দালাল, দখলবাজ, মাদকসেবী ও লুটেরাদের আতঙ্ক তালার ইউএনও!

তালা ইউএনও’র প্রচেষ্টায় তালার সার্বিক উন্নয়নে গতি ফিরে পেয়েছে

picture-tala

তালা প্রতিনিধি :: সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফরিদ হোসেন এর প্রচেষ্টায় উপজেলাব্যাপী সরকারী রাজস্ব আয় বৃদ্ধিসহ তালার সার্বিক উন্নয়নে গতি ফিরে পেয়েছে।

দুর্নীতি-অনিয়ম, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থানের কারণে তালার আইন শৃংখলা পরিস্থিতি যেমন উন্নয়ন ঘটেছে, তেমনই সরকারী সম্পদ তছরুপকারী, মাদকসেবী, দালাল, বাটপারসহ কুচক্রী মহলের চোখের কাটায় পরিণত হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

প্রায় ১৫ মাস আগে সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় যোগদানের সাথে সাথে তিনি মাদক, জুয়া ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন। অন্যায়ের সাথে আপোষ না করায় ইতিমধ্যে নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেমেছে একটি দালাল চক্র। তারা ইউএনও কে বদলী করতে মরিয়া হয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ভূয়া অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

মো. ফরিদ হোসেন ২০১৬ সালের মে মাসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে তালায় উপজেলায় যোগদান করেন। যোগদানের সময় তিনি সুধি সমাবেশে ঘোষণা দেন-‘অফিস পাড়ায় কোন দালাল থাকবে না। মাদক ও জুয়াড়ী মুক্ত করা, বিনোদনের জন্য তৈরি হবে ইকো পার্ক, ভূমিদস্যুদের হাত থেকে সরকারি সম্পদ উদ্ধারসহ জলাবদ্ধতার কবল থেকে রক্ষাসহ তালাবাসিকে ভিক্ষুক মুক্ত করা হবে।’
কথা রেখেছেন তিনি। মাদক ও জুয়াড়ী নির্মূল এবং দালালমুক্ত করেছেন সেটেলমেন্ট অফিস। বর্তমানে সেটেলমেন্ট অফিসে টাঙানো হয়েছে সাইনবোর্ড। বোর্ডে লেখা আছে, ‘প্রকৃত কাগজ যার, জমি তার।’ এতে মুখ শুকিয়ে যায় ভূমিদস্যূদের। এছাড়া জুয়াড়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পাশাপাশি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন তিনি। ইতিমধ্যে তিনি শতাধিক অপরাধীকে ভ্রাম্যমান আদালতে শাস্তি প্রদান করেছেন। যাদের অধিকাংশ মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবী।

এছাড়া সম্প্রতি তালার গরুর হাটটি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করে রাজস্ব খাতে এনেছেন। তালার উন্নয়নে প্রধান সমস্যা জলবদ্ধতা থেকে রক্ষার জন্য কপোতাক্ষ নদ খনন প্রকল্প সমন্বয় করে টিআরএম এলাকা ও পানি নিস্কাশনের জন্য বিভিন্ন খালের থাকা বাঁধ, নেট-পাটা অপসারণ করেছেন তিনি। কঠোর হস্তে জালিয়াতির আখড়ায় পরিণত হওয়া তালা সেটলমেন্ট অফিস থেকে দালাল উচ্ছেদ করে যেমন সর্ব সাধারণের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তেমন কুচক্রী মহলের আক্রোশের শিকার হয়ে নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডে বাধার সম্মূখীন হচ্ছেন। আয়ের উৎস বন্ধ ও গডফাদারদের কথা না শোনায় ক্ষিপ্ত হয়েছেন তারা। তাকে বদলী করাতে লক্ষ টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন ঐ দালাল চক্র ও তাদের গডফাদাররা। তারা ইউএনও কে বদলী করতে মরিয়া হয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ভূয়া অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগের একাংশে তারা উল্লেখ করেছেন,‘উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্থাবর সম্পতির ১ শতাংশের প্রায় এক কোটি টাকা উপজেলা প্রকৌশলীকে না জানিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।’ অথচ অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, ইউনিয়ন পরিষদের কর্মচারীদের বেতন, ভিক্ষুক মুক্ত তালা গঠন, ইকো পার্ক নির্মাণ, সুপেয় পানির ব্যাবস্থা (রাস পুকুর) সহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের অনুকুলে ব্যাংক হিসাবের চেকের (একাউন্ট পে) মাধ্যমে টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে। যেটি ম্যাসিং ফান্ড হিসাবে ব্যাবহার করা হয়। তবে উপজেলা প্রকৌশলী বাঁধ সাধায় কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়লে সম্পূর্ন টাকা ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়। সেই টাকা দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

নগরঘাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান লিপু জানান, স্থাবর সম্পতির ১ শতাংশের টাকা ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দিয়েছে। সেই টাকায় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহন করে তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ওই টাকায় কোন অনিয়ম হয়নি। এমন বক্তব্য তালা সদর, সরুলিয়া, তেঁতুলিয়াসহ কয়েকজন চেয়ারম্যানের।

তালা উপজেলা প্রকৌশলী কাজী আবু সাইদ মো. জসিম বলেন, বাঁধ সাধার কোন প্রশ্নই উঠে না। কিভাবে কাজ হয়েছে, তা আমার জানা নেই। আমি কোন কাগজ পায়নি।

তালা প্রেসক্লাবের আহবায়ক প্রভাষক প্রণব ঘোষ বাবলু জানান, তালাবাসীর ভাগ্যোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে নির্বাহী অফিসার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি কয়েকটি জনকল্যাণমূলক কাজ করে তালাবাসীর ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

তালা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন জানান, উপ-শহরের গরুর হাট ও মাছ বাজার অবৈধ দখলমুক্ত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তাঁর বিচক্ষনতায় তালার সাধারণ মানুষ বর্তমানে শান্তিতে রয়েছে। তবে দখলবাজরা বিপাকে পড়ে নানা ধরণের অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফরিদ হোসেন জানান, তালা উপজেলায় যোগদানের পর থেকে সেটেলমেন্ট ও ভূমি অফিস থেকে দালালমুক্ত করা হয়েছে। ভিক্ষুকদের পুর্নবাসনের পাশাপাশি গোপালপুর গ্রামে বিনোদনের জন্য ইকোপার্ক নির্মাণ কাজ চলছে। এছাড়া উপজেলা পরিষদের জমি উদ্ধার ও অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।

কিন্তু সেটেলমেন্ট অফিসের ৩২ দালাল, অবৈধ বালি ও মাটি উত্তোলনকারী, মাদক ব্যবসায়ীসহ অনেকে অবৈধ সুবিধা চেয়ে না পেয়ে তাদের গাত্রদাহ শুরু হয়। এছাড়া সম্প্রতি উপজেলা পরিষদের জায়গা দখল করে অবৈধ ঘর নির্মাণের অভিযোগে হারান সাধু নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে দুই মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়। এঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নাম ভাঙ্গিয়ে দুই ব্যবসায়ীর কাছে থেকে চার লক্ষ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে মীর জাকির হোসেন ও তরিকুল ইসলামের নামে মামলা করায় তারা আমাকে (উপজেলা নির্বাহী অফিসার) বদলী করতে মরিয়া হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেয়।

তিনি আরো বলেন, তালা বাজারে এখনও প্রায় ১২ একর সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে ঘর-বাড়ি, দোকান ও অফিস পরিচালনা করে আসছে একটি মহল। তারা উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অবৈধ নিয়োগে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে নাশকতা মামলার আসামীদের উৎসাহিত করে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তাঁর কাছে বিভিন্ন সময়ে অবৈধ সুবিধা চেয়ে না পেয়ে মহলটি এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।






সঙ্গতিপূর্ণ আরো খবর

  • তালা মহিলা কলেজের উদ্যোগে মেধাবী ছাত্রীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান
  • সরকারী আইন অমান্য করে খেশরায় চলছে কোচিং বানিজ্য
  • তালায় শালতা নদী নিয়ে পরিকল্পনা সভা ও স্মারকলিপি প্রদান
  • নিয়োগ দুর্নীতি : সাতক্ষীরার আশাশুনি শিক্ষা কর্মকর্তাকে হাইকোর্টে তলব
  • শালতা অববাহিকার জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ সমস্যা মোকাবেলায় জনগণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংবাদ সম্মেলন
  • মেধাবী শামীমার পাশে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও তালার ইউএনও
  • ‘আলোকিত শাহপুর’ এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত
  • তালায় স্বামী-স্ত্রীর মারামারী ঠেকাতে গিয়ে লাঠির আঘাতে বড় ভাইয়ের মৃত্যু