রমজানের প্রস্তুতি ও সময়সূচি নিয়ে মোবাইল অ্যাপ

ramadan
Share Button

পবিত্র মাহে রমজান নিয়ে ‘Ramadan Calendar 2017’ নামে একটি অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) তৈরি করেছে টেকটিউনস অ্যাপস।স্মার্টফোনে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে চলবে এই অ্যাপ। এই অ্যাপটি সেহেরি থেকে ইফতারের মাঝখানের প্রতিটি মুহূর্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছে নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান। এতে রোজার ফজিলত, তারাবির নামাজের নিয়ম ইত্যাদি রয়েছে। সেহেরি ও ইফতারের সময়সূচিও আছে এতে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে এটি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী যেখানে অবস্থান করছেন সেই এলাকার সেহেরি ও ইফতারের সময়সূচি জানিয়ে দেবে। অ্যাপটিতে সতর্কসংকেত বা অ্যালার্ম দিয়ে রাখার সুবিধাও আছে।

রমজান অ্যাপে যেসব বিষয় রয়েছে, সেসব হলো সাওম ভঙ্গ এবং মাকরুহ হওয়ার কারণ, রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া, তারাবির নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত এবং বাংলা ও আরবিতে রমজানের প্রয়োজনীয় দোয়া ও সূরা ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু দৈনন্দিন আমল ও ইবাদত নিয়ে অ্যপসটিতে থাকছে
কুরআন তেলাওয়াত, কুরআনের বাংলা উচ্চারণ ও অনুবাদ, কুরআনের বাংলা তাফসির, দোআ ও যিকির হিসনুল মুসলিম, নেক আমল, ইসলামের হুকুম আহকাম, হালাল হারাম সম্পর্কে শিখার জন্য ইসলামি বই পড়তে পারেন।নবির জিবনি, রাসুল ও রাসুলের জীবনী,সাহাবীদের জীবনী, ইসলামের ইতিহাস, সহীহ বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ বাংলা, ফাজায়েলে আমল, রোজার ক্যালেন্ডার ২০১৭, রোজার নিয়ত
ইফতারের দোয়া, রোজা সম্পর্কিত জরুরি কিছু মাসআলা, রোজা বা সিয়ামের সহীহ নিয়ম, রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ, তারাবীহ নামাজ,রোযার ফজিলত, রমজান মাসের আমল, রমজানের প্রস্তুতির কিছু প্রশংসনীয় পদক্ষেপ, রোজা ভঙ্গের কারণ সমুহ,৩০ রমজানের দোয়া সমূহ, রোজার নিয়ত সম্পর্কিত মাসআলা, ইফতার এর সুন্নত আমলসমূহ, নামাজ পড়ার নিয়ম, তারাবীহ নামাজ,
লাইলাতুল কদরের প্রস্তুতি, রোযার ফজিলত আদব গুরুত্ব, রমজান সংক্রান্ত কোরআনের আয়াত, ঈদুল ফিতরের কিছু সুন্নাত, রমজান সম্পর্কিত হাদিস, রমজানের দোয়া, নামাজের সময়সূচী, আল-কুরআনের সূরাহ অর্থ ও অডিওসহ, সম্পূর্ণ আল-কুরআন উচ্চারণ সহ তিলয়াত, রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ অ্যাপটিতে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

এন্ড্রয়েড মোবাইলের জন্য অ্যাপ টি ডাওনলোড করতে পারেন। ডাওনলোড লিংকঃ https://goo.gl/LTGhvz

রোজা কাদের জন্য ফরজ

রোজা ৮ শ্রেণী মানুষের ওপর ফরজ।
১. তাহীরা অর্থাৎ পবিত্রতা হায়েজ-নেফাস মুক্ত হতে হবে।
২. বালেগ হওয়া। নাবালগের ওপর রোজা ফরজ নয়, অর্থাৎ ১২ বৎসর বয়সের কম বয়স হলে রোজা ফরজ হবেনা।
৩. সুস্থব্যক্তি হওয়া। শারীরিক ভাবে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য রোজা রাখার নিয়ম নাই। তবে সাধারন অসুখ বিসুখ হলে যদি সে রোজা রাখার উপযোগী হয় তবে সে রোজা রাখতে পারবে।
৪.সুস্থ মস্তিস্কের অধিকারী হওয়া। পাগলের ওপর রোজা ফরজ নয়।
৫.স্বাধীন হওয়া। পরাধীন নয় এমন ব্যক্তি হওয়া।
৬.সজ্ঞান হওয়া। অর্থাৎ যিনি রোজা রাখবেন তিনি নিজ জ্ঞানে বা স্বেচ্ছায় আল্লাহর হুকুম পালন করবেন।
৭.মুকিম হওয়া। অর্থাৎ স্তায়ীবাসিন্দা হওয়া। মুসাফিরের ওপর রোজা ফরজের ব্যপারে একটু ভিন্নতা আছে। যেমন কষ্টসাধ্য ভ্রমন হলে পরবর্তীতে রোজা আদায়ের বিধান আছে। আমি মনে করি বর্তমানে সফর অনেক আরামের সাথে করা যায় তাই সফর অবস্থায় একমাত্র কাহিল হয়ে না পড়লে রোজা রাখা উচিৎ।
৮.মুসলমান হওয়া। মুসলিম ব্যক্তির জন্য রোজা রাখা ফরজ। রোজা কোন অমুসলিমের জন্য ফরজ নয়।

