির্মাণ হওয়ায় তারা সুফল ভোগ করতে শুরু করেছেন। এছাড়া খাল খননে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা দূর হওয়ায় ১৫০ হেক্টর নিচু জমিতে এখন ফসল ফলছে বলে দাবি করা হলেও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। তবে এলাকাবাসীর আশংকা, বর্ষার আগে রেগুলেটর নির্মাণের কাজ শেষ না হলে পুরো এলাকা ফের পানিতে তলিয়ে থাকবে। বর্ষা মৌসুমের আগে ঠিকাদার রেগুলেটর নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারলে এ অঞ্চলের দুর্যোগ ঝুঁকি অনেকটা নিরসন হবে। তাদের ধারণা, ২৪০০ পরিবারের ৯০০ হেক্টর জমির উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, স্বার্থক হবে সরকারের প্রায় ৫ কোটি টাকার প্রকল্প।

অন্যদিকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এলসিএস গ্রুপের একটি অংশ খুশী হলেও অপর বড় অংশিটির পাশাপাশি খুশী হতে পারেনি সাধারণ এলাকাবাসী। জোনা খাল ২ নং এলসিএস দলের মফিজুল মোড়ল জানান, তাদের দলের ২২ জন শ্রমিক ১ বছর আগে সাড়ে তিন লক্ষ টাকার কাজ শেষ করেছে। অথচ টাকা পেয়েছে মাত্র দেড় লক্ষ। বাঁধ নির্মাণ ৪ নং এলিএস এর সভাপতি বাবলুর রহমান শেখ জানান, তার দল এক বছর আগে ৪.৫ লক্ষ টাকার কাজ শেষ করলেও এ পর্যন্ত মাত্র দেড় লক্ষ টাকা পেয়েছে। আরও কয়েকজন এলসিএস দলের সভাপতি ও সম্পাদক একই অভিযোগ করেন। এনিয়ে এলাকাবাসীর একাংশের দাবি,প্রকল্পে এলসিএস দলগুলোর মাধ্যমে ঝুঁড়ি-কোদাল দিয়ে মাটি কর্তনের কথা থাকলেও মাটি কর্তন ও বাঁধ নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে স্কেভেটর।

এ প্রকল্পের মূল উদ্যোক্তা বালিয়া ভাঙ্গনকুল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানান, ৫২ টি এলসিএস দলের মধ্যে ৪৪ টি দল জুন ২০১৮ এরমধ্যে তাদের কাজ শতভাগ সম্পন্ন করেছে। প্রতিকূল অবস্থার কারণে ৮ টি এলসিএস দল গত বছর কাজ শেষ করতে পারেনি। এ মাসের মধ্যে তাদের কাজ শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তবে তার এমন বক্তব্য বাস্তবতাকে বহুলাংশে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। প্রকৃত পক্ষে এলসিএস সদস্যরা নামমাত্র লোক দেখানো কাজ করলেও মূলত যেটুকু কাজ হয়েছে তার সিংহ ভাগই করা হয়েছে স্কেভেটর দিয়ে। তালা উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী কাজী আবু সাঈদ মোঃ জসিম জনান, সরেজমিন গিয়ে কাজের অনেক ত্রুটি পেয়েছি, যে কাজ গুলো সিডউল’এ থাকার পরে করা হয়নি তার বিল তারা পাবে না।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ কুমার কুন্ডু বলেন, প্রক্রিয়া শেষ হলেই এলসিএস দলের সদস্যরা বকেয়া টাকা পাবেন।






সংযুক্তিমূলক সংবাদ ..

  • তালায় ‘ছাত্র ঐক্য ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা কমিটি ঘোষনা
  • তালায় রেকডীয় জমির গাছ কেটে সাবাড় করেছে দূর্বৃত্তরা
  • তালায় সংবাদকর্মীর মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগ ॥ চার লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি
  • তালায় মৎস ঘের দখল করে নেয়ায় মামলা ॥ বাদী’কে হয়রানীর চেষ্টা
  • তালায় নিম্ন মানের ইট দিয়ে চলছে রাস্তার কাজ: অপসারনে পিআইও’র নির্দেশ অগ্রাহ্য।
  • তালার প্রবীন সাংবাদিক আব্দুল আলিমের দাফন সম্পন্ন
  • তালার প্রবীন সাংবাদিক আব্দুল আলীমের ইন্তেকাল : প্রেসক্লাবের শোক
  • Leave a Reply