সাধারণ সম্পাদক থাকবো কিনা নির্ভর করছে নেত্রীর ওপর -ওবায়দুল কাদের

সাতক্ষীরা নিউজ ডেস্ক :: ঈদ সালামি হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ নেতাদের এক কোটি চাঁদা দেয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, অন্যায় করলে কেউ ছাড় পাবে না। তদন্তে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যায় করলে কেউ পার পাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী পথ দেখিয়েছেন, সহযোগী সংগঠনগুলোর উচিত এ থেকে শিক্ষা নেয়া।
কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠা জাবি ভিসির পদত্যাগের দাবির বিষয়টিকে সরকার কীভাবে দেখছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগ কী কারণে, নৈতিকস্খলন, সেটা যদি তদন্ত করে প্রমাণ হয়, তিনিও কোনো আইনের ঊর্ধ্বে নন। তিনি যদি কোনো অন্যায় করে থাকেন, এখানে যদি তার কোনো অপকর্মের সংশ্লিষ্টতা থাকে, তদন্তে যদি এটা প্রমাণিত হয়, তবে অবশ্যই তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ছাড়া ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য আওয়ামী লীগের সম্মেলন বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন মুখ আসতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ঈদুল আজহা’র আগে ঈদ সালামি হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শাখা ছাত্রলীগকে ১ কোটি টাকা দিয়েছে বলে দাবি করেন জাবি ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে ঈদ সালামি বাবদ ১ কোটি টাকা দিয়েছেন। এর মধ্যে জাবি ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা নিয়েছেন ৫০ লাখ টাকা, সাধারণ সম্পাদক এসএম আবু সুফিয়ান চঞ্চল নিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা, আর তিনি (সাদ্দাম) নিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা।
এর আগে চাঁদাবাজিসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অপসারিত হওয়া গোলাম রাব্বানী অভিযোগ করেন, জাবির উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা হয়ে না দাঁড়ানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে ভিসি ফারজানা ইসলাম ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দিয়েছেন। অন্যদিকে জাবি ভিসি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো টাকা দেননি। বরং রাব্বানী ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন তার কাছে কয়েক দফায় উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেট থেকে ৪ থেকে ৬ শতাংশ টাকা ঈদ সালামি দাবি করেন।
এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন জাবি ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। তিনি বলেছেন, সাদ্দাম মিথ্যা বলছেন, তিনি এই মিথ্যা বলা বন্ধ না করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২১তম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন ওই কাউন্সিলে প্রার্থী হবেন না বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, দলের আসন্ন জাতীয় কাউন্সিলে তিনি প্রার্থী হবেন না, তবে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি চান, তা হলে তিনি ফের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নিতে রাজি আছেন।
ফের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, দ্বিতীয়বার পার্টির সাধারণ সম্পাদক থাকব কিনা, তা নেত্রীর (শেখ হাসিনা) সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। আমি নিজে প্রার্থী হব না। নেত্রী চাইলে আবার দায়িত্ব দেবেন, না চাইলে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেবেন।
‘পারসোনালি আমি কোনো প্রার্থিতা ঘোষণা করব না। নেত্রী যাকে ইচ্ছা দেবেন। আমাকে যদি তিনি থাকতে বলেন সেটা তিনি বলতে পারেন। আবার বলতে পারেন বিদায়, আরেকজন আসবে, নতুন মুখ আসবে। ওয়েলকাম, কোনো অসুবিধা নেই’- যোগ করেন কাদের।
আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেটিকে সামনে রেখে সাংবাদিকরা দলের সাধারণ সম্পাদককে প্রশ্ন করেন। জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সাধারণ সম্পাদকের পদটি পার্টির সর্বোচ্চ পদধারীর নির্দেশেই চলে। এ ক্ষেত্রে অনেক প্রার্থী থাকতে পারেন। আওয়ামী লীগের মতো একটি দলের সাধারণ সম্পাদক একবার হয়েছি, এটাই সম্মানের। সারাজীবন আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবেই থাকতে চাই।
আওয়ামী লীগের সম্মেলন, সভাপতি অপরিবর্তিত এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আপনার নাম শোনা যাচ্ছে। আরও কয়েকজনের নামও আসছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের পার্টিতে আমাদের সভাপতি পার্টির সুপ্রিমও শেখ হাসিনা। আমাদের পার্টিতে বারে বারে যেটা হয় দলের কাউন্সিলরা সবসময় নেতৃত্ব নির্বাচনে নেত্রীর মনোভাবের ওপর সবকিছু ছেড়ে দেন। জেনারেল সেক্রেটারি পদটি পার্টির সুপ্রিমওর নির্দেশনায় চলে। এখানে প্রার্থী হওয়ার অধিকার সবার আছে।’
তিনি বলেন, ‘নেত্রীর ইচ্ছার বাইরে আসলে কিছু হয় না। নেত্রী জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে যাকেই চয়েজ করেন আওয়ামী লীগের কর্মী-কাউন্সিলররা তার প্রতি ঝুঁকে পড়েন। আমি ভাগ্যবান মানুষ; আমি আওয়ামী লীগের জেনারেল সেক্রেটারি হয়েছি। অনেক কর্মী আজীবন ত্যাগ করেও এই পদটি পাননি। একবার হয়েছি এটাই বিরাট সম্মানের ব্যাপার।’
দায়িত্ব পালনে চেষ্টায় কোনো ঘাটতি ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি এটুকু বলতে পারি, আমার চেষ্টা ও আন্তরিকতায় কোনো ঘাটতি ছিল না। অসুস্থ ছিলাম কিছু দিন। অসুস্থতার পরও আমি দল ও সরকারে সমানভাবে সময় দিচ্ছি। যখন যেখানে প্রয়োজন সেখানে আমি নিজেকে এনগেইজড করছি। কাজেই আমি আবারও বলছি- এটা আসলে আমাদের সভাপতির ওপর নির্ভর করে, তিনি কাকে নেক্সট জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে পছন্দ করবেন, তিনি যাকে পছন্দ করবেন তার প্রতি আমাদের সবার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।’






সংযুক্তিমূলক সংবাদ ..

  • পদ্মার বুকে পাল তোলা নৌকায় আওয়ামী লীগের সম্মেলন!
  • আজ ৫ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না ফার্মগেট-শুক্রাবাদে
  • ভারতের ৩৮০ সৈন্যকে সম্মাননা দেবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  • স্বৈরাচার পতন দিবস আজ
  • ১৫ ডিসেম্বর থেকে ই-পাসপোর্ট চালু: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  • প্রতিবন্ধীদের নিয়ে ‘নেতিবাচক মানসিকতা’ পরিহার করুন: প্রধানমন্ত্রী
  • বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী কাউন্টডাউনের নতুন তারিখ ১০ জানুয়ারি
  • স্পেন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
  • Leave a Reply