ভয়াবহ এটিএম জালিয়াতি

editorialfeatured

একের পর এক এটিএম কার্ড জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাংকিং খাতের সুরক্ষা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় শীর্ষ প্রতিবেদনে এটিএম কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে রূপালী ব্যাংকের প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এতে বলা হয়েছে, একটি শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা সম্প্রতি রূপালী ব্যাংকের এটিএম কার্ড জালিয়াতির ঘটনা তুলে ধরে প্রতিবেদন দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটিএম কার্ড জালিয়াতির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত গ্রাহকদের অধিকাংশের হিসাবে নামমাত্র কিছু টাকা জমা ছিল। অথচ ওই গ্রাহকদের হিসাবগুলোতে এটিএম কার্ড ব্যবহার করে সর্বনিু ৫০ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা হয়, যা গ্রাহক জানেন না। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখিত আরও উদ্বেগজনক তথ্য হল, একটি চক্র দীর্ঘ সময় নিয়ে রূপালী ব্যাংকের এটিএম কার্ড জালিয়াতির ঘটনা ঘটিয়েছে।

মূলত ২০১৩ সালের জুন থেকে ২০১৫ সালের মে পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ মাস সময় নিয়ে বিপুল অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ চক্রও জড়িত রয়েছে, যে কারণে ব্যাংকের অর্থ লুটপাট হওয়া সত্ত্বেও ওই সময়ে ব্যাংকের অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে তা উঠে আসেনি।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে এটিএম কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার কয়েকটি ঘটনা উদ্ঘাটিত হয়েছে। সর্বশেষ ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের প্রাইম ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে জালিয়াত সন্দেহে এক চীনা নাগরিককে আটক করা হয়। এক্ষেত্রে বিদেশী নাগরিক, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ও দেশী চক্র জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে এটিএম কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে ইবিএল ব্যাংকের ২৪ গ্রাহকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা উদ্ঘাটিত হয়। ওই ঘটনার পর পুলিশ একজন বিদেশী নাগরিক ও তিন বাংলাদেশী ব্যাংক কর্মীকে গ্রেফতার করে।

এতে বোঝা যায়, দেশে এক বা একাধিক জালিয়াত চক্র দীর্ঘদিন ধরে এটিএম কার্ড জালিয়াতিতে লিপ্ত রয়েছে। বিদেশী নাগরিকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে কতিপয় অসাধু ব্যাংক কর্মী এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করছে বলে ধারণা করা যায়। আমরা মনে করি, এদের চিহ্নিতকরণে ও গ্রেফতারে আইনশৃংখলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তৎপরতা জোরদার করা প্রয়োজন।

দেশে বর্তমানে বেশক’টি বেসরকারি ব্যাংক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। ব্যাংকিং সেবায় এসেছে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার। এতে গ্রাহকদের ব্যাংকিং কার্যক্রমে যেমন গতি এসেছে, তেমনি এর কিছু খারাপ দিকও রয়েছে। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সরকারের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকেও জালিয়াত চক্রের ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। ব্যাংকিং খাতে এ চক্রটি এমনভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে যে, তাদের ব্যাপারে কিছু অনুমান করাও কঠিন। এজন্য ব্যাংকগুলোয় নিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রেও নেয়া উচিত বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। ব্যাংকে জালিয়াতি হতে পারে নানাভাবেই। বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্বে ব্যাংকিং খাতে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির ঘটনা বেড়েছে। এমনকি উন্নত প্রযুক্তির দেশ জাপানেও ঘটেছে এটিএম কার্ড জালিয়াতির ঘটনা। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ ধরনের জালিয়াতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এজন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। এ সংক্রান্ত আইন ও সরকারি নীতি সঠিক ও সুদূরপ্রসারী চিন্তা থেকে তৈরি করা প্রয়োজন।