বর্ণিল সাজে সেজেছে সাতক্ষীরার ৫৮৪ দুর্গাপূজার মন্ডপ

ইব্রাহিম খলিল :: সনাতন ধর্মালম্বীদের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব (দূর্গাপূজা) কে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরায় সদরে ১০৫ সহ জেলায় সর্বমোট ৫৮৪ টি মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। আগামী ৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ষষ্ঠীর মধ্যে দিয়ে শারদীয় দূর্গাৎসব শুরু হবে। বাকি আছে মাত্র ৯ দিন, সাতক্ষীরা সদর সহ জেলার অধিকাংশ মন্দিরে চলছে তারই শেষ প্রস্তুতি। কারিগরেরা ব্যস্ত সময় পার করছে প্রতিমার সৌন্দর্য বর্ধনে। তাই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিমা কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছে। দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণভাবে সাজাতে মন্দিরগুলোতে দিনরাত মিলিয়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সদরের মন্দির গুলোতে চলছে প্রতিমা তৈরীর ধূম। সরজমিনে সদরের রসুলপুর,আলিপুর,ভোমরা,কাথন্দা,ছয়ঘোরিয়া,সোনাবাড়িয়া,ঝিটকি,ধুলিহর,নলতা,দোবহাটা,বাকা,বুধহাটা এলাকা ঘুরে দেখা যায় অধিকাংশ মন্দির গুলোতে মায়ের আগমন উপলক্ষে ইতিমধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। অধিকাংশ মন্দির গুলোতে চলছে রং তুলির আঁচড় লাগানোর কাজ। এদিকে পুরাতন সাতক্ষীরা মায়েরবাড়ী সার্বজনীন পূজামন্দিরের সভাপতি বিশ^ নাথ ঘোষ বলেন আমাদের পূজা ম-লে এবার প্রতীমা তৈরির কাজ করছে আশাশুনি থেকে আসা কারিগর (মৃৎশিল্পি) অমর কুমার ঢালি। অমর কুমার ঢালির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বংশ পরম্পরায় এ পেশায় জড়িত আছে সে। বাপ দাদাদের কাছেই শেখেন কাদা মাটি আর খড় দিয়ে কিভাবে প্রতিমা তৈরির কাজ করতে হয়। জানান তিনি ইতিমধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় বাকি আছে রং তুলির কাজ, তবে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হবে। তিনি বলেন এই বছর তিনি ৪টি মন্দিরে প্রতিমা তৈরি করেছেন। একটি মন্দিরে প্রতিমা তৈরিতে তারা সাধারণত ৪০-৬০ হাজার টাকা মুজুরি পেয়ে থাকে। বর্তমানে দারুণ শ্রমিক সংকটের কথা জানালেন তিনি। বর্তমানে এই পেশায় শ্রমিক পাওয়া যায় না। তিনি সহ মোট ৪ জন মৃৎশিল্পি এই বছর কাজ করছে একসাথে। তিনি জানান মায়ের বাড়ি মন্দিরে এই বছর মানুষ মূুর্তির সংখ্যা আছে ২২৭টি এবং সবমিলিয়ে প্রতিমা আছে ২৫০টি। আন্যদিকে ঝিটকি এলাকার কারিগর অজয় পাল বলেন, বছরের সব সময় কাজ থাকে না তাই অধিকাংশ সময় বেকার থাকতে হয়। কিন্তু এখন দুর্গাপূজা উপলক্ষে কাজের চাপ বেশি তাই রাত দিন পরিশ্রম করে মনের মাধুরী মিশিয়ে মা দুর্গার প্রতিমা তৈরি করছি। এখন আমরা প্রতিমা রং ও সাজানোর কাজ করছি। তবে কাঠ, সুতা, খড়, রং, কাপড় ও মুকুট দিয়ে এক সেট তৈরি করতে গড়ে সময় লাগে ২০-২৫ দিন। সাতক্ষীর জেলা মন্দির কমিটির সভাপতি বিশ^ নাথ ঘোষ বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে তাদের প্রস্তুতি শেষের দিকে। কিছু দিন আগে সাতক্ষীরা সদরে একটা অপ্রতীকর ঘটনা ছাড়া সবকিছু স্বাভাবিক আছে। আমরা বিশ^াস করি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে যে মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে তারা আন্তরিক ভাবে কাজ করলে কোন ধরনের অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটবে না। এবার উপজেলার ফিংড়িতে-০৯টি, লাবসায়-০৬টি, বল্লীতে-০৫টি,ঝাউডাঙ্গায়-১৮টি, আগড়দাড়িতে-১৩টি, ধুলিহরে-৩টি, ব্রক্ষ্ররাজপুরে-০৪টি, ভোমরায়-০৩টি, আলিপুরে-০টি, শিবপুরে-০৯টি, ঘোনায়-০৬টি, বাঁশদাহে-৪টি, কুশখালি-০৩টি, বৈকারি-০৩টি, ধানদিয়া ১৭টি, নগরঘাটায় ৯টি, সরুলিয়ায় ১০টি, কুমিরা ১৩টি, খলিষখালী ২০টি, তেতুলিয়া ৮টি, তালা ১৯টি, ইসলামকাটি ২০টি, মাগুরা ১০টি, খলিলনগর ২০টি, খেশরা ১৪টি, জালালপুর ১৬টি সর্বমোট ১২টি ইউনিয়নে ১৮২টি মন্ডপে প্রতিমা তৈরীর কাজ চলছে। শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তার বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমরা মন্ডপগুলোকে তিনটি শ্রেনীতে ভাগ করেছি। আর সে অনুযায়ী আমরা তিনটি স্তরের নিরাপত্তা দেব। যেন কোন ধরণের অপ্রতীকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য আমরা সর্বদা সজাগ রয়েছি। সকল সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ যাতে নির্বিগ্নে তাদের উৎসব পালন করতে পারে সে বিষয়ে সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এছাড়া দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন ও সার্বক্ষনিক নিরাপত্তায় থাকবে যাতে পূর্বের ন্যায় এবারো কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।



(পরবর্তী র্সবাদ ...) »



সংযুক্তিমূলক সংবাদ ..

  • ঝাউডাঙ্গায় চক্ষু চিকিৎসা শিবির অনুষ্ঠিত
  • নেটপাটা অপসারন হয়নি সদর উপজেলার ব্রক্ষ্মরাজপুর ইউনিয়নের গোয়ালপোতা গ্রামের খালটির
  • ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ ইন্ডিয়া’র সাথে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির কার্যকরী কমিটির সাথে মতবিনিময়
  • মেডিকেল চান্স পাওয়ায় পুলিশ সুপার ও পুলিশ সুপার পত্নী তন্বীকে ফুলেল শুভেচছা জানালেন
  • জেলা সাংবাদিক পরিষদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
  • সাংবাদিক শাওন সড়ক দূর্ঘটনায় আহত প্রেসক্লাবের সুস্থ্যতা কামনা
  • সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডাঃ আফম রুহুল হক এমপির সাথে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া তন্বী
  • ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ ইন্ডিয়া’র আমন্ত্রণে সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরির কার্যকরী কমিটির ভারত গমন
  • Leave a Reply