১১ মের ভোট অবৈধ, ৮০০ অশ্রমিক ছাঁটাই ও লতিফ কমিশনের পদত্যাগ দাবি

সড়ক অবরোধ, কাফনের কাপড় নিয়ে নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষনা শ্রকিদের



সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :: পান সিগারেট বিক্রেতা, জুতা সেলাইকারী, সুইপার, সেলুন কর্মচারিদের মতো অশ্রমিকদের ভোটার তালিকা অনুসরণ করে কোনো গ্রহনযোগ্য নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারেনা। আর যে নির্বাচন কমিশনে গরুর খাটাল ব্যবসায়ী থাকেন এবং যিনি শুরু থেকেই স্বঘোষিত পক্ষপাতদুষ্ট তার নিয়ন্ত্রণে নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করা বৃথা বলে জানিয়েছেন জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন।

এ কারণে শনিবার অনুষ্ঠেয় ইউনিয়নের নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষনা দিয়েছেন শ্রমিক জনতা। তারা বলেছেন কোনোভাবেই পেশাদার মটর শ্রমিক নন এমন ৭০০ থেকে ৮০০ জন অশ্রমিককে নিয়ে নির্বাচন হতে পারে না । তাই ১১ মের নির্বাচন আমরা বর্জনের ঘোষনা দিয়েছিলাম গত ৬ মে। আজ ১১ মে অবরোধ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তা প্রতিহত করবো।

শুক্রবার বিকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে এই ঘোষনা দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। এ সময় লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সভাপতি পদপ্রার্থী শেখ রবিউল ইসলাম রবি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী কাজী আক্তারুজ্জামান মহব্বত। এ সময় ২২ জন প্রার্থীর ১৮ জনই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় ভুয়া ভোটার নিয়ে আমরা ভোট করতে রাজী নই জানিয়ে গত ৬ মে এক সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা দিয়েছিলাম। সাথে সাথে অবৈধ নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবি করেছিলাম এবং নির্বাচন বন্ধের দাবি নিয়ে গত কয়েকদিন যাবত নানা কমৃসূচি পালন করে আসছি। গত ৯ মে তারিখে বিক্ষোভ মিছিল শেষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু এথন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ্এতে আমরা সংক্ষুব্ধ। তা সত্ত্বেও আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আইন শৃংখলা ভঙ্গের কোনো চেষ্টাও করিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন শ্রমিক ইউনিয়নের কাজী মনিরুজ্জামান ও জাহিদুর রহমান নেতৃত্বাধীন বর্তমান নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধু ও জননেত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুরসহ বিভিন্ন মামলার আসামি হলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। প্রার্থী মোজাম, ফারুক ও নাজমুলের বিরুদ্ধে রয়েছে গাছকাটা মামলা। এমন কি তারা পুলিশের সামনে লাটিসোটা নিয়ে বাস টার্মিনালে আস্ফালন করছে। আবার তারাই ভুয়া নির্বাচন করার লোভে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। আমরা এ নির্বাচন মানিনা। আমরা এ নির্বাচন হতে দিতে পারিনা। এই লক্ষ্যে আজ শনিবার ভোর ৬ টা থেকে কাফনের কাপড় মাথায় নিয়ে জেলার সকল সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবো। পরিবহন শ্রমিকরা আমাদের সমর্থনে আজ বাস চালাবেন না।

তারা আরও বলেন কথিত নির্বাচন কমিশনার গরুর খাটাল ব্যবসায়ী আবদুল লতিফ তার পছন্দের একটি পরিষদকে যে কোনোভাবেই হোক বিজয়ী ঘোষনা করা হবে বলে ঘোষনা দিয়েছেন। এমন মন্তব্যকারীর হাতে নিরপেক্ষ ভোট হতে পারে না বলে উল্লেখ করেন তারা। এদিকে নিজে শ্রমিক লীগের সভাপতি , আবার একই ব্যক্তি বাস ্ মালিক সমিতির সভাপতি এমন একজন দোমুখো ব্যক্তি সাইফুল করিম সাবুর নাম উচ্চারণ কররে তারা বলেন তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শ্রমিকদের নির্বাচনের কলকাঠি নাড়ছেন।

এরই মধ্যে তিনি শ্রমিক নেতা শেখ রবিউল ইসলাম রবি, আখতারুজ্জামান মহব্বত, মিরাজুল ইসলাম , আবদুস সালাম ও আরশাদ আলির যে কাঊকে চিরদিনের মতো সরিয়ে দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করে তুলেছেন। এই সাবুর নির্দেশে কালিগঞ্জের শ্রমিক নেতা বাবু নিহত হন বলেও অভিযোগ তোলেন তারা।

সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী কাজী আক্তারুজ্জামান মহব্বত বলেন গত ২ মার্চ সাধারণ সভার মাধ্যমে এড. শেখ মো. ফারুক. শেখ হারুন উর রশীদ ও মো. আবদুল্লাহ সরদারকে নিয়ে তিন সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু বর্তমান কমিটির সভাপতি মীর মনিরুজ্জামান ও সম্পাদক জাহিদুর রহমান জাহিদ শ্রমিক জনমত উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে এড. ফারুক. এড. অনিত ও এড. লতিফকে নিয়ে নতুন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেন।

তাদের তৈরি ভোটার তালিকায় সুইপার, জুতা সেলাইদার, পান দোকানি, চা দোকানি , সেলুন কর্মচারি , কোর্টের মুহুরিকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং নতুন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ায় প্রতিবাদ জানান শ্রমিকরা। কিন্তু চলমান কমিটি কারও কথায় কর্ণপাত না করে খামখেয়ালিপণায় এক তরফাভাবে তফসিল ঘোষনা, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করণ এবং ভোট গ্রহনের তারিখ ঘোষনা করে। তারা বলেন বিতর্কিত কমিশন এমন অবস্থায় ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় ফণীর মধ্যেও গত ৪ মে ভোট গ্রহনের তারিখ ঘোষনা করে অসুস্থ মানসিকতার পরিচয় দেয়।

কিন্তু সাধারন শ্রমিকরা এদিন দুর্যোগের মধ্যে নির্বাচন করার ঘোর বিরোধীতা করেন। অবশেষে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ৪ মের নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়। তবে এরপরই তারা নতুন তারিখ ১১ মে ঘোষনা করেন বলে শ্রমিক নেতারা উল্লেখ করেন। লিখিত অভিযোগে তারা বলেন পক্ষপাতদুষ্ট কমিশনার আবদুল লতিফ প্রকাশ্যে ঘোষনা দিয়ে বলেছেন ‘কিভাবে আরশাদ-মহব্বত জয়লাভ করে তা আমি দেখে নেব’। এমনকি মনি – জাহিদ পরিষদকে নির্বাচিত ঘোষনা করা হবে এমন প্রচারও দিয়েছেন কমিশনার গরুর খাটাল ব্যবসায়ী লতিফ।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন ভোটার তালিকায় রয়েছে ২৫৩৭ জনের নাম। তাদের মধ্যে ৭০০ থেকে ৮০০ জন অশ্রমিক। এসব যাচাই বাছাই করে অশ্রমিকদের বের করে দিতে হবে উল্লেখ করে তারা বলেন নির্বাচন কমিশনের কুরুচিপূর্ন বক্তব্যে প্রমানিত হয় যে তারা পক্ষপাতদুষ্ট, তারা নিরপেক্ষ নন। প্রহসনের এই নির্বাচন তাই প্রতিহত করা হবে। তারা সাধারন সভার মাধ্যমে ফের সাবেক কমিশনকে দায়িত্বে নিয়ে আসার ওপরও জোর দেন।

সংবাদ সম্মেলনে শেখ রবিউল ইসলাম রবি ও কাজী আক্তারুজ্জামান মহব্বতসহ আরও উপস্থিত ছিলেন মো. আরশাদ আলি, শেখ মাকছুদুর আলি, নজরুল ইসলাম, আবদুস সালাম, টিটু, শওকত হোসেন, মিরাজুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম কবির, শেখ মখসুর রহমান,হুমায়ুন কবির স্বপন, আকাশ, সুমন, মিল্টু, মোহিত, ইদ্রিস, বাবু আবদুস সালাম ছোট, প্রমূখ শ্রমিক নেতা।






সংযুক্তিমূলক সংবাদ ..

  • আমার জীবদ্দশায় আমার এলাকার অসহায় দরিদ্র মানুষকে কষ্ট পেতে দেবনা-এমপি রবি
  • সাতক্ষীরায় পৌর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আওয়ামী লীগের ৭০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত
  • বাস মালিক ও শ্রমিক সকলে মিলে কাজ করতে হবে-এমপি রবি
  • সাতক্ষীরায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা
  • সাতক্ষীরা দিবা নৈশ কলেজে নবীন বরণ ও শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের উদ্বোধন করলেন- এমপি রবি
  • ১৮ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে ৪ দিনের আবৃতি কর্মশালা
  •  খেলার মধ্য দিয়ে বাঙালী জাতি এবং নতুন প্রজন্ম বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতাকে চিরদিন স্মরণ করবে-এমপি রবি
  • সাতক্ষীরা জেলা মহিলা বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুন নাহার খাগড়াছড়ির লামায় বদলী
  • Leave a Reply