ব্রিটিশ নির্বাচন: খারাপ ফলের পর তেরেসা মে’র ওপর পদত্যাগের চাপ

176354_1222

সাতক্ষীরা নিউজ ডেস্ক :: যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচনে বেশিরভাগ আসনের ফলাফলে কনজারভেটিভ পার্টি সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আসন পেলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ঝুলন্ত সংসদ হতে চলেছে।

তেরেসা মে হঠাৎ করে সাধারণ নির্বাচন ডাকার আগে সংসদে দলের যত আসন ছিল এই নির্বাচনে আসন সংখ্যা তার চেয়েও কমেছে এবং মিসেস মে-কে তার সিদ্ধান্তের জন্য লজ্জায় পড়তে হয়েছে। বিবিসির খবর।

পূর্বাভাস অনুযায়ী টোরিরা (কনজারভেটিভ) ৩১৮টি আসন পাচ্ছে, লেবার ২৬১ এবং এসএনপি ৩৫ আসন।

লেবার নেতা জেরেমি করবিন মিসেস মে-কে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে মিসেস মে বলেছেন দেশে স্থিতিশীলতার প্রয়োজন এবং তার দল সেই স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।

লেবারের ঝুলিতে যোগ হয়েছে ২৯টি নতুন আসেএবং কনজারভেটিভ ১৩টি আসন হারিয়েছে।

নিকোলা স্টারজেনের স্কটিশ ন্যাশানালিস্ট পার্টি, এসএনপি, খুবই খারাপ ফল করেছে। তারা ২২টি আসন হারিয়েছে। তাদের আসনগুলো গেছে টোরি, লেবার এবং লিবারেল ডেমোক্রাটদের কাছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে ভোটের ৪২শতাংশ পেয়েছে কনজারভেটিভরা, লেবার ৪০ শতাংশ, লিবারেল ডেমোক্রাট ৭ শতাংশ এবং গ্রিন পার্টি পেয়েছে ২ শতাংশ ভোট।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ভোট দিয়েছে ৬৮.৭ শতাংশ ভোটার- ২০১৫র তুলনায় এই হার শতকরা ২ ভাগ বেশি। তবে দেশের অনেক জায়গায় দেখা গেছে রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে শুধু বড় দুটি দলকে কেন্দ্র করে। কনজারভেটিভ আর লেবার যত ভোট পেয়েছে, ১৯৯০এর পর শুধু দুটো দলেরএত ভোট পাওয়ার এটা রেকর্ড।

তেরেসা মের পদত্যাগ দাবি করেছেন লেবার নেতা জেরেমি করবিন

ইউনাইটেড কিংডম ইন্ডিপেনডেন্স পাটি (ইউকিপ) পার্টি হারিয়েছে প্রচুর আসন, তবে যেমনটা মনে করা হচ্ছিল তাদের ভোটগুলো পাবে শুধু টোরিরা, সেটা হয়নি। টোরদের পাশাপাশি তাদের ভোট পেয়েছে লেবারও।

উত্তর লন্ডনের ইসলিংটন নর্থ আসন থেকে পুর্ননির্বাচিত হবার পর লেবার নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন মিসেস মে-র ‘ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর’ সময় হয়েছে। তার উচিত সরে গিয়ে এমন একটা সরকারকে জায়গা করে দেওয়া যারা ‘দেশের জনগণের সত্যিকার অর্থে প্রতিনিধিত্ব করবে।’

তিনি বলেন তিনি এ পর্যন্ত ঘোষিত ফলাফল নিয়ে ‘খুবই গর্বিত’ এবং তার ভাষায় এটা ‘ভবিষ্যতের আশার প্রতি ভোট’। তিনি বলেছেন দেশের জনগণ ‘ব্যয়সঙ্কোচ থেকে জনগণ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি।

কনজারভেটিভ বলেছে ঝুলন্ত সংসদ হলে মিসেস মে আগে সরকার গঠনের সুযোগ পাবেন।

ইউকে-র সাবেক একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা লর্ড ওডনেল বিবিসিকে বলেছেন প্রধানমন্ত্রীকে ‘আপাতত’ তার পদে থাকতে হবে – সেটা তার দায়িত্ব। তিনি তাকে পরামর্শ দেবেন শুক্রবার যেন তিনি রানির সঙ্গে দেখা করে তিনি কী করতে চান তা ব্যাখ্যা করেন।

তবে ব্রিটেনের ফিক্সড টার্ম পার্লামেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী যুক্তরাজ্যে এই গ্রীষ্মের শেষের দিকে আরেকটা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্রেক্সিট নিয়ে যে আলোচনা হতে যাচ্ছে এই ফলাফল তার ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মিসেস মে-র রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলছেন।

একজন কনজারভেটিভ মন্ত্রী বিবিসির বিশ্লেষক লরা কুয়েন্সবার্গকে বলেছেন ‘এই ফলাফলের পর কীভাবে ক্ষমতায় থাকা তেরেসা মে-র জন্য কঠিন হবে।’

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য কোনো দলকে ৩২৬টি আসনে জিততে হবে। তবে তারা ৩১৮টি আসন পেলে এবং উত্তর আর্য়াল্যান্ডের ডেমোক্রাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির সমর্থন পেলে তারা সরকার গঠনের জন্য রানির অনুমতি পাবে।






সঙ্গতিপূর্ণ আরো খবর

  • যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অনিবার্য: উত্তর কোরিয়া
  • রাখাইনে এখনো জ্বলছে রোহিঙ্গা গ্রাম: অ্যামনেস্টি
  • মিয়ানমার গণতান্ত্রিক দেশ দাবি সু চির
  • ট্রাম্প আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নবাগত দুষ্টু ব্যক্তি : ইরানের প্রেসিডেন্ট
  • পাকিস্তানের নতুন নাম দিলেন মোদি
  • রোহিঙ্গাদের জন্য ১৬৩৯ কোটি টাকা সহায়তা প্রয়োজন : জাতিসংঘ
  • মায়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত: জাতিসংঘ
  • সুচি বালিতে মাথা গুঁজে রেখেছেন: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল