জোরজবরদস্তিতে স্বীকারোক্তি নেয়া হয়েছে : মিন্নির বাবা

সাতক্ষীরা নিউজ ডেস্ক :: বরগুনায় প্রকাশ্য দিবালোকে রিফাত শরিফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি ‘দোষ স্বীকার‘ করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মিন্নির বাবা মেয়ের জবানবন্দির কথা শুনে বলেন, আমার মেয়ে অসুস্থ, তার কাছ থেকে জোরজবরদস্তি করে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা থানার পরিদর্শক হুমায়ূন কবীর বলেন, শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় তাকে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে হাজির করা হলে তিনি এই জবানবন্দি দেন।

পুলিশ পরিদর্শক হুমায়ূন বলেন, পাঁচ দিনের জন্য হেফাজতে নেওয়া হলেও মিন্নির কাছে আমাদের যা জানার ছিল তা জানা হয়ে গেছে। তাই শুক্রবারই তাকে আদালতে পাঠানো হয়। তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতে তিনি কী বলেছেন সে সম্পর্কে আমি কিছু জানি না।

এ সময় মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জবাবে তার বাবা মোজ্জাম্মেল হোসেন চিৎকার করে বলেন, তার মেয়ে অসুস্থ, গতকাল রাতে একজন পুলিশ সদস্য তার বাসায় গিয়ে চিকিৎসাপত্র নিয়ে এসেছেন। আজকে জোর জবরদস্তি ও নির্যাতন করে তার মেয়ের কাছ থেকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।

মোজ্জাম্মেল হোসেন আরও বলেন, মেয়ে আমার জীবন বাজি রেখে তার স্বামীকে রক্ষা করতে গেছে। এটাই তার অপরাধ? এসব কিছুই শম্ভু বাবুর (স্থানীয় সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু) খেলা। তার ছেলে সুনাম দেবনাথকে সেভ করার জন্য আমাদের বলি দেওয়া হচ্ছে।

আজ আদালত থেকে মিন্নিকে নিয়ে যাওয়ার সময় দুইজন নারী পুলিশ সদস্য তাকে নিয়ে যাচ্ছিল, এ সময় ছোট পিকআপে তোলার সময় মিন্নি কিছু একটা বলার জন্য উদ্যত হয়েছিলেন। কিন্তু পাশে থাকা নারী পুলিশ সদস্য এ সময় মিন্নির মুখ চেপে তাকে গাড়ি তুলেন।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় প্রকাশ্য দিবালোকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে শাহ নেওয়াজ শরীফ রিফাতকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে ঐ দিন বিকেলে বরিশালের শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান রিফাত শরীফ।

এ হত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। হত্যাকাণ্ডের পরের দিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বরগুনা সদর থানায় ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ ছাড়া সন্দেহভাজন অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

এদিকে মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। মামলার এজাহারভুক্ত ছয় আসামিসহ এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।






সংযুক্তিমূলক সংবাদ ..

  • ৫ দফা দাবি মেনে বুয়েটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আন্দোলন আপাতত স্থগিত
  • ১০ দাবির সবগুলোই মেনে নিয়েছেন ভিসি, এরপর কেন আন্দোলন : প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর
  • ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে যাচ্ছে জাপানে; সহস্রাধিক ফ্লাইট বাতিল
  • ফ্রীডম পার্টির ‘পাগলা মিজান’ যেভাবে আওয়ামী লীগ নেতা
  • আবরার ফাহাদ হত্যা:অমিতই নাটের গুরু
  • আবরার ফাহাদ হত্যায় শোক জানিয়েছে সুইজারল্যান্ড দূতাবাস
  • আবরার হত্যার সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বুয়েটের ছাত্র শামীমকে শ্যামনগর থেকে গ্রেপ্তার
  • শিক্ষাঙ্গনকে সম্পূর্ণ দলীয় রাজনীতিমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে টিআইবি
  • Leave a Reply