খালেদা জিয়ার সঙ্গে ড. কামালের সাক্ষাৎ অনিশ্চিত

সাতক্ষীরা নিউজ ডেস্ক :: গত কয়েকদিন ধরে আলোচনা চলছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।

এর অনুমতির জন্য সপ্তাহখানেক আগে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে ফ্রন্টের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। ওইদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার অনুমতিও পেয়েছেন তারা। তবে জানা গেছে, খালেদার সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের দেখা প্রায় অনিশ্চিত। অসুস্থতার কারণে কামাল হোসেন না গেলেও বাকি কয়েকজন শীর্ষ-নেতা বিএনপি  চেয়ারপারসনকে দেখতে যাবেন বলে মানজমিনকে জানিয়েছেন গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া। তিনি বলেন, দেখা করার দিন এখনো ঠিক হয়নি। আমাদের একজন লোক গিয়েছে আইজি প্রিজনের কাছে। তারপর তিনি ডিআইজি প্রিজনকে বলবেন।

সেখান থেকে সময় নির্ধারণ করে দিলেই আমরা যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। কারণ দেখা করার বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের কিছু নিয়ম রয়েছে। সে অনুযায়ী আমাদের জানানো হবে। আর ম্যাডামের আত্মীয়রা কিছুদিন আগে দেখা করেছেন উনার সঙ্গে। এ জন্যই অনুমতি পেতে কিছুটা বিলম্ব হবে।

শোনা যাচ্ছে ড. কামাল হোসেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারবেন না। এমন প্রশ্নে রেজা কিবরিয়া বলেন, হয়তো যেতে পারবেন না। তবে এটা এখনো ঠিক হয়নি। কারণ উনি অসুস্থ। এমনিতেই অনুমতি পেতে আমাদের কয়েকদিন দেরি হচ্ছে। যদি উনি এই সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে যান তাহলে হয়তো যেতে পারবেন। উনার বাম হাঁটুর অবস্থা ভালো না। চিকিৎসার জন্য উনাকে দেশের বাইরে নেয়া হতে পারে।     
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০ অক্টোবর ফ্রন্টের সভায় কামাল হোসেনসহ নেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই প্রস্তাবের কথা ফোনে জানানো হয় ওইসময়ে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেও। তিনিও সম্মতি দেন এবং সর্বসম্মতিক্রমে বিষয়টি সাংবাদিকদের জানানো হয়।
বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, গত ২৩ অক্টোবর কামাল হোসেন অসুস্থ হওয়ার পর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গিয়েছিলেন তাকে দেখতে। সেখানে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও ড. কামাল নাকি দেখা করার জন্য রাজি হননি। যদিও গত ২০ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে উনার উপস্থিতিতেই আ স ম রব খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান। তখন কামাল হোসেন এতে সম্মতিও প্রকাশ করেন।

২০ অক্টোবর ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে উপস্থিত থাকা বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন স্বপন মানবজমিনকে বলেন, ড. কামাল হোসেন লাগাতারভাবেই খালেদা জিয়ার প্রতি নির্মম নির্যাতনের প্রতিবাদ করে আসছেন। মুক্তির দাবিতেও সোচ্ছার ছিলেন। ওইদিনের সভায় ম্যাডামের সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে জেএসডি নেত্রী তানিয়া রব প্রস্তাব করেছিলেন। আর এটা ড. কামাল হোসেনের উপস্থিতিতেই সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়। পরে গণমাধ্যমকেও জানানো হয়। তাই উনার না যাওয়ার কোন কারণ নেই। একমাত্র শারীরিক অসুস্থতার যথাযথ কারণ ছাড়া যদি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে না যান তাহলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরী হবে। এতে করে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলন।   

সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার করা বাংলাদেশের চুক্তির বিষয় নিয়ে বিএনপি নেতারা জোর প্রতিবাদ জানালেও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেনের পক্ষ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। এমনকি ঐক্যফ্রন্টের এক সভায় এক সাংবাদিক চুক্তির বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ড. কামাল হোসেন জানান, আমার কোন প্রতিক্রিয়া নেই। এদিকে বিএনপির একাধিক সূত্র বলেছে, খালেদা জিয়া ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে দেখা করতে সম্মতি জানাননি। তাছাড়া ঐক্যফ্রন্টের অন্যান্য নেতার সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে তিনি সম্মত ছিলেন বলেও জানা গেছে।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে ড. কামাল দেখা করবেন কিনা এই বিষয়ে কিছু জানেন না বলে মানবজমিনকে জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখার করার বিষয়ে বলার মতো তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি। কারণ কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমাদের কল দেয়ার কথা থাকলেও এখনো আমি কোন কল পাইনি। আর শুনেছি কামাল সাহেব অসুস্থ। এই অবস্থায় উনি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করবেন কি না আমার জানা নেই।   

গণস্বাস্থ্য ট্রাস্ট্রির প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মানজমিনকে বলেন, আমরা খুব শীঘ্রই খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি। তবে ডা. কামাল হোসেন খুব অসুস্থ তাই উনি যেতে পারছেন না। আর আমাদের বলা হয়েছে পাঁছ থেকে ছয়জনের বেশি দেখা করতে পারবো না। তাই যারা যাবে এটা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। আর বিএনপির কারা যাবে এটাও এখনো আমাদের জানানো হয়নি।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কামাল হোসেনের বর্তমান শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় ভাল। রোববার সকাল ১০টার দিকে তিনি যথারীতি মতিঝিলের ল’ চেম্বারে যান এবং সেখানে কয়েকটি মিটিংয়েও অংশগ্রহণ করেন।

এদিকে কামাল হোসেনের না যাওয়ার বিষয়টি জানার পর মির্জা ফখরুল দেশে ফিরলে তার সমন্বয়েই বিষয়টি সমাধান করার কথা। কিন্তু গত ২৪ অক্টোবর বিএনপি মহাসচিব দেশে ফিরলেও এ বিষয়ে কোন আলোচনা এখনও হয়নি। রোববার রাতে ঠাকুরগাঁও যাবেন বিএনপির মহাসচিব। সেখানে কৃষক দলের একটি সম্মেলনে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে তার। এদিকে ঐক্যফ্রন্ট নেতা আ স ম রবের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এই বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বাইরে রয়েছেন বলে জানান।

উল্লেখ্য, গত ২৫ অক্টোবর খালেদা জিয়ার মেঝবোনসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য তাকে দেখতে যান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাললে (বিএসএমএমইউ)। তারা দেশের বাইরে নিয়ে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা করানোর কথা জানান। গতকাল মির্জা ফখরুল যুবদলের একটি অনুষ্ঠানে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থ অবস্থায় ফিরে না আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।






সংযুক্তিমূলক সংবাদ ..

  • বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা আর নেই
  • আমরা কেউ ভালো নেই: মির্জা ফখরুল
  • নুসরাতের রায় প্রমাণ করে সরকার পুলিশের ওপর নির্ভরশীল — মির্জা ফখরুল
  • ছাত্র রাজনীতিকে কলুষিত করছে ছাত্রলীগ: আমান উল্লাহ
  • ভোলার ঘটনায় কারা জড়িত খতিয়ে দেখা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • আবরার দেশপ্রেমের প্রতীক: রিজভী
  • যেখানে দুর্নীতি-টেন্ডারবাজি, সেখানে অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • Leave a Reply