ইয়েমেন উপকূলে শরণার্থীদের পানিতে ফেলে দিল পাচারকারীরা

15233147_303
Share Button

সাতক্ষীরা নিউজ ডেস্ক :: ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ মাইগ্রেশন আইওএম বলছে, ইয়েমেনের কাছে ৫০ জন শরণার্থীর সলিল সমাধি ঘটেছে। নিখোঁজ আরো একশ’ জন। পাচারকারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের পানিতে ফেলে দিয়েছে। তারা সোমালিয়া এবং ইথিওপিয়ার অধিবাসী।

মাত্র ২৪ ঘণ্টায় দু’টি অমানবিক ঘটনা

বুধবার ইয়েমেন উপকূলে ১২০ জন শরণার্থীকে নৌকা থেকে পানিতে ফেলে দিয়েছিল মানব পাচারকারীরা। তাদের মধ্যে ৫০ জন প্রাণ হারিয়েছে বলে আইওএম-এর ধারণা। এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই আবারো ১৮০ জন শরণার্থীর সঙ্গে ঘটল একই ঘটনা। এই ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, নিখোঁজ ৫০ জন।

আহতদের চিকিৎসা

লোহিত সাগরের তীরে ইয়েমেন সৈকতে আহত ২৫ জনকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাদের বেশিরভাগই সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ার হলেও নিহতদের সবার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা।

১২০ জন এক নৌকায়

বুধবার ইয়েমেন উপকূলে ১২০ জন শরণার্থীকে একটি নৌকায় করে নিয়ে আসছিল পাচারকারীরা। যাদের বেশিরভাই কিশোর কিশোরী। নৌকা ভেড়ানোর আগেই নৌকা থেকে কয়েকজনকে পানিতে ফেলে দেয় তারা। ডুবে যাওয়ার পর ২৯ টি মরদেহ সেখানেই সমাহিত করেছে বেঁচে যাওয়া শরণার্থীরা। জানিয়েছে আরও ২২ জন এখনো নিখোঁজ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা

জাতিসংঘে ইয়েমেন মিশনের প্রধান জানিয়েছেন, যারা বেঁচে গেছে সেইসব শরণার্থী তাদের জানিয়েছে, উপকূলের কাছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মত কাউকে আসতে দেখে পানিতে ধাক্কা দিয়ে তাদের ফেলে দেয় পাচারকারীরা। তারা আরো জানিয়েছে, যেহেতু তাদের ব্যবসাই এটা। তাই আরো শরণার্থীদের আনতে তাদের ফেলে ওই পাচারকারী সোমালিয়া ও ইথিওপিয়া রওনা হয়েছিল। বেঁচে যাওয়া ২৭ জনকে ত্রাণ দিচ্ছে আইওএম। বাকিরা নিজেদের গন্তব্যে রওনা দিয়েছে।

চরম দুর্ভিক্ষ ও জরুরি অবস্থা

সোমালিয়ায় চরম দুর্ভিক্ষ এবং সংঘাতের কারণে অনেক মানুষ দেশ ছাড়ছে। ইথিওপিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কারণের জরুরি অবস্থা চলছে ১০ মাস ধরে। তাই ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না অনেক এলাকায়। আর এ কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে ওই দেশের মানুষ।

ধনী দেশের উদ্দেশে দেশ ছাড়া

আইওএম-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অন্তত ৫৫ হাজার মানুষ সোমালিয়া ও ইথিওপিয়া থেকে ইয়েমেন হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশগুলোর পথে যাত্রা করেছে। যাদের বেশিরভাগই কিশোর-কিশোরী।


ট্রানজিট ইয়েমেন

গত বছর ইয়েমেন উপকূলে পৌঁছেছে ১ লাখ সাড়ে ১১ হাজার মানুষ। ইয়েমেনে চলমান গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত ৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাই উন্নত দেশগুলোতে পাড়ি দিতে এটিকেই ট্রানজিট হিসেবে বেছে নিয়েছে পাচারকারীরা।

সূত্র: আল জাজিরা, ডয়চে ভেলে

Share
1

মন্তব্য






সঙ্গতিপূর্ণ আরো খবর

  • মিশরে জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৩২ পুলিশ নিহত
  • আফগানিস্তানে মসজিদে বোমা হামলায় নিহত ৭২
  • কাবুলে মসজিদে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ৬০
  • আফগানিস্তানে ‘মার্কিন ড্রোন’ হামলায় নিহত ১২
  • কাতার সংকটের জন্য দায়ী সৌদি জোট: যুক্তরাষ্ট্র
  • কুর্দিদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর
  • মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করছে মিয়ানমার: অ্যামনেস্টি
  • যেকোনো মুহূর্তে পরমাণু যুদ্ধ বাধতে পারে : উত্তর কোরিয়া