দেশের মানচিত্র শীতল পাটিতে…!

img_20170515_212911-3333

হাফিজুল ইসলাম লস্করঃ সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার দোয়াখাঁ গ্রামের মাহমুদা খাতুন দেশের মানচিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন শীতল পাটিতে।

অতচ বয়োবৃদ্ধ মাহমুদা খাতুনের নেই কোন প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা। কখনো পাঠশালার পথ মাড়াননি। তবু দেশের মানচিত্র দেখে দেখে দেশের প্রতি অফুরন্ত ভালবাসায় শীতল পাটিতে ফুটিয়ে তুলেছেন বাংলাদেশের মানচিত্র।

শীতল পাটিতে একখন্ড বাংলাদেশ , লিখেছেন বিভিন্ন স্থানের নাম। এসম্পর্কে মাহমুদা খাতুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ‘মুই বকলম(লেখাপড়াহীন) মুক্ষশুক্ষ মানুষ।

মোর বেটিলে (মেয়েকে) কইলাম মানচিত্র ধরে সামনে খাড়ায়ে থাখ; বেটি আমার মানচিত্র ধরে খাড়াইয়া থাকে আর মুই ওউলান (এভাবেই) মানচিত্র আঁখছি।

ওউলান দেখে দেখে শীতল পাটিতে বাংলাদেশের মানচিত্র তৈরি করেছেন মাহমুদা খাতুন। ছোটবেলায় মায়ের কাছ থেকে শীতল পাটি তৈরি করা শিখেছেন। সে সময় তাঁর স্কুলে যাওয়া হতো না।

তাই বাড়ির পাশের মুত্রাগাছের ছাল থেকে বেত বের করে শীতল পাটি তৈরি শুরু করেন। গতানুগতিকের বাইরে নতুন কিছু করার চিন্তা সব সময় তাঁর মনকে নাড়া দিত। তিনি বলেন, ‘পয়লা পয়লা ফুল, পাখি আঁকছি কিন্তু মুই হক্কল সময় দেশের লাগি কিছু করার তাগদা অনুভব করতাম। বিয়ার পর আমার মেয়ে তখন হুরু (ছোট),
আখতা মনে ওইল দেশের মানচিত্র আঁখতাম।

সেই চিন্তার ধারাবাহিকতায় শীতল পাটিতে বাংলাদেশের মানচিত্র তৈরি করেন এই বৃদ্ধা। এটি বেশ সময়সাপেক্ষ ও পরিশ্রমের কাজ। ধৈর্য ধরে রাখতে হয়। দুই মাসের দীর্ঘ পরিশ্রম ও অক্লান্ত প্রচেষ্ঠায় শীতল পাটিতে বাংলাদেশের মানচিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে।

পাটিতে বাংলাদেশের মানচিত্র আঁকতে তাকে সাহায্য করেছেন মেয়ে আছিয়া বেগম। তবে আছিয়া বেগম পাটি তৈরি করতে জানেন না। মানচিত্রে বিভিন্ন জেলা, ভারতের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন প্রদেশের নাম, বঙ্গোপসাগর এবং বার্মার (বর্তমানে মিয়ানমার) নাম রয়েছে।

মাহমুদা খাতুনের এই প্রতিভা শুধু আত্মীয়স্বজনের মাঝেই সীমাবদ্ধ। প্রচারবিমুখ বয়োবৃদ্ধা। দেশপ্রেম আর শখের বশে মানচিত্র সম্বলিত শীতল পাটি বানিয়ে অনেককে দিয়েছেন উপহার। বিক্রির উদ্দেশে এ কাজ করেননি।

দেশের গন্ডি পেড়িয়ে অনেক আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে মাহমুদা খাতুনের এই শিল্পকর্ম ব্রিটেন পর্যন্ত পৌছে গেছে। ফলে সুধুর প্রবাসে ব্রিটেনের অনেক বাঙালির ড্রইং রুমে শোভা পাচ্ছে মাহমুদা খাতুনের বোনা পাটি। শীতল পাটিতে নিখুত হাতে মানচিত্র ফুটিয়ে তৈরি শীতল পাটিটি উৎসর্গ করেছেন তার প্রিয় নাতনি ফৌজিয়া ইসলামকে। এবং সেটি শীতল পাটিতে লিখে স্বরনীয় করে রেখেছেন।






সঙ্গতিপূর্ণ আরো খবর

  • ঘুমন্ত ছেলেকে কোলে নিয়েই অটো চালান সাঈদ!
  • ছেলেদের শোকে ১৯ বছর ধরে খালি পায়ে হাটেন দুঃখিনী এই ”মা”
  • মানুষখেকো হরিণের সন্ধান!
  • স্ত্রীর লাশের সঙ্গে স্বামীর ছয় রাত
  • ফেসবুক লাইভে ১১ মাসের মেয়েকে মেরে আত্মঘাতী বাবা, স্ত্রীয়ের উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন এই একটি কারণে
  • এবার মৃত সন্তানের লাশ কাঁধে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন দরিদ্র দিনমজুর
  • দৃষ্টিহীনদের জন্য হাসপাতাল বানালেন অন্ধ জুঁই