‘গরুর দুধে সোনা’ তত্ত্ব দিয়ে বেকায়দায় পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি প্রধান

সাতক্ষীরা নিউজ ডেস্ক :: কেউ বলছেন “এক ভরি গরুর গয়না বানাব”, কেউ একজন দুধ বিক্রেতার ছবি দিয়ে মশকরা করে লিখেছেন ‘এটি আসলে এক স্বর্ণকারের ছবি – দুধের ড্রাম নিয়ে তিনি সোনার দোকানে চলেছেন।’

অনেকে বলেছেন ‘বাংলায় আবার একটি নোবেল আসতে চলেছে।’

কেউ আবার গরুর গায়ে হাত বুলিয়ে দেওয়ার ছবি পোস্ট করে ক্যাপশন দিয়েছেন ‘যাতে আরও একটু বেশি সোনা দেয়, সেই চেষ্টা।’

মঙ্গলবার সকাল থেকে সোনা আর গরুর দুধ নিয়ে এধরণের পোস্টে ফেসবুক ছেয়ে গেছে।

কারণটা ভারতীয় জনতা পার্টির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি ও লোকসভার সদস্য দিলীপ ঘোষের একটি মন্তব্য।

সোমবার তিনি বর্ধমান জেলায় একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, “ভারতীয় গরুর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তার দুধের মধ্যে সোনার ভাগ থাকে। সেজন্য ওই দুধের রঙ একটু হলদে হয়।”

মি. ঘোষ ব্যাখ্যাও করেছেন যে কীভাবে, ‘গরুর দুধে সোনা মেশে।’

“আমাদের দেশের গরুর যে কুঁজ থাকে, সেখানে স্বর্ণনাড়ি থাকে। সেখানে সূর্যের আলো পড়লে সেখান থেকে সোনা তৈরি হয়, তাই দুধের রঙ একটু হলদে – সোনালী হয়,” ব্যাখ্যা দিয়েছেন মি. ঘোষ।

এই বৈশিষ্ট্য শুধু দেশি গরুরই থাকে, বিদেশি গরুর থাকে না। কারণ, মি. ঘোষের কথায়, “বিদেশি গরুর কুঁজ থাকে না। মোষের মতো সমান হয় তাদের পিঠ।”

দিলীপ ঘোষ, সভাপতি, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি

তার বক্তব্যের ভিডিওটি গণমাধ্যমে আর সামাজিক মাধ্যমে দেখানো হচ্ছে।

মঙ্গলবার তিনি বিবিসিকে বলেন, “আমাদের পুজোতে দেশি গরুর দুধ-ঘি-দই লাগে। বিদেশি গরুর দুধ কাজে লাগে না পুজোয়। আর বিদেশি গরু হাম্বা করে আওয়াজও করে না। তাই ওগুলো গরুই নয়।”

“আমি একটু মজা করেই বলেছিলাম, আমাদের দেশি গরু হচ্ছে গোমাতা আর যেহেতু ওগুলো বিদেশি, তাই ওদের আন্টি বলা যেতে পারে।”

এই মন্তব্যের পরেই মঙ্গলবার সকাল থেকে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় মশকরা।

পশ্চিমবঙ্গের একটি বিখ্যাত গয়নার দোকানের নাম উল্লেখ করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন ওই দোকানের মালিক নাকি রাজ্য জুড়ে একশো খাটাল কিনতে চলেছেন।

বেশ কিছু মিম তৈরি হতেও সময় নেন নি নেটিজেনরা।

একটি মিমে পাতন পদ্ধতিতে কীভাবে ‘দেশি গো মাতার দুগ্ধ’ থেকে সোনা নিষ্কাশন করা যেতে পারে, একজন রীতিমতো রসায়নবিদ্যার বইয়ের ডায়াগ্রামের মতো করে দেখিয়েছেন।

একটি প্যারোডি করা হয়েছে কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত ‘অবনী বাড়ি আছো’র অনুকরণে।

দেশি গরু আর বিদেশি গরুর তুলনা করেও তৈরি হয়েছে মীম। যেখানে দেশি গরুর একটি ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে ‘গোমাতা’ আর জার্সি গরুর ছবি দিয়ে নীচে লেখা হয়েছে ‘আন্টি’।

আর দুধ বিক্রেতাদের বানানো হয়েছে স্বর্ণকার।






সংযুক্তিমূলক সংবাদ ..

  • কাশ্মীরে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১৬
  • মালিতে সন্ত্রাসী হামলায় সেনাসহ নিহত ৫৩
  • নামাজ পড়ার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিল জাপান
  • সিরিয়ায় বাগদাদির আস্তানায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান
  • তালেবানের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা শুরু করুন: আমেরিকাকে চীন, পাকিস্তান রাশিয়ার আহ্বান
  • উত্তর সিরিয়ায় ন্যাটোর হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না রাশিয়া: ল্যাভরভ
  • তুরস্ক সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে কুর্দি গেরিলা প্রত্যাহার শুরু
  • Leave a Reply