যুবলীগ নেতা সম্রাট কারাগারে

সাতক্ষীরা নিউজ ডেস্ক :: অবশেষে গ্রেফতার হলেন বহুল আলোচিত যুবলীগ নেতা ইসমাঈল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। ১৯ দিন আগে ঘটা করে রাজধানীতে পশ্চিমা ধাঁচের উন্নত মানের জুয়া ‘ক্যাসিনো’ বিরোধী অভিযান শুরুর পর পুরোদমে আলোচনায় আসেন সম্রাট। এর আগেও নানা কারণে আলোচিত ছিলেন সম্রাট। কিন্তু সে আলোচনা টানা চলতো না। প্রভাব প্রতিপত্তির কারণে সে সময় আলোচনায় ভাটা পড়তো।
এবার ভিন্ন অবস্থা। তাই ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পর থেকে গত ১৯ দিন ধরে নানা মাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন সম্রাট। সরকারের ‘শুদ্ধি’ অভিযান শুরুর পর থেকে গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতিদিনকার খবরের শিরোনাম ছিলেন তিনি। ক্যাসিনোকান্ডে তার নাম সমাচ্চোরিত হওয়ার শুরু থেকেই তাকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অবৈধ ক্যাসিনো-সহ নানা দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শুদ্ধি’ অভিযান চলছে এবং এই পুরো সময়টা ধরেই আলোচনার শীর্ষে ছিলেন সম্রাট। গণমাধ্যমগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই সম্রাটের অবস্থান এবং কর্মকান্ড নিয়ে নানা ধরণের প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। আশংকাও করা হচ্ছিল নানা মাধ্যম থেকে শেষ পর্যন্ত সম্রাট কি নানা অপরাধকান্ডে ধরা পড়বেন? তার গ্রেফতার কিংবা আটক নিয়েও নানা তথ্য পরিবেশিত হয়েছে।
অবশেষে , নানা জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটলো। পুলিশের এলিট ফোর্স-র‌্যাব সম্রাটকে গ্রেফতার করেছে। শুদ্ধি অভিযানের শুরুটা করেছিল র‌্যাবই। তাই তাদেরকেই দেয়া হয়েছে এককভাবে এই অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব।
সম্রাট ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিনের সভাপতি। ক্যাসিনো চালানোর তথ্য প্রকাশের পর আত্মগোপনে চলে যান তিনি। সম্রাটকে গ্রেফতারের সময় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগি মহানগর যুবলীগ দক্ষিনের সহ সভাপতি এনামুল হক আরমানকে র করে র‌্যাব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গতকাল রোববার বলেন, শনিবার গভীর রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর গ্রাম থেকে সম্রাট ও আরমানকে র করা হয়।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে আলোচনায় ছিল যুবলীগ নেতা সম্রাটের নাম। সেদিন যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূইয়া র হওয়ার পর সদলবলে কাকরাইলে নিজের কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে রাতভর সেখানে ছিলেন সম্রাট। কিন্তু এরপর তিনি নিরুদ্দেশ হন।
র‌্যাবরে অভিযানের সময় মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্রের ভেতরে সম্রাটের বিশাল ছবি দেখা যায়। ওই ক্লাবের ক্যাসিনো তিনিই চালাতেন এবং মতিঝিল ক্লাবপাড়ায় অন্য ক্যাসিনোগুলো থেকেও প্রতিদিন নির্দিষ্ট হারে চাঁদা তার কাছে যেত বলে গণমাধ্যমে খবর আসে।
সম্রাটের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা আরমানও দীর্ঘদিন ধরে ক্যাসিনোর কারবারে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি তিনি ঢাকাই সিনেমাতেও টাকা খাটাচ্ছিলেন।
আরমানের প্রোডাকশন হাউস ‘দেশ বাংলা মাল্টিমিডিয়া’র ব্যানারে প্রথম সিনেমাটি মুক্তি পায় গত কোরবানির ঈদে। ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ নামের ওই সিনেমায় অভিনয় করেছেন শাকিব খান ও বুবলী।
