সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মো. জিল্লুর রহমানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের সব গণআন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা এই নেতা ২০১৩ সালের ২০ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন।

জিল্লুর রহমান ১৯২৯ সালের ৯ মার্চ কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে অনার্সসহ এমএ এবং এলএলবি ডিগ্রি লাভকারী জিল্লুর রহমান বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ছেষট্টির ৬ দফা আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি গণআন্দোলনে অসামান্য ভূমিকা পালন করেন।

স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ গণপরিষদ সদস্য হিসেবে সংবিধান প্রণয়নে অংশ নেন তিনি। একই বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জিল্লুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে বাকশালের প্রথম সম্পাদক ছিলেন জিল্লুর রহমান। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর প্রায় চার বছর কারাবন্দি ছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনের পর ১৯৮৪ এবং পরে ১৯৯২ ও ১৯৯৭ সালে তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এ ছাড়া ২০০২ সালে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন তিনি।

জিল্লুর রহমান ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) ছাড়াও ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পাশাপাশি সংসদ উপনেতার দায়িত্ব পালন করেন।

জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী বেগম আইভি রহমান ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে নারকীয় গ্রেনেড হামলায় আহত হয়ে তিন দিন পর মৃত্যুবরণ করেন। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি আইন জারির পর ১৬ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা গ্রেফতার হলে জিল্লুর রহমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে দল পরিচালনা করেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট অবিস্মরণীয় জয়লাভ করে। ষষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি নবম জাতীয় সংসদের সংসদ উপনেতার দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। কিডনি ও মূত্রপ্রদাহে আক্রান্ত হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০১৩ সালের ১০ মার্চ সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে ১৪ মার্চ তার অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন ওই সংসদের স্পিকার মো. আবদুল হামিদ।

জিল্লুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার পরিবারসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে আজ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মরহুমের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতিহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভা। দলের পক্ষ থেকে সকাল ৮টায় রাজধানীর বনানী কবরস্থানে মরহুমের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হবে।



« (পূর্ববর্তী সংবাদ ...)



সংযুক্তিমূলক সংবাদ ..

  • বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেল ধানের শীষ
  • জামিনে মুক্ত জঙ্গিরা নিবিড় নজরদারিতে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • ২ বছর হাসপাতালে, খোঁজ নেয়নি কেউ, ঠাঁই হলো বৃদ্ধাশ্রমে!
  • সংসদে শীর্ষ ৩০০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ
  • ‘আইনের ফাঁক দিয়ে পালাতে পারবে না ডিআইজি মিজান’
  • চট্টগ্রামে জামায়াত নেতার জানাজায় ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষ
  • শেখ হা‌সিনাই আমাদের বড় শ‌ক্তি : ওবায়দুল কাদের
  • ‘মাদ্রাসা নয়, সাধারণ শিক্ষা থেকেই জঙ্গি হয়েছে বেশি’
  • Leave a Reply