লাবসায় ওয়াকফ স্টেট সম্পত্তি সরেজমিনে তদন্ত করলেন ওয়াকফ পরিদর্শক

dsc03933

আব্দুর রহমান :: বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা এর নির্দেশক্রমে সাতক্ষীরা সদরের লাবসায় আমির হায়দার ওয়াকফ স্টেট সম্পত্তি সরেজমিনে তদন্ত করলেন রংপুরের ওয়াকফ পরিদর্শক গোলাম সরোয়ার ই আলম।

শুক্রবার সকালে ইসি নং ৪২৭০/আমির হায়দার ওয়াকফ স্টেট এর সম্পত্তির বিবরণ, কারণ ও ব্যাখাসহ তদন্ত প্রতিবেদন করার জন্য তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে তিনি ওয়াককফ স্টেট দাবীকৃত মসজিদ সম্পর্কে স্থানীয় এলাকাবাসী ও লাবসা জমিদারবাড়ী জামে মসজিদেরমুসুল্লীদের সাথে কথা বলেন এবং ওয়াকফ স্টেট এর কথিত মুতাওয়াল্লি দাবিদার মাহমুদা খাতুনের সাথেও কথা বলেন পরিদর্শক গোলাম সরোয়ার ই আলম।

তদন্ত পরিচালনা কালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় লাবসা গ্রামের হারুন উর রশিদের ছেলে হাফেজ জাবির হোসেনকে ওয়াকফকৃত মসজিদের ইমাম সাজিয়ে সকলের সামনে উপস্থাপন করেন মুতাওয়াল্লি মাহমুদা। এসময় পরিদর্শক ও স্থানীয়রা তাকে আদ্যেও
মসজিদের নামাজ পড়ানো হয় কিনা জানতে চাইলে সে বলে, আমি আগে কখনও এখানে নামাজ পড়াইনি বা পড়িনি। তবে আগামী রমজান মাসে আমাকে এখানে তারাবী নামাজ পড়ানোর জন্য বলা হয়েছে।’

এ বিষয়ে মুতাওয়াল্লি মাহমুদা খাতুনের বাড়ীর কর্মচারী তালেবের কাছে জানতে চাইলে বলেন, ‘ওয়াকফকৃত মসজিদে ওয়াক্তের ও জুমআ’র নামাজ হয়না। আমরাও লাবসা জমিদার বাড়ী জামে মসজিদে নামাজ আদায় করি।’

এলাকাবাসী ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে শেখ আব্দুল হাকিম, শেখ ইমামুল হোসেন, কাজী আবতারুল ইসলাম, শেখ মোমিনুল ইসলাম, মীর নাসের আলী, শেখ মঈনুল হক, এড. শহিদুল ইসলাম, শেখ নাসির মাহমুদসহ উপস্থিত সকলেই বলেন, ওয়াকফ স্টেটে’র সম্পত্তিতে নাম মাত্র যে মসজিদের কথা বলা হচ্ছে।

সেখানে আমরা কখনও জুমআ বা ওয়াক্তের নামাজ হতে দেখিনি। ওয়াকফ স্টেটের দাবীকৃত সম্পত্তির ২১ শতক (কবরস্থানসহ) রেকর্ড হলেও তার মধ্যে ৮ শতক জমি অন্যাত্র বিক্রি করা হয়েছে। যা সম্পূর্ন আইন বহির্ভূত। এছাড়াও জোট সরকারের আমলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া’র পুত্র তারেক জিয়ার প্রভাব দেখিয়ে এই ওয়াকফ সম্পত্তির ভোগদখলকারীরা ৩০ ধারায় রেকর্ড
করেছিলেন কিন্তু প্রয়োজনীয় এবং বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে না পারায় আদালত ৩০ ধারা বাতিল করে ৩১ ধারায় ঐ সম্পত্তি স্বাস্থ্য বিভাগ ও অন্যান্য সম্পত্তি স্ব স্ব ব্যক্তি মালিকের নামে রেকর্ড করেছে। এ ধারায় ওয়াকফ স্টেট এর নামে কোন সম্পত্তি রেকর্ড হয়নি। মুতাওয়াল্লি পরিচয় দিয়ে মাহমুদা খাতুন স্বাস্থ্য বিভাগের সম্পত্তিকে বসতবাড়ী গড়ে তুলে জোরপূর্বক ভোগ-দখল করে যাচ্ছে। এছাড়াও স্থানীয় মানুষদের রেকর্ডীয় সম্পত্তি ওয়াকফ স্টেট সম্পত্তি দাবী করে বিভিন্ন মানুষের নামে হয়রাণী মূলক মামলা ও হুমকি প্রদান করে যাচ্ছে।

তদন্ত চলাকালীন সময়ও মুতাওয়াল্লি মাহমুদা খাতুন
স্থানীয় মুসুল্লি ও এলাকাবাসীর উপর চড়াও হয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।

ওয়াকফকৃত এই সম্পত্তির মুতাওয়াল্লি মাহমুদা খাতুন বলেন, ‘আমার এখানে জুমআ’র নামাজ হয়না। এখানে রমজান মাসে তারাবী নামাজ ও ইফতারি দেওয়া হয়। আর এলাকার সব মুসুল্লিরা মিথ্যাবাদি এবং আমার শত্রু। আমার বাড়ী সম্পর্কে যে স্বাস্থ্য বিভাগের কথা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ বিষয়ে ৩১ ধারার স্বাস্থ্য বিভাগের নামে সম্পত্তি রেকর্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন এসব রেকর্ডের দু-পয়সাও মূল্য নেই। আমার বাড়ীতে ইনজাংশান জারি করা রয়েছে।’

এব্যাপারে স্থানীয় এলাকাবসী ও মুসুল্লিরা সুষ্ঠু তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান পূর্বক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।






সঙ্গতিপূর্ণ আরো খবর

  • সাতক্ষীরায় পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোং লিঃ এর মেয়াদ উত্তীর্ণ ৩২ টি চেক প্রদান
  • বিনেরপোতা ত্রিশ মাইলে লবণ সহিষ্ণু জাত বিনা ধান -১০ এর মাঠ দিবস
  • ভিক্ষুকদের কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের জন্য নগদ অর্থ বিতরণ
  • সাতক্ষীরাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ
  • সদরের কোমরপুরে লবণ সহিষ্ণু জাত বিনা ধান ১০ এর মাঠ দিবস
  • শিশু কিশোরদের কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করলেন এমপি রিফাত আমিন
  • সাতক্ষীরা জেলার শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকতা নির্বাচিত হলেন কান্তিলাল সরকার
  • সাতক্ষীরা জেলার শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হলেন মোখলেস আলী