চৌদ্দগ্রাম থানার আলকরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক হেলাল জানান, কুঞ্জশ্রীপুর গ্রামের যে বাড়ি থেকে সম্রাট ও আরমানকে ধরা হয়েছে, সেটি স্টার লাইন পরিবহনের মালিক আলাউদ্দীনের ভগ্নিপতি মনিরের বাড়ি। শনিবার সন্ধ্যা থেকেই বাড়িটি ঘিরে রেখেছিল র‌্যাব।
তবে মনির কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি ইউপি চেয়ারম্যান হেলাল।
সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নেতাদের চাঁদাবাজি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার অসন্তোষ প্রকাশ পাওয়ার পর জুয়ার আখড়া বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভিযান শুরু হয়।
মতিঝিলের ইয়ংমেন্স ফকিরেরপুল ক্লাবে ক্যাসিনো চালানোর ঘটনায় ১৮ সেপ্টেম্বর র করা হয় যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে। পরদিন কলাবাগান ক্লাব থেকে র হন কৃষক লীগের নেতা শফিকুল আলম ফিরোজকে। দুদিন পর নিকেতন থেকে র করা হয় ঠিকাদার জি এম শামীমকে, তিনিও যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন।
‘অপকর্মকারীদের’ বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব অত্যন্ত কঠোর- এমন বার্তা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছ থেকে আসার পর আত্মগোপনে যান সম্রাটসহ যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতা।
তাদের মধ্যে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান, মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বকুল এবং ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মতিঝিলের ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোমিনুল হক সাঈদের নামও এসেছে।
সম্রাট নিরুদ্দেশ হওয়ার পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই তাকে নিয়ে বিভিন্ন রকম খবর আসছিল সংবাদ মাধ্যমে। কিন্তু যুবলীগের অফিস কিংবা বাসা- কোথাও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না।
এরই মধ্যে সম্রাটের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব তলব করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইনানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-বিএফআইইউ।
ক্ষমতাসীন দলের যুব সংগঠনের এই নেতাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আটক করেছে বলে এর আগেও বিভিন্ন সমেয়ে শোনা গেছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা স্বীকার করেনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলে আসছিলেন, ‘সম্রাট হোক আর যেই হোক’, অপরাধ করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
ইসমাইল হোসেন যেভাবে সম্রাট
ইসমাইল হোসেন চৌধুরী। সম্রাট তার খেতাব। শুধু নামে নয়, চালচলনও সম্রাটের মতোই তার। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ক্যাসিনো কান্ড, কোথায় পদচারণা নেই তার। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা। নেতা-কর্মী-সমর্থকে বেষ্টিত থাকেন সব সময়। আন্ডারওয়ার্ল্ডে তার একচ্ছত্র দাপট। এ লাইনে গুরু তিনিই। রয়েছে একাধিক শিষ্য।
এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় সম্রাটের রাজনৈতিক জীবন শুরু। সেটা ১৯৯০ সাল। সেই সময় তিনি ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের রমনা অঞ্চলে সংগঠকের দায়িত্বে ছিলেন। এ কারণে তখন নির্যাতনসহ জেলও খাটতে হয় তাকে। এরপর থেকেই ‘সম্রাট’ খ্যাতি পান।
ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাটের পৈত্রিক নিবাস ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের পূর্ব সাহেবনগর গ্রামে। তার পিতার নাম ফায়েজ উদ্দীন চৌধুরী। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার বড় সম্রাট।
