হার দিয়েই শেষ হলো বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের এ আসরে নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। ৩১৬ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে প্রথম থেকেই তেমন একটা এগিয়ে যেতে পারছিল না বাংলাদেশ। শেষে রানের ব্যবধান কমিয়ে আনার চেষ্টা করেও ৯৪ রানের ব্যবধানে সব উইকেট হারিয়ে পরাজিত হয় টাইগাররা।

শাহিন শাহ আফ্রিদির কাছেই হেরে গেছেন সাকিব-তামিমরা। ক্যারিয়ার সেরা ৬ উইকেট নিয়ে একাই ধসিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানি ওই বোলার। নির্ধারিত ৫০ ওভারও খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। ৪৪.১ ওভারে ২২১ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। এই পরাজয়ের মধ্যদিয়ে ৯ ম্যাচ থেকে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সপ্তমস্থানে স্থায়ী জায়গা হলো টাইগারদের।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ফখর জামানের উইকেট হারিয়ে শুরুতেই বিপদে পড়ে যায় পাকিস্তান। তার উইকেট শিকার করে বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন সাইফউদ্দিন। তার অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিতে গিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ তুলে দেন ফখর জামান।

শেষ দিকে ২৬ বলে ৪৩ রান করেন ইমাদ ওয়াসিম। এছাড়া ২৭ রান করেন মোহাম্মদ হাফিজ। বাংলাদেশ দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫ উইকেট শিকার করেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিন উইকেট শিকার করেন সাইফউদ্দিন। শুক্রবার ইংল্যান্ডের লর্ডসে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ-পাকিস্তান। এদিন টাইগারদের বিপক্ষে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন বাবর আজম। অনবদ্য ব্যাটিং করে সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন তিনি। তার সেঞ্চুরির স্বপ্ন ভেঙে দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তার গতির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন বাবর। তার আগে ৯৮ বলে ১১টি চারের সাহায্যে ৯৬ রান করেন তিনি।

এর আগে আজ শুক্রবার ইংল্যান্ডের লর্ডসে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি। দলীয় ২৩ রানের মাথায় ফখর জামানকে হারায় পাকিস্তান। ব্যক্তিগত ১৩ রানে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের বলে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। পরে বাবর আজম ও ইমাম উল হক ১৫৭ রানের জুটি গড়ে দলকে নিয়ে যান সুবিধাজনক অবস্থানে। ব্যক্তিগত ৯৬ রানে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে দুইবার জীবন পান বাবর আজম। দলীয় ২৪৬ রানের মাথায় পাকিস্তানের তৃতীয় উইকেটের পতন হয়। মুস্তাফিজুর রহমানের বলে হিট উইকেট হয়ে সাজঘরে ফেরেন ১০০ রানের ইনিংস খেলা উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ইমাম উল হক। দলীয় স্কোর ২৫৫ রানে যেতেই পাকিস্তান হারায় আরো দুই ব্যাটসম্যান। পরপর আউট হন মোহাম্মদ হাফিজ ও হারিছ সোহেল। পুরো ইনিংসে এখানেই কিছুটা চাপে পড়ে পাকিস্তান।

বাংলাদেশ ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে হয়েছে। ৬ রানে ‘জীবন’ পাওয়া সৌম্য আউট হয়েছেন ২২ রানে। আমিরের বলে পয়েন্টে ধরা পড়েন তিনি ফখর জামানের হাতে। তার বিদায়ের পর তামিমও থিতু হননি বেশিক্ষণ ভারতের বিপক্ষে আগের ম্যাচে বোল্ড হয়ে ফিরেছিলেন তামিম ইকবাল। পাকিস্তান ম্যাচেও একই পরিণতি। শাহীন আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়ে গেছেন বাঁহাতি ওপেনার। শাহীনের স্লোয়ারে পুরোপুরি পরাস্ত তামিম। বল তার ব্যাট ও পায়ের মাঝখান দিয়ে আঘাত করে স্টাম্পে। বোল্ড হওয়ার আগে ২১ বলে করেন তিনি মাত্র ৮ রান।

চাপে পড়ে গেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিক। সাবলীল ব্যাটিংয়ে শুরুটা দারুণ হলেও বেশিদূর যেতে পারেননি মুশফিক। ওয়াহাব রিয়াজের বলে বোল্ড হয়ে গেছেন ১৬ রানে। বল তার ব্যাটে লেগে আঘাত করে স্টাম্পে। তার ১৯ বলের ইনিংসে ছিল ২ চারের মার।

