৩৯ দিন পর কাশ্মীরে বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের ঘোষণা ভারতের

সাতক্ষীরা নিউজ ডেস্ক :: ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে দীর্ঘ ৩৯ দিন পর নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। খুলে দেওয়া হয়েছে ফোন লাইন ও মোবাইল পরিষেবা। তবে কর্মকর্তারা জানান, হজরতবাল এলাকায় নতুন করে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ওদিকে, কাশ্মীরে সরকারি বাহিনীর নিপীড়ন বন্ধের দাবি জানিয়েছে মাওবাদীদের একটি গ্রুপ। তারা জানায়, আত্মনিয়ন্ত্রণ কাশ্মীরিদের জন্মগত অধিকার। কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক নীতির কারণে তারা অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে, কাশ্মীর নিয়ে ভারতের সঙ্গে উত্তেজনার মাঝেই আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। হিন্দুস্তান টাইমস, রয়টার্স, জিও টিভি, পাকিস্তান টুডে।
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ৩৯ দিন পর নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নিলো দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। খুলে দেওয়া হয়েছে ফোন লাইন ও মোবাইল পরিষেবাও। কাশ্মীর সরকারের জনসংযোগ ও তথ্য অধিদফতরের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হজরতবাল এলাকায় নতুন করে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। লাদাখ ও কাশ্মীরকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে বিল পাস হয়। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মীরজুড়ে মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত সেনা। জারি করা হয়েছে বিধিনিষেধ। সড়কগুলোতে গড়ে তোলা হয় কাঁটাতারের বেরিক্যাড। টেলিফোন, মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় অনেকেই নিজেদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না।
কাশ্মীরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রীসহ শত শত মানুষকে আটকের কথা জানা গেলেও মোট আটকের সংখ্যা বিষয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি ভারত সরকার। তবে ৬ সেপ্টেম্বর ভারত সরকারের এক পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, কাশ্মীরে অভিযান শুরুর পর থেকে তিন হাজার আটশো মানুষকে আটক করা হয়েছে। তবে এসব মানুষকে কিসের ভিত্তিতে আটক করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।
হিন্দুস্তান টাইমস-র খবরে বলা হয়েছে, এর আগে আংশিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও জীবনযাত্রায় খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি। দোকানপাট বন্ধই ছিল, ফাঁকা ছিল স্কুলগুলোও। সড়কগুলোতে খুব বেশি গাড়ি চলাচল করতে দেখা যায়নি।
ভারত সরকারের জারি করা লকডাউনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অনেকেই। রাজনীতিকদের আটকের বিরুদ্ধেও আদালতে পিটিশন জমা পড়ে। আদালত আইনের এক শিক্ষার্থী, সিপিএম’র সিতারাম ইয়েচুরি ও মেহবুবা মুফতির মেয়েকে তাদের আত্মীয়দের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে নির্দেশ দেয়। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চের শুনানি এখনও শুরু হয়নি।
এক ভারতীয় কর্মকর্তা জানান, এদের অনেককেই জননিরাপত্তা আইনের অধীনে গ্রেফতার করা হয়েছে। কাশ্মীরের জন্য প্রণীত এই বিশেষ আইনের অধীনে বিনা বিচারে যে কাউকে দুই বছর পর্যন্ত আটক রাখা যায়।
কাশ্মীরের জনসংযোগ অধিদফতর এক বিবৃতিতে জানায়, সব এলাকা থেকেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ল্যান্ডলাইন কাজ করছে এবং মোবাইল পরিষেবাও চালু করা হয়েছে।
তবে হজরতবাল এলাকায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আবারও কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তারা জানান, হজরতবালে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আর আগে থেকে বহাল নিষেধাজ্ঞা পাঁচটি থানায় বলবৎ রয়েছে।
কাশ্মীরে নিপীড়ন বন্ধের দাবি মাওবাদীদের
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সরকারি বাহিনীর নিপীড়ন বন্ধের দাবি জানিয়েছে মাওবাদীদের একটি গ্রুপ। গত বৃহস্পতিবার ভিশাকা এজেন্সি এলাকায় তারা কাশ্মীরের পক্ষে ব্যানার নিয়ে হাজির হয় এবং স্লোগান দেয়। তারা জানায়, আত্মনিয়ন্ত্রণ কাশ্মীরিদের জন্মগত অধিকার। কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক নীতির কারণে তারা অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার মাদ্দিারুভু, বনগ্রাম, গোমাঙ্গি ও মাদগুলার অন্যান্য অঞ্চলের মাওবাদীরা ভিশাকা এজেন্সি এলাকায় এসে জড়ো হয়। এর আগে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মাওবাদীরা কাশ্মীরিদের সমর্থনে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছিলো। তারা জানায়, সরকারের ৩৭০ ধারা বাতিল করে কাশ্মীরকে দ্বিখ-িত করে দেওয়ার নীতিকে সমালোচনা করা উচিত।
মাওবাদীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার কাশ্মীরের প্রাকৃতিক সম্পদগুলো ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিতে চায়। তারা জানায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর পক্ষে কোনও যুক্তি না দিয়ে বলছেন পাকিস্তানে সন্ত্রাস রুখতে এই পদক্ষেপ। আগামী পাঁচবছরও এই নাটক চালিয়ে যাবেন তিনি।
ষাটের দশকের শেষ দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়ী থেকে মাওবাদী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। তবে নকশালপন্থী আন্দোলন সত্তরের দশকের প্রথমার্ধ্ব থেকেই গতি হারাতে শুরু করেছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের ছত্তিশগড়ের জঙ্গলসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও মাওবাদী আন্দোলন জোরালো হতে শুরু করে।
যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদিতে যাচ্ছেন ইমরান খান
কাশ্মীর নিয়ে ভারতের সঙ্গে উত্তেজনার মাঝেই আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। চলতি মাসের শেষের দিকে তিনি এই সফর করবেন।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দুইবার সাক্ষাৎ করবেন ইমরান খান। প্রথমবার এক সঙ্গে লাঞ্চ করবেন। দ্বিতীয় চা চক্রে দেখা হবে তাদের।
এছাড়া, সেখানে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইমরান খান জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটাই তার প্রথম ভাষণ।
ইমরান খান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তার বক্তব্যে তিনি কাশ্মীর ইস্যুকে গুরুত্ব দেবেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগেই সৌদি আরব সফরে যাবেন ইমরান খান।






সংযুক্তিমূলক সংবাদ ..

  • কাশ্মীরের ওপরে নজর রাখছি -চীনা প্রেসিডেন্ট
  • আবরার হত্যার ঘটনায় বিস্মিত ও মর্মাহত যুক্তরাজ্য
  • তালেবান নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইমরান খান!
  • ‘শত্রুতা বন্ধ না করলে আমেরিকার সঙ্গে আর কোনো আলোচনা নয়’
  • শুরুর একদিন পরই ভেঙে গেল আমেরিকা-উত্তর কোরিয়া আলোচনা
  • ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা বাধাগ্রস্ত করছে আমেরিকা: হুথি নেতা
  • খাসোগি হত্যা বৈশ্বিক শৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি: এরদোগান
  • পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধ হলে বিশ্বকে ভুগতে হবে : ইমরান খান
  • Leave a Reply