১৯৯১ সালে ছাত্রলীগে থাকা অবস্থায় এরশাদের পতনের পর ক্ষমতায় আসে বিএনপি সরকার। সে আমলে সম্রাটের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। এরপর ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যুবলীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। ১/১১-এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সময় সম্রাট যুবলীগের প্রথমসারির নেতা ছিলেন।
সম্রাটের চাঁদাবাজির হাতেখড়ি ২০০১ সালে। সংগঠন চালানোর নামেই চাঁদাবাজিতে নামে তিনি। এ সময় বিভিন্ন অফিসে, বিভিন্ন লোকের সঙ্গে যোগাযোগ শশুরু করেন। ব্যবসায়ীক মহলের যোগাযোগ গড়ে ওঠে তার।
২০০৬ সালের পর যখন ওয়ান ইলেভেন আসে সেই সময় সম্রাট আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন। এ সময় দল পরিচালনা করা, যুবলীগের ঢাকা মহানগরীকে ঠিক রাখার মূল কান্ডারি ছিলেন ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। এরপর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে রাতারাতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট বড় ফ্যাক্টরে পরিণত হন। বিশেষ করে মতিঝিল পাড়ায় তার একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম হয়। দ্রুতই মতিঝিল পাড়া তার দখলে চলে যায়।
এই সময়েই তার সঙ্গে সিঙ্গাপুরের কানেকশন হয়। সিঙ্গাপুরে যে ক্যাসিনো বাণিজ্য এবং নানারকম ব্যবসা বাণিজ্যের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। একদিকে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির কাঁচা টাকা অন্যদিকে সিঙ্গাপুরের হাতছানি দুইয়ে দুই মিলিয়ে সম্রাট নগরীতে আত্মপ্রকাশ করে। এরপর সবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যান ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। সম্রাট সাংগঠনিক কর্মকান্ডের চেয়ে অর্থ উপার্জনের দিকেই বেশি মনোনিবেশ করেন।
সম্প্রতি ক্যাসিনো চালানো, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজিসহ সব অভিযোগের তীর এখন যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের দিকে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি রাজধানীর মতিঝিলসহ দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার সরকারি দপ্তর, ক্লাবসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকান্ড তার নিয়ন্ত্রণে।
১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার হন দক্ষিণ যুবলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। চার মামলায় তাকে রিমান্ডে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ব্যবসায় খালেদের ‘গুরু’ হিসেবে পরিচিতি রয়েছে সম্রাটের। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সম্প্রতি প্রকাশিত খবরে সম্রাটকে ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে উল্লেখও করা হয়েছে। সম্রাটের ইশারায় ঢাকার বেশকয়েকটি ক্লাবে ক্যাসিনো ব্যবসা চলে। সেখান থেকে নিয়মিত চাঁদা সংগ্রহ করেন তার সহযোগীরা। এ কাজ চালিয়ে যেতে প্রভাবশালীদের টাকা দিতেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর থেকে জানা গেছে, সম্রাট একজন পেশাদার জুয়াড়ি এবং এ কারণে সিঙ্গাপুরে যাতায়াত আছে তার। মাসের এক-তৃতীয়াংশ সময় জুয়া খেলতে সিঙ্গাপুরে কাটান তিনি। সেখানের মারিনা বে স্যান্ডস ক্যাসিনোতে সম্রাট একজন বিশিষ্ট জুয়াড়ি বলে জানা গেছে। সিঙ্গাপুরে গেলে বিমানবন্দর থেকে তাকে বিলাসবহুল লিমুজিন গাড়িতে করে ওই ক্যাসিনোতে নিয়ে যাওয়া হয়। সিঙ্গাপুর সফরের সময় আরমানুল হক ও মোমিনুল হক মোমিনসহ যুবলীগের একাধিক নেতা সম্রাটকে সঙ্গ দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ওয়ার্ড নেতা থেকে যেভাবে উত্থান
