রাজন হত্যা : কামরুলসহ চার আসামির ফাঁসি বহাল হাইকোর্টে

1491898187

সাতক্ষীরা নিউজ ডটকম ডেস্ক :: সিলেটে শিশু শেখ সামিউল আলম রাজনকে হত্যার দায়ে প্রধান আসামি কামরুলসহ চারজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। বিচারপতি ময়না চৌকিদার, তাজউদ্দিন আহমদ বাদল ও জাকির হোসেন পাভেল আহমদ।

এ ছাড়াও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর মিয়ার সাজা হ্রাস করে ৬ মাসের দণ্ড দিয়েছে হাইকোর্ট। ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট এ রায় দেয়।

গত ৩০ জানুয়ারি পেপারবুক পাঠের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এই শিশু হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি হাইকোর্টে শুরু হয়। পেপারবুক পাঠের পর রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। মোট ১৯ কার্যদিবস ব্যাপী হাইকোর্টে এই শুনানি চলে। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল হক সেলিম এবং আসামি পক্ষে আইনজীবী আবুল হোসেন, এমএ শহীদ চৌধুরী, মো. বেলায়েত হোসেন, কেবি শাহরিয়ার প্রমুখ শুনানি করেন। রাষ্ট্রনিযুক্ত কৌসুলি ছিলেন হাসনা বেগম। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ১১ এপ্রিল রায়ের জন্য দিন ধার্য করে দেন।

২০১৫ সালের ৮ জুলাই চুরির অপবাদে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন শেখপাড়ায় নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয় সিলেটের জালালাবাদ থানা এলাকার বাদেয়ালি গ্রামের সবজি বিক্রেতা শিশু রাজনকে (১৪)। রাজনকে নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ছাড়ে নির্যাতনকারীরা। ওই ভিডিও চিত্র প্রচারের পর দেশবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়েন। কিন্তু রাজন হত্যার প্রধান আসামি কামরুল ইসলাম ঘটনার পরই দ্রুত বিদেশে পালিয়ে যায়। ইন্টারপোলের মাধ্যমে গত ১৫ অক্টোবর সৌদি আরব থেকে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনে পুলিশ। পরে দেড় মাসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে ওই বছরের ১৬ আগস্ট ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করা হয় আদালতে।

বিচার শুরু হয় মামলার। ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে এই মামলার বিচার শেষ করে সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আদালত। ওই বছরের ৮ নভেম্বর দেয়া রায়ে মামলার প্রধান আসামি কামরুলসহ চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। মৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন, ময়না চৌকিদার, তাজউদ্দিন আহমদ বাদল ও জাকির হোসেন পাভেল আহমদ। এছাড়া আসামি নূর মিয়ার হয় যাবজ্জীবন সাজা। কামরুলের এই সহযোগীই রাজনকে নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও করেন, তারপর ছড়িয়ে দেন ইন্টারনেটে।

কামরুলের তিন ভাই মুহিত আলম, আলী হায়দার ও শামীম আহমদকে সাত বছর করে দণ্ড দেয় আদালত। এক বছর করে সাজা হয় দুলাল আহমদ ও আয়াজ আলীর। আসামিদের মধ্যে জাকির হোসেন পাভেল এবং কামরুলের ভাই শামীম আহমদ মামলার শুরু থেকেই পলাতক। এরপররই নিম্ন আদালতের ফাঁসির রায় ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি আসামিরা আপিল করেন। এরপরই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলার পেপারবুক প্রস্তুতের নির্দেশ দেন। দ্রুত প্রস্তুত করা হয় পেপারবুক। এরপরই শুনানির জন্য মামলাটি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। হাইকোর্টে আসার পরই দ্রুত এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি গ্রহণ করে আদালত।
-ইত্তেফাক






সঙ্গতিপূর্ণ আরো খবর

  • টঙ্গীতে ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্র খুন
  • খালেদার দুই মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ২৭ এপ্রিল ও ১৮ মে
  • মুফতি হান্নানসহ তিনজনের ফাঁসি কার্যকর মধ্যরাতে!
  • সাতক্ষীরায় ভ্রাম্যমান আদালতে ইয়াবা ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড প্রদান
  • দুই মন্ত্রীর স্ত্রীসহ ৩ জনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
  • আদালতে ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে না আনার নির্দেশ হাইকোর্টের
  • প্রতারণা মামলায় রাগীব আলী ও তার ছেলের কারাদণ্ড