সংবাদ সম্মেলনে গ্রামবাসীর অভিযোগ

মুক্তিযোদ্ধা বাবার নাম ভাঙ্গিয়ে সন্ত্রাসী লাল্টু বাবলু বাহিনীর অত্যাচার চরমে



সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :: বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা এই পরিচয় ভাঙ্গিয়ে তার দুই পুত্র লাল্টু ও বাবলু আটটি অপরাধ মামলা ঘাড়ে নিয়েও বীর দর্পে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ঘের ডাকাতি,লুটপাট ,মাদক কারবার কোনকিছুই বাদ পড়ছে না তাদের কবল থেকে। অথচ পুলিশ তাদের ধরছে না। গ্রামবাসীও সাহস করছে না সন্ত্রাসীদের পাকড়াও করতে।

বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে আশাশুনি উপজেলার শরাফপুর গ্রামের আছিরুদ্দিন সরদারের ছেলে হুমায়ুন কবির এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাত হোসেনের দুই সন্ত্রাসী ছেলে লাল্টু ও বাবলুর দাপটে এলাকার মানুষ শান্তিতে থাকতে পারছেন না। মোবাইল ফোনে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। তারা ঘেরের মাছ ডাকাতি করছে। সঞ্জয় দাসের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে ৪ লাখ টাকার মাছ নষ্ট করে দিয়েছে। তিনি বলেন এসব কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য দুই ভাই লাল্টু ও বাবলুকে বারবার সতর্ক করা হয়েছে। তাদের বাবা মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাত হোসেনকেও বলা হয়েছে। সম্প্রতি হুমায়ুন কবিরের ভাই শোভনালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলমগীর হোসেন লাল্টুকে ডেকে নিয়ে শালিস বৈঠক করে হুশিয়ার করে দেন। তারপরও দুই ভাইয়ের অপকর্ম বন্ধ হয়নি।

হুমায়ুন কবির বলেন লাল্টুর বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৮টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় সে দফায় দফায় জেল খেটেছে। সম্প্রতি পুলিশের ভয়ে সে জনসমক্ষে আসতে সাহস করছে না। অথচ তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাত হোসেন বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এবং ইউপি সদস্য আলমগীরের সুনাম ক্ষুন্ন করতে গত ৪ নভেম্বর সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক ভিত্তিহীন সংবাদ সম্মেলন করেন। প্রকৃতপক্ষে সদস্য আলমগীরের কোন সন্ত্রাসী বাহিনী নেই । এমনকি কোন ধরনের মারামারির ঘটনাও সেখানে ঘটেনি। লাল্টু ও বাবলুর অপরাধ ঢাকা দিতে মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাত হোসেন কল্পকাহিনী সাজিয়ে বাজিমাত করার চেষ্টা করেছেন। এখন তারা ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন এবং এলাকার বেশ কয়েকজন সম্মানিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গ্রামবাসী লাল্টু ও বাবলু এবং তাদের বাবার মিথ্যা প্রচারকে ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন তাদের দাপটে এলাকার মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। তারা রাতে ঘেরে ঘুমাতেও পারেন না।

হুমায়ুন কবির সংবাদ সম্মেলনে লাল্টুর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলি তুলে ধরেন। এগুলো হচ্ছে জিআর ১২৪/১৮, ১৯৭৪এর বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫, বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের ৩/৬ সিএস ১৭০(৫২), জিআর ১২১/১৮, জিআর ৮৯/১৮, জিআর ১৭১/১৮, জিআর ১৯৭/৮, জিআর ২৪/০৮, জিআর ৪৫/১৯। এসব মামলার কারনে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী লাল্টু গ্রামে সাধারন মানুষের সামনে আসতে পারছে না। অথচ মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাত হোসেন একটি মিথ্যা তথ্য দিয়ে বলেছেন তাকে গ্রামে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে গ্রামের মানুষ শান্তিপ্রিয়, কোন মুক্তিযোদ্ধা অথবা তার সন্তানদের মারপিটের অভিযোগ বানোয়াট।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শোভনালী ইউপি আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি সঞ্জয় কুমার দাস, সহসভাপতি আবুল হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফারুক হোসেন গাজী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আজহারুল ইসলাম, পরিতোষ দাস, ক্লাব সভাপতি জুলফিকার আলী, আব্দুস সাত্তার, ইউপি ছাত্রলীগ সভাপতি এখলাসুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, তারেক মনোয়ার, রঞ্জন কুমার দাস, শ্রীকান্ত দাস, কালু দাস ও প্রসাদ কুমার দাস সহ গ্রামের সম্মানিত লোকজন।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামবাসী সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেছেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পরিচয় দিয়ে লাল্টু ও বাবলু পুরো এলাকাজুড়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। তারা তাদের গ্রেফতারের দাবি জানান।






সংযুক্তিমূলক সংবাদ ..

  • সাতক্ষীরায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ পালিত
  • আইডিএসইবি’র ৫দফা দাবী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় স্ব-স্ব কর্মস্থলে সার্ভেয়ারদের কালো ব্যাজ ধারন
  • মামলার স্বাক্ষী হওয়ায় মারপিট ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
  • সাতক্ষীরা জজশীপ ক্যান্টিনের শুভ উদ্বোধন
  • সাতক্ষীরা আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে নজিরবিহীন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত : ৪র্থ দিনে অনুপস্থিত ৫৭ জন
  • ‘ক্লিন সাতক্ষীরা গ্রিন সাতক্ষীরা বাস্তবায়নে দুর্নীতিই প্রধান অন্তরায়’ শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতা উদ্বোধন
  • জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খানের স্মরণসভা ও মেডিকেল ভর্তিতে উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা
  • Leave a Reply