দুই যুগ আগে সাধারণ একজন ওয়ার্ড নেতা থাকলেও ক্যাসিনো কারবার থেকে এখন বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট।
যুবলীগ দক্ষিণের সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানকে সঙ্গী করে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার ক্যাসিনো ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন সম্রাট। অবশেষে দুইজনই আটকা পড়েছেন র‌্যাবের জালে।
সম্রাটের উত্থান নিয়ে সঙ্গে কথা বলেছেন সাম্প্রতিক সময়ে কোনঠাসা হয়ে থাকা যুবলীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা। তিনি জানান, সম্রাটের বেড়ে ওঠা মতিঝিল আর রমনা এলাকায়। তার বাবা ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মচারী। তিন ভাইয়ের মধ্যে সম্রাট দ্বিতীয়।
১৯৯৩ সালে ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পান সম্রাট। সে সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম যুবলীগের চেয়ারম্যান ছিলেন।
ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েই বেপরোয়া হয়ে উঠতে থাকেন সম্রাট। নিজের ওয়ার্ড সভাপতি লুৎফুর রহমানকে প্রহারের অভিযোগও উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। কিন্তু ওই ঘটনায় সম্রাটসহ তিনজনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হলেও পরে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। তবে তারপর থেকে মতিঝিলের ক্লাব পাড়ায় সম্রাটের আনাগোনা বেড়ে যায়।
নাম প্রকাশ করতে না চাওয়া ওই যুবলীগ নেতা বলেন, “২০০৩ সালে যুবলীগের কাউন্সিলে জাহাঙ্গীর কবীর নানক ও মির্জা আজম দায়িত্ব পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সম্রাটের আসা-যাওয়া বেড়ে যায়।” তখনই ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পান মহিউদ্দিন মহি এবং সাধারণ সম্পাদক হন নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন। সে সময় মহির সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে শাওন নিজের হাত শক্ত করতে সম্রাটকে দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক করেন।
শাওনের বিশ্বস্ত হিসেবেই সম্রাট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সাল থেকে ঢাকা সিটি কর্পোরশনের দরপত্র নিয়ন্ত্রণ করতেন।
২০১২ সালে ওমর ফারুক চৌধুরী যুবলীগের চেয়ারম্যান হওয়ার পর সম্রাট ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি হন। সভাপতির দায়িত্ব নেয়ার পর আরমানকে সহ-সভাপতি করে নেন তিনি। আরমান অতীতে কখনই আওয়ামী লীগ বা এর কোনো সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। সম্রাট এবং আরমান নিজেদের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে উভয়কে ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
যুবলীগের একাধিক নেতা বলেন, ঢাকা মহানগর উত্তরের অন্তর্গত মৎস্য ভবন, বিদ্যুৎ বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সকল সরকারি দপ্তরের দরপত্রও সম্রাটের নিয়ন্ত্রণে ছিলে। আর সম্রাটের পক্ষে এসব বিষয় দেখভাল করতেন আরমান।
ঢাকার দুটি বাসায় সম্রাটের দুই স্ত্রী তাদের সন্তানদের নিয়ে থাকেন বলে র‌্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে আরমানের পরিবার সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য কেউ দিতে পারেননি।
কুমিল্লায় আত্মীয়র বাসায় লুকিয়ে ছিলেন ৩ দিন ধরে
