সংঘাত- সংঘর্ষ এড়াতে বলবৎ রয়েছে ১৪৪ ধারা

পাইকগাছায় আলোচিত মিনহাজ নদীর দখল কতৃত্ব নিয়ে দায়ের করা একাধিক মামলার কারণে এলাকা এখন পুরুষ শূন্য

satkhira-news-logo-original-900

পাইকগাছা প্রতিনিধি :: পাইকগাছার আলোচিত মিনহাজ নদী নিয়ে দু’পক্ষের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার এড়াতে এলাকা এখন পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে।

দখল কর্তৃত্য ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আইনজীবী এবিএম এনামুল হক ও সেনা সদস্য আব্দুর রব গংদের মধ্যে পাল্টা-পাল্টি ১০ থেকে ১৫টি মামলার ঘটনা ঘটে। এসব মামলায় অসংখ্য নিরিহ এলাকাবাসীকে আসামী করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে মিনহাজ নদী এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা বলবৎ রয়েছে।

অনুরূপভাবে, অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় এবিএম এনামুল হক জেল হাজতে থাকায় তার পক্ষের লোকজন গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এতে করে এলাকা অনেকটাই পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। তবে প্রতিপক্ষ আব্দুর রব গংদের আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন এনামুল গংদের লোকজন।
সূত্রমতে, উপজেলার গড়ইখালী, লস্কর ও চাঁদখালী ইউনিয়নের আলোচিত মিনহাজ (বদ্ধ জলমহল) নদী লস্কর ও গড়ইখালীর সীমান্তবর্তী মিনহাজ স্লুইচ গেট হতে লক্ষ্মীখোলা পর্যন্ত বি¯তৃত। ২৫১ একর আয়তনের নদীটি ১৪২২ হতে ১৪২৪ সন পর্যন্ত ইজারা নেয় পূর্বগজালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। বিশাল আয়তনের নদীটি নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি দারস্থ হয় স্থানীয় আইনজীবী আমিরপুর গ্রামের মাহমুদ গাজীর ছেলে এবিএম এনামুল হকের। রক্ষনাবেক্ষণ ও শেয়ার চুক্তিনামার মাধ্যমে মিনহাজ নদীতে নিজের কতৃত্ব স্থাপন করেন এবিএম এনামুল। পরবর্তীতে দখল, কতৃত্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সেনা সদস্য জিএম আব্দুর রব এর সাথে চরম বিরোধ সৃষ্টি হয় এনামুল গংদের। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে একাধিক হামলা, মামলা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এলাকার আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন গত ৯ মে মিনহাজ নদী এলাকায় জারি করেন ১৪৪ ধারা।

যা এখনো বলবৎ রয়েছে। বর্তমানে ২৫১ একর আয়তনের নদীটি ৪টি অংশে ভাগ করে ৪টি গ্র“পের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গজালিয়ার ২টি অংশ রয়েছে সমিতির অনুকূলে। মাঝে চৌমহনী বাজার থেকে বগুলারচক স্কুল পর্যন্ত রয়েছে রবের অনুকুলে। মিনহাজ গেট থেকে বগুলারচক স্কুল পর্যন্ত রয়েছে এনামুলের অনুকুলে। মিনহাজ ওয়াপদা থেকে কানাখালী ব্রীজ পর্যন্ত একটি অংশ রয়েছে সঞ্জীব নামে এক ব্যক্তির অনুকুলে। এ ব্যাপারে এবিএম এনামুল হকের স্ত্রী গাজী সুলতানা পারভীন জানান, সেনা সদস্য আব্দুর রব গংরা আমার স্বামী সহ আমাদের লোকজনের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০টি হয়রানি মূলক মামলা করেছে। এসব মামলার কারণে এলাকা এখন পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। অথচ এনামুল গংদের দায়ের করা মামলার আব্দুর রব গং অনুসারী আসামীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। এদিকে প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা বলবৎ রাখার দাবি জানিয়েছেন এলাকার নিরিহ সাধারণ মানুষ।

পাইকগাছায় পল্লী বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং এ সাধারণ মানুষের সীমাহীন দূর্ভোগ
পাইকগাছা প্রতিনিধি ::
পাইকগাছায় পল্লী বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং এর কারণে সীমাহীন দূর্ভোগে পড়েছেন রোজাদাররা সহ সাধারণ মানুষ। প্রায় প্রতিদিনই ইফতারী, তারাবীহ ও সাহ্রীর সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী।

এদিকে পবিত্র রমজান মাসে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পল্লী বিদ্যুতের স্থানীয় জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের অপসারণের দাবিতে আজ শনিবার সকাল ১১ টায় পৌর বাজার চৌরাস্তা মোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচির আহ্বান করেছে পাইকগাছা নাগরিক কমিটি। নাগরিক কমিটির সভাপতি মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর জানান, ইতোপূর্বে রমজান মাসে কোন সময় বিদ্যুতের এতো সমস্যা দেখা যায়নি। বিশেষ করে ইফতারী, তারাবীহ ও সাহরীর সময় কখনো বিদ্যুৎ যেতে দেখেনি। কিন্তু বর্তমান ডিজিএম যোগদান করার পর থেকে পাইকগাছা-কয়রায় প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ কিংবা কারিগরী ত্র“টির কারণে প্রায় সময় দিন-রাত বিদ্যুৎ থাকে না। এ ছাড়া রমজান মাসের শুরু থেকেই রোজাদারদের প্রয়োজনীয় সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে করে ধর্মপ্রাণ রোজাদাররা চরম দূর্ভোগে পড়েছেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও ভয়াবহ লোডশেডিং এর কারণে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া ব্যহত হওয়ার পাশাপাশি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ব্যবসা বাণিজ্য ও এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড। এলাকার সাধারণ মানুষের অভিযোগ বর্তমান ডিজিএম যোগদান করার পর বিদ্যুৎ এর এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার লক্ষ্যে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ রমজান মাসে বিদ্যুৎ নিয়ে তালবাহানা করছে। এ জন্য শনিবার সকালে পৌর সদরে নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে পবিত্র রমজান মাসে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বর্তমান ডিজিএম’এর অপসারণের দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচি আহ্বান করা হয়েছে বলে নাগরিক নেতা মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন।






সঙ্গতিপূর্ণ আরো খবর

  • সিরাজগঞ্জে দুই মাদক বিক্রেতা আটক
  • সিরাজগঞ্জে মসজিদ, মন্দির সংস্কারের চেক ও সেলাই মেশিন বিতরন
  • সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ইভটিজিংয়ের শিকার গৃহবধূর আত্মহননের চেষ্টা
  • ঈদের কেনাকাটায় কলকাতা যাচ্ছে যশোরের সীমান্ত অঞ্চলের মানুষ
  • সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের দুই পাশের গাছ নিধনে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা
  • জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিকলীগ বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র শাখার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল
  • চিকিৎসা শাস্ত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শেরে বাংলা পদক-২০১৭ পাচ্ছেন ডা. মাহি
  • মোল্লারপুরে মসজিদের বাল্ব লাগানোকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১