১৪৪ ধারা জারী : অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

পাইকগাছায় নদীকে বদ্ধ দেখিয়ে ইজারা দেয়ায় হাজার হাজার একর জমির ফসল নষ্ট : লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

15-05-17

পাইকগাছা প্রতিনিধি :: নেটপাটা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে পাইকগাছার মিনহাজ নদীকে ৪টি খন্ডে বিভক্ত করে পানি চলাচলের পথ বন্ধ দেখিয়ে ইজারা দেয়া হয়েছে। খুলনা জেলার দু’টি উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের হাজার হাজার একর জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ।

এদিকে নদীর ইজারা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ লেগেই আছে। উদ্ভব হয়েছে অসংখ্য মামলা। সম্প্রতি সৃষ্ট সংঘর্ষের ফলে কমপক্ষে ২০/২৫ জন আহত হয়। এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি করে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

খুলনার জেলার পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার সীমান্তে মিনহাজ নদী অবস্থিত। ২৫১.২৭ একর জলাশয় বদ্ধ দেখিয়ে পাতড়াবুনিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি নামে ১২/২০১৫ সায়রাত জলমহল দেয়া হয়। যথাসময়ে রাজস্ব না দেয়ায় জনৈক এবিএম এনামুলের আবেদনের প্রেক্ষিতে উক্ত ইজারা বাতিল হয়। যা পরে পূর্ব গজালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে ১৪২২ থেকে ১৪২৪ সন পর্যন্ত ইজারা দেয়া হয়। সমিতির সভাপতি আব্দুস সালাম উক্ত জলমহল মামলা মোকদ্দমা পরিচালনার জন্য এবিএম এনামুলের উপর দায়িত্ব প্রদান করেন। এ সুযোগে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে জলমহলের ৭৫% শতাংশ জালিয়াতি করে নিজ নামে লিখে নেয় বলে সমিতির সভাপতি জানান। এছাড়া সমিতি উক্ত জলমহলটি জনৈক সেনা সদস্য আব্দুর রবের নামে সাব-লীজ প্রদান করেন। দু’বছর আগে থেকে সাব-লীজ প্রদান করায় এনামুল ও আব্দুর রব পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে এবং কয়েক দফা সংঘর্ষ হওয়ায় অসংখ্য মামলার সৃষ্টি হয়েছে।

যার আসামী হয়েছেন পাইকগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি), ওসি (তদন্ত) ও এসআই সহ কয়েকজন। এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৮টি মামলা হয়েছে বলে বলে জানাযায়। সম্প্রতি উক্ত নদী নিয়ে কয়েক দফা দখল ও পাল্টা দখল নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। স্থানীয় ও বহিরাগতদের মহড়া দেখা দিলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংঘাত এড়াতে মোতায়েন করা হয় পুলিশ। গত ৮ মে প্রশাসন সংশি¬ষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারী করে। এ ব্যাপারে স্থানীয় খড়িয়া গ্রামের মিজানুর রহমান মিন্টু, চককাওয়ালীর গোলাম মোস্তফার কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, প্রকৃত পক্ষে মিনহাজ নদী একটি বহমান নদী।

পাইকগাছা, কয়রা ও সুন্দরবনে যাতায়াতের জন্য নদীর উপর নির্মিত ব্রীজ সদৃশ গেট নির্মাণ করায় পানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এ সুযোগে সুবিধামহল এ নদীকে মৃত বা বদ্ধ দেখিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে ইজারা নিয়ে নদীকে ৪ খন্ডে নেটপাটা দিয়ে বিভক্ত করে ফেলেছে। ফলে যথাসময়ে পানি সরবরাহ না হওয়া এলাকায় ফসল উৎপাদন হচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। এলাকাবাসী দ্রুত এ নদীকে উন্মুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। পূর্ব গজালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, তিনি কোন পক্ষের সাথেই নেই।

নিয়ম না থাকলেও কিভাবে তিনি নদীকে সাব-লীজ দিলেন সে ব্যাপারে কোন উত্তর না দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফকরুল হাসান বলেন, সংঘর্ষ ও দখল-পাল্টা দখলের বিষয়টি শুনেছি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিতে ইতোমধ্যে ১৪৪ ধারা জারী করা হয়েছে।






সঙ্গতিপূর্ণ আরো খবর

  • বগুড়ায় চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে স্বামী-স্ত্রী খুন
  • পাইকগাছায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ
  • পাইকগাছায় জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযানের উদ্বোধন
  • পাইকগাছায় ইলিশ আহরণ বন্ধে বিভিন্ন নদীতে প্রশাসনের অভিযান
  • যশোরে ২ কেজি সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক আটক
  • ঝিকরগাছায় স্কুল-মাদ্রাসার পাশে নির্মাণ হচ্ছে ইট ভাটা নির্মান বন্ধে এলাকাবাসীর ডিসি ও ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ
  • পাইকগাছায় বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা
  • খুলনা জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদকের পিতার মৃত্যুতে পাইকগাছা পৌর বিএনপি’র শোক