সম্রাট ও এনামুল হক আরমানকে কুমিল্লায় যে বাসা থেকে র করা হয়েছে, সেখানে তারা ছিলেন গত তিন দিন ধরে। তাদের র করতে ‘অনেক কষ্ট করতে’ হয়েছে মন্তব্য করে র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, “আত্মগোপনে থাকার জন্য সম্রাট বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছিল। মূলত ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে আমরা তাদের র করেছি।”
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর গ্রামের ওই বাড়ি থেকে শনিবার গভীর রাতে র করা হয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি সম্রাট ও সহ-সভাপতি আরমান।
ওই বাড়ির মালিক মনির হোসেন স্টার লাইন পরিবহনের একজন পরিচালক, তিনি সম্রাটের দূর সম্পর্কের খালাতো ভাই। সম্রাট আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নেতা হলেও মনির অন্য দলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত বলে আলকরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক হেলাল জানান। তিনি বলেন, মনিরের স্ত্রীর ভাই হাজী আলাউদ্দিন স্টার লাইন পরিবহনের মালিক এবং ফেনী পৌরসভার মেয়র। আলাউদ্দিন এক সময় জাতীয় পার্টি করলেও এখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছেন। “ওই বাসায় মনির বা তার পরিবারের কেউ থাকত না। সেখানে যে সম্রাট বা আরমান আছে, এটাও আমরা জানতাম না। তবে ফেনী পৌরসভার মেয়র আলাউদ্দিনকে গত ২/৩দিন ঘনঘন ওই বাড়িতে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।”
আলাউদ্দিন বলেছেন, মনিরের বাসায় সম্রাটের অবস্থান করার খবর তারও ‘আগে জানা ছিল না’। শনিবার র‌্যাবের অভিযানের খবর জানার পর রাত ১১টার দিকে মনিরকে ফোন করেছিলাম। সম্রাট কেন তার বাসায়, তা জানতে চেয়েছিলাম। “মনির আমাকে বলেছে, তিন দিন আগে তারা (সম্রাট ও আরমান) ওই বাসায় গেছে। রোববার সকালেই তারা ঢাকা ফিরে যাবে বলে জানিয়ে রেখেছিল। তার আগেই র‌্যাব তাদের র করে।”
এক প্রশ্নের জবাবে আলাউদ্দিন বলেন, ওই বাসা অধিকাংশ সময় ফাঁকাই থাকে। মনিরের পরিবার থাকে ঢাকায়।
সম্রাট বা আরমানের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই দাবি করে আলাউদ্দীন বলেন, “গত বৃহস্পতিবার আমি বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছি। আমি তাদের বিষয়ে কিছু জানি না।”
তাদের রের পর জিজ্ঞাসাবাদ করেন র‌্যাব কর্মকর্তারা। পরে তাদের নিয়ে আসা হয় ঢাকায়। কাকরাইলে সম্রাটের অফিস, শান্তিনগর ও মহাখালীতে তার দুই বাসায় এবং মিরপুর ২ নম্বরে আরমানে বাসায় গতকাল রোববার দুপুর থেকে শুরু হয় র‌্যাবের অভিযান।
র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ দুপুরে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “ক্যাসিনোতে অভিযান শুরুর দুই দিনের মধ্যে সম্রাট আত্মগোপনে চলে যায়। ক্যাসিনোর সাথে আরও যারা জড়িত, তাদের খুঁজে বের করতে র‌্যাব কাজ করছে। যেই এর সাথে জড়িত হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
সম্রাটের অফিসে অস্ত্র, ইয়াবা, ক্যাঙ্গারুর চামড়া
সম্রাটের কাকরাইলের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, ইয়াবা, একটি পিস্তল ও দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে র‌্যাব। সম্রাটকে সঙ্গে নিয়েই একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গতকাল রোববার দুপুর থেকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা র‌্যাবের এই অভিযান চলে।
সম্রাট ও আরমানকে রের পর তাদের ঢাকায় র‌্যাব সদরদপ্তরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে বেলা দেড়টার দিকে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে তার অফিসে ঢোকেন র‌্যাব সদস্যরা।
একই সময়ে শান্তিনগরে শেলটেক টাওয়ারের পঞ্চম তলায় এবং মহখালী ডিওএইচএসের ২৯ নম্বর সড়কে সম্রাটের দুটি বাসায় এবং মিরপুর দুই নম্বর সেকশনে অভিযান শুরু করে র‌্যাব।
কাকরাইলের অফিসে অভিযান শেষে টি ক্যাঙ্গারুর চামড়া, এক হাজারের বেশি ইয়াবা, বেশ কিছু মদের বোতল এবং একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সেখানে কিছু বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পাওয়া গেছে জানিয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম জানান, সেগুলো নির্যাতন করার কাজে ব্যবহার করা হত বরে তাদের ধারণা।
মহাখালীতে অভিযান শেষে র‌্যাব-২ অধিনায়ক আশিক বিল্লাহ বলেন, সম্রাটের দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন চৌধুরী ছাড়াও শারমিনের ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ওই বাসায় থাকেন। তল্লাশি চালিয়ে অবৈধ কিছু সেখানে পাওয়া যায়নি। “শারমিন বলেছেন, সম্রাট গত কয়েক বছর ধরে এই বাসায় যান না। তবে প্রতিমাসে দেড় লাখ টাকা করে খরচ দিয়ে আসছিলেন।”
বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শন্তিনগরের অভিযান শেষ করে সেখানে ‘কিছু টাকা আর ক্রেডিট কার্ড’ পাওয়ার কথা জানিয়ে র‌্যাব-৩ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শফিউল্লাহ বুলবুল বলেন, “এর বাইরে সিগনিফিকেন্ট কিছু আমরা পাইনি।”
মিরপুরে আরমানের বাসায় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অভিযান চলছিল বলে র‌্যাব-৪ অধিনায়ক মো. মোজাম্মেল হক জানান।
সম্রাট ও আরমানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৬ মাস করে সাজা
সম্রাট ও আরমানকে ছয় মাস করে কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর মধ্যে সম্রাটের সাজা হয়েছে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইনে, তার কাকরাইলের অফিসে দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়ার কারণে।
আর কুমিল্লায় গ্রেফতারের সময় আরমান ‘মদ্যপ’ থাকায় তাকে সেখানেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে র‌্যাবের নির্বাহী হাকিম সারওয়ার আলম জানিয়েছেন।
সম্রাটের ক্যাসিনো গুরু কে এই আরমান?
নোয়াখালীর এনামুল হক আরমান। এক সময় সিঙ্গাপুর থেকে লাগেজ আনার কাজ করতেন। এ সূত্রেই পরিচয় ঘটে ক্যাসিনোর সঙ্গে। পরবর্তীতে সম্রাটকে এই ব্যবসার ধারনা দেন তিনিই। বর্তমান ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সহসভাপতি আরমান ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের ক্যাসিনোর টাকার সংগ্রাহক তথা ক্যাশিয়ার। তবে ক্যাসিনো কারবারে আরমানকে গুরু বলে মানেন সম্রাট।
এছাড়া আরমান চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন। সম্প্রতি জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খানকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে রেখে দুটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে তিনি লগ্নি করেছেন কয়েক কোটি টাকা। নিজেই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান খোলেন। ‘দেশ বাংলা মাল্টিমিডিয়া’ নামের চলচ্চিত্র প্রোডাকশন হাউসের প্রধান কর্ণধার আরমান।
গত ঈদুল আযহায় মুক্তি পাওয়া শাকিব খান ও বুবলী অভিনীত ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ সিনেমাটির প্রযোজক আরমান। এটি আরমানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের প্রথম ফিল্ম। এরপর শাকিব খানের বিপরীতে নবাগতা এক নায়িকাকে নিয়ে ‘আগুন’ নামের দ্বিতীয় ফিল্মের কাজও শুরু হয় আরমানের প্রযোজনায়।
সম্রাটের স্ত্রীরা কে কোথায়?