যাদের উপর রোযা ফরজ নাঃ দশ প্রকার মানুষের জন্য রোযা ফরজ না

১. কাফের বা অমুসলিম। কারণ তারা ইবাদত করার যোগ্যতা রাখে না। ইবাদত করলেও ইসলামের অবর্তমানে তা সহি হবে না, কবুলও হবে না। যদি কোন কাফের রমজানে ইসলাম গ্রহণ করে তবে পিছনের সিয়ামের কাজা আদায় করতে হবে না।
২. অপ্রাপ্ত বয়স্ক। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তার সিয়াম পালন ফরজ নয়।
৩. পাগল। পাগল বলতে বুঝায় যার জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পেয়েছে। যার কারণে ভাল-মন্দের মাঝে পার্থক্য করতে পারে না। এর জন্য সিয়াম পালন ফরজ নয়। যেমন পূর্বের হাদিসে উলে¬খ করা হয়েছে। পাগল যখনই সুস্থ হয়ে যাবে তখনই সে সিয়াম পালন শুরু করে দেবে। যদি এমন হয় যে দিনের কিছু অংশ সে সুস্থ থাকে কিছু অংশ অসুস্থ তাহলে সুস্থ হওয়া মাত্রই সে পানাহার থেকে বিরত থাকবে। সিয়াম পূর্ণ করবে। পাগলামি শুরু হলেই তার সিয়াম ভঙ্গ হবে না, যদি না সে সিয়াম ভঙ্গের কোন কাজ করে।
৪.অশীতিপর বৃদ্ধ যে ভাল-মন্দের পার্থক্য করতে পারে না । এ ব্যক্তি যার বয়সের কারণে ভাল-মন্দ পার্থক্য করার অনুভূতি চলে গেছে সে শিশুর মতই। শিশু যেমন শরিয়তের নির্দেশমুক্ত তেমনি সেও। তবে অনুভূতি ফিরে আসলে সে পানাহার থেকে বিরত থাকবে। যদি তার অবস্থা এমন হয় যে কখনো অনুভূতি আসে আবার কখনো চলে যায় তবে অনুভূতি থাকাকালীন সময়ে তার উপর সালাত, সিয়াম ফরজ হবে।
৫.যে ব্যক্তি সিয়াম পালনের সামর্থ্য রাখে না। এমন সামর্থ্যহীন অক্ষম ব্যক্তি যার সিয়াম পালনের সামর্থ্য ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। যেমন অত্যধিক বৃদ্ধ অথবা এমন রোগী যার রোগ মুক্তির সম্ভাবনা নেই—আল্লাহ্‌র কাছে আমরা এ ধরনের রোগ-ব্যাধি থেকে আশ্রয় চাই। এ ধরনের লোকদের সিয়াম পালন জরুরি নয়। কারণ সে এ কাজের সামর্থ্য রাখে না।
৬.মুসাফির। মুসাফিরের জন্য সিয়াম পালন না করা জায়েজ আছে। সফরকে যেন সিয়াম পালন না করার কৌশল হিসেবে ব্যবহার না করা হয়।
৭.যে রোগী সুস্থ হওয়ার আশা রাখে।
৮. যে নারীর মাসিক চলছে। ঋতুকালীন সময়ে নারীর জন্য সওম পালন জায়েজ নয় বরং নিষেধ।
৯. গর্ভবতী ও দুগ্ধ দানকারী নারী। যদি গর্ভবতী বা দুগ্ধ দানকারী নারী সিয়ামের কারণে তার নিজের বা সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা করে তবে সে সিয়াম ভঙ্গ করতে পারবে। পরে নিরাপদ সময়ে সে সিয়ামের কাজা আদায় করে নিবে।
১০. যে অন্যকে বাঁচাতে যেয়ে সিয়াম ভেঙে ফেলতে বাধ্য হয়। যেমন কোন বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি ; পানিতে পড়ে যাওয়া মানুষকে অথবা আগুনে নিপতিত ব্যক্তিকে কিংবা বাড়িঘর ধসে তার মাঝে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার করতে যেয়ে সিয়াম ভঙ্গ করল।

