মশা’র উপদ্রবে অতিষ্ট জন জীবন !


এসকে রায়হান ::

বাদশাদের বাদশা নমরুদ তীর মেরে হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর শ্রষ্ঠাকে হত্যা করেছে দাবী করে নমরুদ। আল্লাহর তরফ থেকে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে বলা হলো, নমরুদকে সতর্ক করতে। নমরুদ মানলো না। চ্্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে ষ্ঠার ক্ষমতা দেখতে চাইলো। সমবেত হলো ময়দানে। নমরুদ হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে বললেন, কোথায় তোমার শ্রষ্ঠাকে সৈন্যদল ? ইব্রাহীম (আঃ) আকাশের দিকে আঙ্গুল তুললেন। একটি কালো মেঘ দেখা গেলো। যেটি ধীরে ধীরে নীচে চলে এলো এবং ফেরাউন বললো, এতো দেখি ক্ষুদ্র একটি জীব-মশা, তা-ও আবার নিরস্ত্র। কি ক্ষমতা আছে এর ?

এরপর মশাগুলো নমরুদের সৈন্যবাহিনীর নাসিকা দিয়ে মস্তিষ্কে প্রবেশ করলো। সৈন্যদল দ্বিগবিদিক হয়ে আকাশের দিকে তীর ছুঁড়তে লাগলো। এলোপাথাড়ি তরবারি চালাতে লাগলো। এতে মারা গেলো নমরুদের অনেক সৈন্য।

একটি দূর্বল মশা নমরুদের নাসিকা দিয়ে মস্তিষ্কে প্রবেশ করলো। মগজে কাঁমড়াতে থাকলো। জুতা দিয়ে মাথায় পেটালেই কেবল কাঁমড়ানো বন্ধ থাকে। অগত্যা মশার কাঁমড়ের যন্ত্রনা থেকে রক্ষা পেতে নমরুদ একজন কর্মচারী রেখে দিলো। এভাবে বেঁচে থাকলো চল্লিশ বছর। তবুও আল্লাহর ক্ষমতাকে স্বীকার করলো না নমরুদ।
এত এত মশার উপদ্রব আজ সেই ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এমন কোন স্থান নেই , যেখানে মশা নেই। দিনে কিংবা রাতে-সারাক্ষণই মশার প্রতাপে জনজীবন অতিষ্ট। আমাদের দেশে সাধারণত ৩ ধরনের মশা দেখতে পাওয়া যায়। ১. এডিস মশা ২.অ্যানোফিলিস মশা এবং ৩. কিউলেক্স মশা।

স্ত্রী মশারা কেবল ডিম দেওয়ার জন্য তাদের পছন্দের প্রানীর রক্ত খায়। ঙ+ (ও পজেটিভ) গ্রুপের রক্তই মশা বেশী পছন্দ করে। জেনে অবাক হবেন যে, দেশে প্রতিবছর ম্যালেরিয়া রোগে ১০ লক্ষের মতো মানুষের মৃত্যু হয়। আর আফ্রিকায় প্রতি ৪৫ সেকে-ে একজন লোকের মৃত্যু ঘটে। ম্যালেরিয়া স্ত্রী এনোফিলিস জাতীয় মশার কাঁমড়েই হয়ে থাকে।

এছাড়া সবচেয়ে ভয়াবহ মশার নাম এডিস। এর কাঁমড়ে ভাইরাস সংক্রমনজনিত এক ধরনের জ্বও হয়, যা ডেঙ্গু জ্বর নামেই পরিচিত। এডিস মশা সাধারনত বর্ষাকালে বংশ বিস্তার করে। ৪/৫ দিন জমে থাকা পানিতে এরা বংশ বিস্তার করে থাকে।