সম্রাটের ব্যক্তিজীবন নিয়ে জনমনে নানা কৌতূহল। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের জানা যায়, যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাটের তিনজন স্ত্রী রয়েছেন। একজন বিদেশি স্ত্রী আছে বলেও জানা গেছে।
সম্রাটের পরিবার সূত্র জানা গেছে, সম্রাটের দুই স্ত্রী। প্রথম পক্ষের স্ত্রী বাড্ডায় থাকেন। প্রথম পক্ষে সম্রাটের এক মেয়ে। তিনি পড়াশোনা শেষ করেছেন।
সম্রাটের দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন চৌধুরী মহাখালীর ডিওএইচএসে থাকেন। তার এক ছেলে। তিনি মালয়েশিয়ায় এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।
সিঙ্গাপুরে সম্রাটের বিদেশি একজন স্ত্রী আছে বলেও পারিবারিক সূত্র জানায়। তবে ওই স্ত্রীর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সম্রাট মহাখালীতে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসাতেই স্থায়ীভাবে থাকতেন।
স্ত্রীর চোখে সম্রাট
সম্রাট ব্যক্তিজীবনে কেমন, তার সম্পদের পরিমাণ, দলের প্রতি মনোভাব, আগ্রহের দিকসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন এই যুবলীগ নেতার স্ত্রী শারমিন চৌধুরী। তার মতে, সম্রাট সম্রাটই, তার চলাফেরা অন্য নেতাদের থেকে আলাদা।
সম্রাটপত্নীর ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু জুয়া ছাড়া অন্য কিছুর নেশা নেই যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতির। এই জুয়া খেলার জন্য সিঙ্গাপুর যেতেন তিনি। সেখানে একটি বিয়েও করেছেন।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার একটি বাড়ি থেকে এক সহযোগীসহ সম্রাটকে বের করে র‌্যাব। এরপর দুপুর দেড়টায় সম্রাটকে নিয়ে কাকরাইলে তার অফিসে যায় র‌্যাব। একইসঙ্গে শান্তিনগরের শেলটেক টাওয়ারের পঞ্চম তলায় এবং মহখালী ডিওএইচএসের ২৯ নম্বর সড়কে সম্রাটের দুটি বাসায় অভিযান শুরু হয়। মহাখালীর ওই বাসায় থাকেন সম্রাটের স্ত্রী শারমিন চৌধুরী। অভিযানের মধ্যেই সেখানে সাংবাদিকরা ভিড় করেন। তাদের কাছে নিজের পরিচয় দিয়ে কথা বলেন তিনি।
সম্রাটের স্ত্রী বলেন, “আমার নাম শারমিন চৌধুরী। ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের মিসেস। ১৯ বছর আগে সম্রাটের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছে। আমাদের সংসারে একটা ছেলে আছে, সে দেশের বাইরে থাকে।”
সম্রাটের র হওয়ার খবর শুনেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ও অ্যারেস্ট হয়েছে সেটা শুনেছি। কিন্তু ও যে ‘ক্যাসিনোর গডফাদার’ সেটা আমি জানতাম না। আমি জানতাম সে যুবলীগের ভালো একজন নেতা। ঢাকা শহরের এবং ঢাকা দক্ষিণের সবাই জানে সে ভালো একজন নেতা।”
গত দুই বছর ধরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ‘ততোটা ভালো না যাওয়ায়’ সম্রাটের ক্যাসিনো কারবার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা ছিল না বলে দাবি করেন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, “ওর সম্পদ বলতে কিছুই নাই। ও ক্যাসিনো চালায়া যা ইনকাম করে তা দলের জন্য খরচ করে। দল চালায়। আর যা থাকে তা দিয়ে সিঙ্গাপুরে বা এখানে জুয়া খেলে।” ও যে ক্যাসিনো চালিয়ে দল চালায় সেটা তার জনপ্রিয়তা দেখে বোঝা যায়। ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের মতো এত জনপ্রিয়তা ঢাকা শহরে কারও নাই। উত্তরেও একজন আছেন নিখিল নামে। তার তো এতো জনপ্রিয়তা নাই।” জুয়া খেলা নিয়ে কখনও নিষেধ করতেন কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল শারমিনের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, “আমার সাথে ওর একটু মিলতো কম। ও ছেলে-পেলে নিয়ে বেশি সময় কাটাত। ও কিন্তু শুরু থেকেই সম্রাট। নাম যেমন তেমনই শুরু থেকেই সম্রাট।“অন্য যে সহ-সভাপতি বা নেতারা আছে তাদের মতো ও না। তার চলাফেরা ভালো। ও ধীরে ধীরে কীভাবে ক্যাসিনোতে আসলো এটা আমি জানি না। তবে ওর জুয়া খেলার নেশা আগে থেকেই ছিল।”
