স্বৈরাচার এরশাদকে নিয়েই গণতন্ত্র হত্যা করেছে শেখ হাসিনা :মির্জা ফখরুল

সাতক্ষীরা নিউজ ডেস্ক :: এরশাদের জাতীয় পার্টিকে নিয়ে সরকার গণতন্ত্র হত্যা করে সংসদে তাদেরকে গৃহপালিত বিরোধী দলের সুবিধা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংসদে দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের জবাবে গতকাল সোমবার সকালে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সংসদে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) প্রায়ই অসত্য কথা বলেন যে কথাগুলোর কোনো ভিত্তি নেই, ইতিহাস তা সাক্ষ্য দেয় না। সত্য হচ্ছে এটাই- এরশাদ যখন জবর দখলদস্তি ক্ষমতা দখল করে একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দিয়ে, তখন তিনিই (শেখ হাসিনা) বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তের কাছে বলেছিলেন ‘সি ইজ নট আনহ্যাপী’, উনি অখুশি নন এরশাদ আসাতে।
গতকাল সোমবার সকালে শেরে বাংলা নগরে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খানের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিএনপি মহাসচিব দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পমাল্য অর্পন করেন।
  রোববার জাতীয় সংসদে এক শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জেনারেল এরশাদ যে ১৯৮২ সালে ক্ষমতা দখল করেছিলেন, সেই ক্ষমতা দখলের সুযোগটা কিন্তু খালেদা জিয়াই করে দিয়েছিলেন। এ কারণেই তিনি খালেদা জিয়াকে শুধু দুটি বাড়িই নয়, নগদ ১০ লাখ টাকাসহ অনেক সুযোগ-সুবিধা দিয়েছিলেন। এ কারণে জিয়া হত্যার ব্যাপারে যে মামলা হয়েছিল, সেই মামলা বিএনপি চালায়নি। তবে বহু বছর পর ১৯৯১ সালে বা তারপর খালেদা জিয়া জেনারেল এরশাদকে তার স্বামী হত্যার জন্য দায়ী করেছেন।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, পরবর্তিকালে তার কাজ দেখেই আমরা বুঝতে পারি তিনি এরশাদকে সঙ্গে নিয়েই এদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছেন এবং মানুষের অধিকারকে কেড়ে নিয়েছেন। কারণ বরাবরই তিনি এরশাদকে সঙ্গে নিয়েই এলায়েন্স করেছেন এবং তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা করে তাদেরকেই (জাতীয় পার্টি) বিরোধী দলের বসিয়েছেন। যেটাকে আমরা বলি, এরশাদ হচ্ছে সম্পূর্ণভাবে আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনার গৃহপালিত বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন এবং তার মৃত্যুর পরে এখন সেই দায়িত্ব নিয়েছেন রওশন এরশাদ।
বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন কারাবন্দী খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম সেনানী যিনি দীর্ঘজীবন ধরে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, লড়াই করেছেন তাকে আজকে এই গণবিরোধী সরকার যারা জবরদখল করে ক্ষমতায় বসে আছে। তারা শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে কারাগারে আটক করে রেখেছে। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। তার কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা হচ্ছে না। আমরা আশা করি সম্মিলিত সংগ্রাম-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করবো এবং গণতন্ত্রকে মুক্ত করবো ইনশাল্লাহ। মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমরা গভীরভাবে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং পরম করুনাময় আল্লাহ তাআলার কাছে এই দোয়া চাইছি- তিনি যেন দ্রুত তাকে মুক্ত করেন এবং আমাদের মাঝে নেতৃত্ব দিয়ে এদেশে গণতন্ত্রকে আবার মুক্ত করেন। মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ‘খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রকে’ মুক্তি করার শপথ নিয়েছে বলে জানান মির্জা ফখরুল ।
এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ক্ষমতা দখলের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কোনোভাবেই জড়িত, কিংবা সংশ্লিষ্ট ছিলেন না। তিনি বলেন, এরশাদের ক্ষমতা দখলের সঙ্গে খালেদা জিয়াকে জড়িয়ে সংসদে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য অসত্য। খালেদা জিয়াকে নিয়ে এ ধরনের মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।
কারাবন্দী খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই তাকে জেলখানা থেকে মুক্ত করা হবে। আমরা সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি। বিভেদ ভুলে সম্মিলিত সংগ্রামের মাধ্যমে তার মুক্তির আন্দোলন বেগবান করতে পারলেই হারানো গণতন্ত্র ফিরে আসবে এবং দেশের ১৬ কোটি মানুষেরও মুক্তি মিলবে। বর্তমান সরকারকে গণবিরোধী বলে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, জবর দখলকারী এই সরকারকে বিদায় না করা পর্যন্ত এদেশের গণতন্ত্র মুক্ত হবে না। মানুষেরও মুক্তি মিলবে না।






সংযুক্তিমূলক সংবাদ ..

  • ‘‌গণতন্ত্রের কথা শুনলে আওয়ামী লীগের ‘গায়ে জ্বালা ওঠে’ : মোশাররফ
  • খালেদার মুক্তির দাবিতে বিএনপির ১২ দিনের কর্মসূচি
  • খালেদার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মানববন্ধন
  • আওয়ামী লীগ মানুষ হত্যার রাজনীতি করে না: প্রধানমন্ত্রী
  • জিয়া-এরশাদকে রাষ্ট্রপতি বলার সুযোগ নেই: প্রধানমন্ত্রী
  • রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ আগামী মার্চে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী
  • সব সূচকে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে : তথ্যমন্ত্রী
  • Leave a Reply