নতুন করে দেখা দিয়েছে চিকুনগুনিয়া ভাইরাস। এটি মশার মাধ্যমেই ছড়ায়। এই রোগে জ্বরের পাশাপাশি হাঁড় ও অস্থি সন্ধিতে ব্যাথা হয়। জ্বর সেরে যাওয়ার পরও অনেকদিন পর্যন্ত ব্যাথা থাকে।
এনকেফেলাইটিস, এটিও মশাবাহিত ভাইরাস। মস্তিষ্কে প্রদাহ ঘটায়। এশিয়া মহাদেশে এটি এনকেফেলাইটিস নামে পরিচিত। এর প্রভাবে জ্বর, গলা ব্যাথা থেকে শুরু করে খিঁচুনি ও মাংশপেশির দূর্বলতা দেখা দিতে পারে।
তাই, মশা থেকে সাবধান |

মশার থেকে রক্ষাই এসব রোগ সংক্রমনের সবচেয়ে বড় প্রতিকার। এ সময়, অর্থাৎ বসন্তকাল থেকে শুরু হয় মশাবাহিত রোগের প্রোকোপ। বর্ষা কালে সেটি বেড়ে যায়। মশা থেকে বাঁচতে হালকা রঙের কাপড় পরিধান করতে পারেন। বাড়িতে নেট ব্যবহার করতে পারেন। রাতে অবশ্যই মশারি ব্যবহার করবেন। শিশুরা ঘুমালে দিনের বেলায়ও মশারি ব্যবহার করতে হবে। পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দারা অবশ্যই ফুল হাতা জামা ও মশা তাড়ানোর ওষুধ ব্যবহার করবেন। বাড়ির আশে-পাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত সাফ করবেন। বাড়ির আশে-পাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখুন , পানি ও আবর্জনামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করুন।

এবার আসা যাক মশা নিধনে সরকারী পদক্ষেপ প্রসঙ্গে। বাংলাদেশের গ্রাম পর্যায়ে মশা নিধনে সরকারী বড় ধরনের কোন পদক্ষেপ না থাকলেও সিটি করর্পোরেশন ও পেীরসভা এলাকার ডোবা , নর্দমায় কামানের মতো বিকট শব্দের মেশিন দ্বারা মশানাশক মেডিসিন দিতে দেখা যায়।

এ প্রসঙ্গে গত ১৯ ফেব্রুয়ারী হাইকোর্টে চলমান ঢাকা শহরের বায়ু দূষন মামলার কার্যক্রমে বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের উক্তিটি উল্লেখ করতেই হয়। তিনি ঢাকার ২ সিটি করর্পোরেশনের আইনজীবিকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করেন, ‘মশা নিধনে কোটি কোটি টাকা যায় কোথায়’ ?

তিনি আরো বলেন, ‘‘মশার জন্য বাঁচি না। মশা মারতে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্ধ হয়। এই টাকা কই যায়, আল্লাহই ভালো জানেন’’। হ্যাঁ, গ্রামের মানুষ না হলেও শহরের মানুষ বিচারপতির প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে থাকুন, ‘কোটি কোটি টাকা কই যায় ?আপনি এর উত্তর খুঁজে না পেলেও কিন্তু বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের উত্তর দিয়েই দিয়েছেন, ‘‘ আল্লাহই ভালো জানেন’’।






সংযুক্তিমূলক সংবাদ ..

  • গরমের স্বস্তি স্ট্রবেরি স্মুদি
  • আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ধাত্রীবিদ্যা ও স্ত্রীরোগ বিভাগে ফ্রি চিকিৎসা সেবার উদ্বোধন
  • গরমে তরমুজের জুসে শরীরের যত উপকার
  • সুস্থ থাকতে খেজুর খান
  • বিনামূল্যে বিশ্বমানের প্রস্টেট চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে আদ্-দ্বীন
  • জেনে নিন ক্যাপসিকামের অসাধারণ উপকারিতা
  • মরিচ, আদা ও দারচিনি কেন খাবেন?
  • জন্ডিস থেকে বাঁচতে খেতে হবে যেসব ফল
  • Leave a Reply