বিভিন্ন নারীর সঙ্গে তাকে দেখা যেত কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শারমিন বলেন, “না বিভিন্ন নারীর সঙ্গে নয়। দুই বছর ধরে আমাকে সিঙ্গাপুরে নিচ্ছে না। ওখানে মনে হয় চায়না মালয়েশিয়ান বর্ন একটা নারীর সঙ্গে সম্পর্ক হইছে। সেখানে গেলে ওর সঙ্গেই সময় কাটায়।”
যুবলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার পরে সম্রাটের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে কি না, স্ত্রীর কাছে তা জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি বলেন, “তিন-চার বছর ধরে ক্যাসিনোটা। এর আগে এসব ছিল না। আগে সে ঠিকাদারি করত। দলের সবার সঙ্গে ও ভালো ব্যবহার করে, তাদের সঙ্গে একটা বন্ড আছে।“ও মাঝে মধ্যে সিঙ্গাপুর যেত, সেখানে যেত জুয়া খেলতে। জুয়া খেলা তার নেশা। কিন্তু সম্পত্তি করা তার নেশা না।”
সম্রাটের ঢাকায় সম্পদের পরিমাণ জানতে চাইলে স্ত্রী বলেন, শান্তিনগরের শেলটেক টাওয়ারের ফ্ল্যাট, মহাখালীর এই বাসায় এবং কাকরাইলে অফিসের ফ্লোরটি সম্রাটের। তার আর কোনো বাড়ি বা ফ্ল্যাটের খবর তার জানা নেই।
কাকরাইলের নয় তলা ভূইয়া ট্রেড সেন্টারে শুধু সম্রাটেরই অফিস। পুরো ভবন তারই কি না তা জানতে চাইলে শারমিন বলেন, “না। চতুর্থ তলায় অফিসের ফ্লোরটি শুধু তার। ওই ভবনে ঢুকতে গেইটে যে কড়া চেক হত, সে কারণে বিল্ডিংয়ে আর কেউ উঠত না।”
শারমিন চৌধুরী বলেন, কিছু দিন ধরে সম্রাট এই বাসায় আসতেন না। তিনি কাকরাইলের অফিসে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে আসতেন। “আমি প্রকাশ্যে আসি, কিংবা ক্যামেরার সামনে আসি, কিংবা রাজনীতি করি এটা সে পছন্দ করত না। সে চাইত যেন আমি হাউজ ওয়াইফ হয়ে থাকি। আমি শুরু থেকেই নামাজটা পড়ি। ঘরে থাকা পছন্দ করি, সে আমাকে এভাবেই রাখছে।”
ক্যাসিনো ও জুয়াবিরোধী অভিযানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান সম্রাটের স্ত্রী।“আমি সবার আগে ধন্যবাদ জানাব, দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে। ব্যক্তিগতভাবে তাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাব। আর এই অভিযানটা যদি আরও আগে করা যেত, তাইলে আরও ভালো হত।”
সম্রাটপত্নী বলেন, “আমি যখন বিয়ে করছি তখন জুয়া জিনিসটা কী আমি জানতাম না। এতো বড় বড় যে খেলার জায়গা আছে আমার মাথায়ই ছিল না।”
কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে সম্রাট
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ এর ধারা ৩৪(খ) এর আওতায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের হবে। সম্রাটকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়েছে গতকাল রোববার রাত ৮টা ২০ মিনিটে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার জাহিদুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানকেও ছয় মাসের কারাদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাকে কুমিল্লা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরওয়ার আলম।






সংযুক্তিমূলক সংবাদ ..

  • ক্রিকেটারদের সব দাবি মানা হবে: পাপন
  • শিক্ষকদের মহাসমাবেশে পুলিশের বাধা
  • সাংবাদিকরা মানুষের মনন তৈরি করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে: ড. হাসান মাহমুদ
  • ভেঙে যাচ্ছে মেননের ওয়ার্কার্স পার্টি!
  • সড়ক নিরাপদ রাখার দায়িত্ব সকলের : প্রধানমন্ত্রী
  • বেনাপোলে ৭টি সংগঠনের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
  • ময়মনসিংহের সেই লাগেজে মিলল লাশ
  • শপথ নিলেন হাইকোর্টের ৯ অতিরিক্ত বিচারপতি
  • Leave a Reply