পরে ব্যাট করতে নামা লিটন দাসের শুরুটা বেশ ভালো হয়েছিল। বড় ইনিংসের আভাস ছিল তাতে। কিন্তু তা আর হয়নি শাহীন আফ্রিদির স্লোয়ারে ৪০ বলে ৩২ রান করে ফিরে গেলে। সাকিব আল হাসানের সঙ্গে প্রায় জুটি করার চেষ্টায় ছিলেন লিটন। ঠাণ্ডা মাথায় নিজের সঙ্গে দলের রান বাড়িয়ে নিচ্ছিলেন। কিন্তু শাহীনের স্লোয়ার বুঝতে না পেরে কাভারে সহজ ক্যাচ দেন হারিস সোহেলের হাতে। তাতে চতুর্থ উইকেটে ভাঙে সাকিবের সঙ্গে তার গড়া ৫৮ রানের জুটি।

তবে অপরপ্রান্তে ঠিকই অবিচল থাকার চেষ্টা করেন সাকিব। ৬৪ রান করে আউট হয়ে গেছেন সাকিব। শাহীনের বল তার ব্যাটে কানায় লেগে জমা পড়ে উইকেটরক্ষক সরফরাজ আহমেদের গ্লাভসে। আউট হওয়ার আগে ৭৭ বলের ইনিংসটি সাকিব সাজান ৬ বাউন্ডারিতে।

লর্ডসে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে করে ৩১৫ রান।টানা দুই ম্যাচে ৫ উইকেট তুলে নেন মোস্তাফিজুর রহমান। ভারত ম্যাচের পর পাকিস্তানের বিপক্ষেও ৫ উইকেট নিলেন তিনি। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১০০ উইকেটও পূরণ করেছেন মোস্তাফিজ।

সাইফউদ্দীন দলীয় ২৩ রানে ফখর জামানের উইকেট তুলে নিলেও সেখানে তারা ঘুরে দাঁড়ায ইমাম উলহক ও বাবর আজমের ১৫৭ রানের জুটিতে। বাবরকে সেঞ্চুরি বঞ্চিত করে এই জুটি ভাঙেন সাইফউদ্দীন। বাবর ফিরে যান ৯৬ রান করে। তবে সেঞ্চুরি করে পাকিস্তানকে বড় ইনিংসের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন ইমাম-উল-হক। ১০০ রান করা এই ব্যাটসম্যানকে দিয়েই শুরু মোস্তাফিজের উইকেট উৎসব। তাতে আরও বড় হতে পারেনি পাকিস্তানের ইনিংস। এরপর মোস্তাফিজ ফিরিয়েছেন হারিস সোহেল (৬), শাদাব খান (১), ইমাদ ওয়াসিম (৪৩) ও মোহাম্মদ আমিরকে (৮)। ১০ ওভারে ৫ উইকেট নিতে মোস্তাফিজ খরচ করেছেন ৭৫ রান। দ্বিতীয় সেরা বোলার সাইফউদ্দিন ৭৭ রান খরচায় পেয়েছেন ৩ উইকেট। পাকিস্তানের অন্য উইকেটটি নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ৩১৫/৯ (ইমাম-উল ১০০, বাবর ৯৬, ইমাদ ৪৩, হাফিজ ২৭; মোস্তাফিজ ৫/৭৫)।

বাংলাদেশ: ৪৪.১ ওভারে ২২১/ ১০ (সাকিব ৬৪, লিটন ৩২, মাহমুদউল্লাহ ২৯, সৌম্য ২২, মোসাদ্দেক ১৬, মাশরাফি ১৫, মুশফিক ১৬, তামিম ৮, মিরাজ ৭*; শহিন আফ্রিদি ৬/৩৫)।

ফল: পাকিস্তান ৯৪ রানে জয়ী।






সংযুক্তিমূলক সংবাদ ..

  • আইসিসির সেরা একাদশে সাকিব
  • ক্রিকেট স্রষ্টাদের প্রথম বিশ্বকাপ জয়
  • বিশ্বকাপে শিরোপার লড়াই আজ
  • কাটার মাস্টার মোস্তা‌ফি‌জের বউ ভা‌তে মানু‌ষের মিলন মেলা
  • অস্ট্রেলিয়াকে কাঁদিয়ে ২৭ বছর পর ফাইনালে ইংল্যান্ড
  • বিশ্বমঞ্চ থেকে ভারতের করুণ বিদায়
  • নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা যুক্তরাষ্ট্রের
  • চিলিকে হারিয়ে তৃতীয় আর্জেন্টিনা, মেসির লাল কার্ড
  • Leave a Reply