যে সকল কারনে রোযা ভঙ্গ হয়

১। ধুমপান করা।
২। রাত্র মনে করে সুবহে সাদেকের পর সাহরী খাওয়া।
৩। নস্যি গ্রহণ করা।
৪। ইচ্ছকৃতভাবে মুখ ভরে বমি করা।
৫। বমি আসার পর তা গিলে ফেলা।
৬। কুলি করার সময় বা যে কোন ভাবে পানি গলার ভিতরে ঢুকে পড়া।
৭। দাঁতে আটকে থাকা ছোলা বা তার চেয়ে বড় ধরনের খাদ্যকণা গিলে ফেলা।
৮। সূর্যাস্তের পূর্বে সূর্য অস্তমিত হয়েছে ভেবে ইফতার করা। এগুলোতে শুধু কাযা (যে কয়টা ভাংবে সে কয়টা পরবর্তিতে রাখতে হবে)ওয়াজিব হয় । কাফফারা নয় ।কিনতু রোযা ভেঙ্গে যাওয়ার পর দিনের অবশিষ্ট সময় রোযাদারের ন্যায় পানাহার ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা উচিৎ।
৯। রোযা স্মরণ থাকা অবস্থায় পানাহার করা কিংবা স্ত্রী সহবাস করা।এতে কাযা ও কাফফারা (একাধারে দুই মাস রোযা রাখা) ওয়াজিব হয়।
১০। নাকে বা কানে তেল, ষধ ইত্যাদি প্রবেশ করানো।
১১।মুখে পান রেখে ঘুমিয়ে পড়া অবস্তায় সুবহে সাদেকের পর জাগ্রত হওয়া।

যে সকল কারনে রোযা মাকরুহ হয়

১। অহেতুক কোন জিনিস চিবানো বা চেখে দেখা।
২। রোযার কারনে অস্থিরতা বা কাতরতা প্রকাশ করা।
৩। গালাগালি ও ঝগড়া ফাসাদ করা।
৪। সিনেমা দেখা বা অন্য কোন কবিরাহ গুনাহে লিপ্ত হওয়া।
৫। সারাদিন নাপাক অবস্থায় থাকা।
৬। গীবত বা চোগলখোরী করা।
৭। কয়লা, মাজন, টুথ পাউডার, টুথ পেষ্ট বা গুল দিয়ে দাঁত মাজা।
৮। অনর্থক কোন জিনিস মুখের ভিতর দিয়ে রাখা।
৯। ইচ্ছকৃতভাবে অল্প বমি করা
১০। কুলি করার সময় গড়গড়া করা।
১১। নাকের ভিতর পানি টেনে নেয়া (কিন্তু সে পানি গলায় পৌছে গেলে রোযা ভেঙ্গে যাবে)
১২। ইচ্ছকৃতভাবে মুখে থু থু জমা করে গিলে ফেলা ।
১৩। মিথ্যা কথা বলা।

যে সকল কারনে রোযার ক্ষতি হয় না

১। অনিচ্ছাকৃতভাবে কানে পানি প্রবেশ করা।
২। ইনজাকশন নেয়া( খুবই জরুরি হলে)।
৩। নিজ মুখের থু থু কফ গিলে ফেলা।
৪। মাথা ,শরীর বা মুখে তেল, ক্রিম ,লোশন ইত্যাদি ব্যবহার করা।
৫। ঠান্ডার জন্য গোসল করা।
৬। ঘুমে স্বপ্নদোষ হওয়া।
৭। মিসওয়াক করা।
৮। অনিচ্ছকৃতভাবে বমি হওয়া।
৯। চোখে ওষধ , সুরমা বা ড্রপ ব্যবহার করা।
১০।আতর সুগন্ধি ব্যবহার করা বা ফূল ইত্যাদির ঘ্রাণ নেওয়া।
১১। অনিচ্ছাকৃতভাবে গলায় মশা, মাছি, ধোঁয়া বা ধুলাবালি প্রবেশ করা।
১২। ভুলক্রমে পানাহার করা।






সঙ্গতিপূর্ণ আরো খবর

  • আইপ্যাডে আসছে হোয়াটসঅ্যাপ
  • এক চার্জে এই ফোনটি চলবে টানা ৪৪ দিন!
  • গুগল প্লে স্টোরে অ্যাপ বিক্রির সুযোগ বাংলাদেশের
  • বন্ধ হচ্ছে বিনামূল্যে উইন্ডোজ ১০ আপগ্রেড
  • ফেসবুকে ২০ কোটি ৭০ লাখ ফেক অ্যাকাউন্ট!
  • এখন অ্যান্ড্রয়েডে ফেসবুক ভিডিও চ্যাট!
  • কাজ করছে না হোয়াটসঅ্যাপ, অভিযোগ বিশ্বজুড়ে
  • প্রতীক্ষা শেষে শুরু হলো আইফোন ১০ বিক্রি